মায়ের রগ কাটা ছাত্রলীগ ক্যাডারকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

সৎ মাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় আটক ছাত্রলীগের ক্যাডার হারুন অর রশিদকে (৩০)ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রোববার রাত ৯টায় তাকে রাজনৈতিক চাপে ঠাকুরগাঁও থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম কিছুদিন পূর্বে পার্শ্ববর্তী রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৩৫) নামে একজনকে বিয়ে করে। আনোয়ারা তার বৃদ্ধ স্বামীকে তালাক দিয়ে সাদেকুলের সঙ্গে বিয়েতে বসে। এ বিয়ের কথা জানাজানি হলে সাদেকুলের প্রথম স্ত্রী হাসিনা বেগম ও পুত্র হারুন অর রশিদ তাতে আপত্তি জানায়। এ কারণে সাদেকুলকে তার ছেলে হারুন মারধর করে বলে স্থানীয়রা জানান। এ কারণে সাদেকুল তার ২য় স্ত্রীসহ অন্যত্র বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পূর্বের বাড়ি হতে প্রায় ৫শ গজ দূরে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ২য় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠে সাদেকুল। একথা জানতে পেরে সাদেকুলের ১ম স্ত্রী ও সন্তানেরা রোববার (২০ নভেম্বর) সকালে ওই বাড়িতে হানা দেয়। এসময় ছাত্রলীগ ক্যাডার হারুন ধারালো চাপাতি দিয়ে তার সৎ মা আনোয়ারাকে এলোপাথারী কূপিয়ে জখম করে। মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে সাদেকুল হাসপাতালে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ খবর জানাজানি হলে ঘটনার আড়াই ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ১১টায় রুহিয়া থানার ওসি খান মো. শাহারিয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ ছাত্রলীগ ক্যাডার হারুনকে আটক করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা হাজতে রাখে। পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম ও রুহিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু তাকে ছাড়তে রাজনৈতিক তদবির শুরু করে। এমনকি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ান মো. লালনসহ দীর্ঘ বৈঠক করে ছাত্রলীগ ক্যাডার হারুনকে ছাড়াতে তদবির অব্যাহত রাখে। অবশেষে রাত ৯টায় তাকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পূর্ন পারিবারিক। সৎ মা তার সৎ ছেলের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা ছেলের বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। তার পিতা ছেলের ঘটনাটি আপোস মীমাংসা করে নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবুল কালাম আজাদ জানান, সৎ মাকে মারপিটের ঘটনায় আহত মহিলা রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মহিলা কিংবা তার স্বামী মামলা করবে না জানালে এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে পুলিশ হারুনকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
রুহিয়া থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার জানান, আহত আনোয়ারার স্বামী ও ভাইকে বারবার সংবাদ দেওয়ার পরও তাদের আগ্রহ না থাকায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আহত ওই মহিলা মারা গেলে কিংবা পরবর্তীতে মামলার অভিযোগ পেলে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা কেন করা হলো না প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

এদিকে সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় আটক হারুনকে ছেড়ে দেওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে স্থানীয় জনমনে দারুন ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্ন করে বলেছেন, রাজনীতি করলে কি মানুষকে কোপালেও তার বিচার হবে না?

অবশ্য জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সানোয়ার পারভেজ পুলক জানান, রুহিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সকল কমিটি বেশ কিছুদিন আগে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। আটক হারুন ছাত্রলীগ করত কিনা তার জানা নেই।

পরিবর্তন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।