রসরাজের ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী কারা?

সিআইডির সাইবার ক্রাইম ল্যাবে পরীক্ষা চলছে নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা *ঘটনা সম্পর্কে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে গোয়েন্দা প্রতিবেদন *হামলাকারী দেড়শ’জন শনাক্ত :আইজিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সেই আলোচিত রসরাজের ফেসবুক একাউন্ট একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করেছেন। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা একজন জেলে কিভাবে এ ধরনের ছবি তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার করেছে—তা গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন বিতর্কিত ছবি পোস্ট করা ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রসরাজের নামে খোলা হলেও সেটি ঢাকা থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেই অ্যাকাউন্ট খুলতে কোন ই-মেইল আইডি ব্যবহার করা হয়েছে-তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় সিআইডি’র সাইবার ক্রাইম ল্যাবে রসরাজের ফেসবুক একাউন্টটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনার পর রসরাজ দাসকে গ্রেফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গতকাল ছিল তার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন। রিমান্ডে দেয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে রসরাজ বলেছেন যে তিনি ফেসবুক ব্যবহার করেন। কিন্তু ফেসবুকে ছবি আপলোড করার বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই বলে তিনি দাবি করেন।’ ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার মোবাইল ফোনটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’ একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, বিতর্কিত ওই ছবি কাতার থেকে আপলোড করার দৃশ্য দেখালেও মূলত সেটি বাংলাদেশ থেকেই করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা প্রমাণ পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে এভাবে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়।

পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক বলেন, নাসিরনগরে মন্দির ভাংচুর ও হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে অন্তত দেড়শ’ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফেসবুকের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া না সঠিক তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

নাসিরনগরে মন্দিরের হামলার ঘটনায় সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘প্রথম হামলার ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা রাখলে এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নাসিরনগরের ইউএনও ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে।’ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাই এ ঘটনা উস্কে দিয়েছে। তারা বিষয়টির সঙ্গে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কোন ইঙ্গিত পাননি। ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা সেখানে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তারা তা যথাযথভাবে পালন করেননি। উপরন্তু স্থানীয় নেতারা হামলাকারীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এসব অপকর্ম চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, হরিপুর ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ ও চাপৈরতলা ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরুজ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, রসরাজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাবের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে—ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি কি আসলেই রসরাজ নিজে ব্যবহার করেছেন নাকি অন্য কেউ সেটি ব্যবহার করেছে তা জানা যাবে।

ইত্তেফাক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।