Saturday , October 20 2018
Home / শিক্ষা / প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যালেই অবাধে প্রশ্নফাঁস করে চলেছেন নাহিদ​, ভ​য় নেই মন্ত্রিত্ব হারানোর !

প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যালেই অবাধে প্রশ্নফাঁস করে চলেছেন নাহিদ​, ভ​য় নেই মন্ত্রিত্ব হারানোর !

আর যা-ই হোক না কেন, কিছু অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বর্তমানে খ্যাতিমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের চেয়ে বেশি অপদস্থ অন্য কোনো মন্ত্রী হননি। পড়াশোনার মানের অবনতির দিকে এখন আর কারো নজর নেই, টুকটাক কী হয়েছে, তা জানার আগ্রহ নেই কারো। গত কয়েক বছর ধরে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার পর এত নিয়মিতভাবে কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, তা নিয়ে এখন লোকজন ভাবছে।

বাংলাদেশের শিক্ষার মান কোনোকালেই উঁচু ছিল না। তবে এখনকার মতো এত বাজেও কখনো ছিল না। এখন টাকা দিয়ে সব রকম পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করা যায়, এমনকি অনেকে ক্রেতার সন্ধানে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত দিচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রতি সত্যি সত্যিই তোড়জোড় দেওয়া কর্তৃপক্ষ আক্ষরিক অর্থে কিছুই করতে পারেনি। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকার এতই অসহায় হয়ে পড়েছে যে এখন তা হাসি-তামাসা আর বিদ্রুপের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার ব্যাপারে স্পর্শকাতর সরকার একটুখানি অবাক হওয়া ছাড়া এই কেলেঙ্কারি মনে হচ্ছে গায়েই মাখছে না।

ফাঁস ঠেকাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। যে ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়ে থাকুক না কেন, ফাঁস ঠেকানো যায়নি। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোনে, নেটে, পরীক্ষা হলের আশপাশসহ নানা জায়গায়। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা চেষ্টা করছে, কিন্তু তারপরও ফাঁস চলছে তো চলছেই।

কর্তৃপক্ষের কোনো চেষ্টাই কাজে লাগেনি। ছোট-বড় চক্রকে আটক করা, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বন্ধ করা, এমনকি পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ করার কথা পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়েছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। বেপরোয়া পদক্ষেপ নিয়ে মন্ত্রণালয় ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা পর্যন্ত করা হয়েছে। বেশির ভাগ লোক মনে করছে, কর্মকর্তাদের চেয়ে দুস্কৃতকারীরা অনেক বেশি স্মার্ট। ফলে ফাঁস চলতেই থাকবে। মজার মনে হলেও বিষয়টি আসলে পাগলামি, বাংলাদেশ সরকারই সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেন কিছু করতে পারছে না তা রহস্যময়। তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কারণ, তারা ইলেকট্রনিক নজরদারি দারুণভাবে করতে সক্ষম, ২০১৬ সালের মধ্যভাগ থেকে তারা প্রতিটি জঙ্গি হামলা ও হামলার পরিকল্পনা দারুণভাবে রুখে দিয়েছে। এই কর্ম-সম্পাদনের দক্ষতা অবাক করা। কিন্তু যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে, তারা মনে হয় জঙ্গিদের চেয়ে বেশি স্মার্ট। এই বিষয়টিই জনসাধারণকে আরো বেশি গোলক ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। ফাঁসকারীরা যেভাবে আড়ালে থাকতে পারছে তাতে করে এসব লোক জিহাদিদের সাথে যোগ দিলে কী ধরনের নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি হতে পারে, তা নিয়ে কি সরকারের আরো বেশি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়? কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়, তারা বিষয়টিকে সে দৃষ্টিতে দেখছে না।

ক্ষমতাসীন দল কি নাহিদকে সমর্থন দিয়েই যাবে?

তবে জনসাধারণের হতাশা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। সারা দেশে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে মন্ত্রী বললেন, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। আর যদি হয়, তবে সব পরীক্ষা বাতিল করা হবে। কিন্তু এই ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাওয়া যেতে থাকায় মন্ত্রীর মুখ দেখানোর জায়গা থাকেনি। অবশ্য মন্ত্রী মহোদয় বেশ শক্ত দিলের মানুষ। এত তাড়াতাড়ি ও নগ্নভাবে ভুল প্রমাণিত হলেও তিনি মোটেই ভেঙে পড়েননি।

অবশ্য কেউ কেউ অকর্মণ্যতার সাথে আরো কিছু আছে কিনা তা-ও জিজ্ঞাসা করছেন। এর ফলে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হালে পানি পাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ও আত্মপক্ষ সমর্থনকারীরা বলছে, কেবল টাকার জন্যই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে না, বরং ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতে থাকায় সরকারকে বেকায়দায় ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র জড়িয়ে আছে এতে।

নাহিদের উপরোক্ত মন্তব্যটি ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা উৎসাহভরে সমর্থন করছেন বলে বিডিনিউজ২৪ডটকমের অনলাইন জরিপে দেখা যায়। দলীয় সমর্থকদের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রত্যাঘাত তাতে দেখা যায় না। স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে, এ ঘটনায় সরকার বিন্দুমাত্র বিব্রত নয়। কারণ কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি এবং যা-ই ঘটুক না কেন, অনুগত সমর্থকেরা তাতে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

তার পদত্যাগের দাবি ওঠছে কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর প্রভাব যৎকিঞ্চিত। ক্ষমতাসীন জোট নেতৃবৃন্দ থেকে বিরোধী দল, তবে সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষই তাকে বরখাস্ত করার দাবি জানাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা কেউ এর তেমন পরোয়া করছে বলে কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিধানে সামরিক বাহিনীর সহায়তা কামনা

অনেকে এমন পরামর্শও দিয়েছে, বেসামরিক মন্ত্রণালয় ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বটি সামরিক বাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা হোক। এই আহ্বান যদিও গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হয়নি, তবে করার জন্য কিছু করার প্রতি আকূলতাই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

এদিকে সরকার বলেছে, নির্বাচনের বছরে দাবি আদায়ে চাপ দিয়ে কাজ হবে না। এসব হলো সরকারের চরম আত্মবিশ্বাসের কথা। তবে এতে বোঝা যাচ্ছে, আরো অনেক প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে হবে কিংবা শিক্ষাব্যবস্থার চরম ক্ষতি হওয়ার পরই ভুলের কথা স্বীকার করে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

About banglamail

Check Also

গায়ে ১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও হাসপাতাল ছেড়ে বিক্ষোভে রাশেদ খান !

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন না দিয়ে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কোটা …