মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ : কারাগারে ট্রাফিক পুলিশ

মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করায় কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজছাত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় ট্রাফিক পুলিশের এক পরিদর্শককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে মো. মোমিনুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মোমিনুল ইসলাম বর্তমানে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ট্রাফিক পুলিশের টিআই-টু হিসেবে কর্মরত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পাবনার গোপালপুর গ্রামের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর দূর সম্পর্কের চাচা মোমিনুল ইসলাম।

২০১২ সালের ৬ জুন মোমিনুল ওই ছাত্রীকে কুষ্টিয়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল কাম রেস্টুরেন্টে নিয়ে কোকের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে অশ্লীল ছবি তুলেন। পরবর্তীতে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে ওই ছাত্রীর পাবনা বিদ্যুৎ বিভাগের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে বিয়ে হয়। এ খবর জানতে পেরে আসামি মোমিনুল ধারণকৃত এসব অশ্লীল ছবি মোবাইলে ওই ছাত্রীর বাবা-মা, স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন এবং স্বামীর বন্ধু-বান্ধবের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে তার স্বামী ডিভোর্স দেন। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী গত এপ্রিল মাসে কুষ্টিয়া মডেল থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষ আইনের ২০০৬ এর ৫৭/২ ধারায় আসামি মোমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

গত ২৯ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রবিউল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আল-মামুন সাগর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।