Monday , September 24 2018
Home / পাঠক কলাম / বর্তমান বাংলাদেশঃ সম্ভাবনার নাকি ভয়ের ?

বর্তমান বাংলাদেশঃ সম্ভাবনার নাকি ভয়ের ?

অনেক লম্বা কলেবরে লিখতে চাইছিনা কারন পাঠকের মনোযোগ বিচ্যুতি ঘটে তাই ভুমিকা ছাড়াই শুরু করলাম।ছোট আয়তনের বাংলাদেশ নামক দেশটি আমার ভৌগলিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবে বিশ্বের অন্যতম একটি শক্তিধর দেশের পেটের ভিতরেই অবস্থিত।দেশের একজন স্বশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে দেশ নিয়ে চিন্তা করাটাই অতি স্বাভাবিক।পাঠক কিছু বছর পিছন টেনে বলছি ২০০৬, ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার রক্তারক্তি তান্ডব ঘটিয়ে একবিংশ শতাব্দীর নিকৃষ্টতম এক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তথাকথিত বাপের সুত্রে পাওয়া ক্ষমতা অধিকরন করেছিলেন ক্ষমতাশীনরা। সেই তান্ডবে দেশের মানুষকে একটা ভয়ের ম্যাসেজ দিয়েই তারা বসেছিলেন মসনদে।

আমরা এদেশের মানুষ খুবই ভুলোমনের তাই বছর দুই ঘুরতে না ঘুরতেই সেই হত্যাযজ্ঞ ভুলে গিয়ে ১০ টাকায় চাল খাওয়ার লোভে তাদেরকে বিশাল জয়ের মাধ্যমে নিজেদের জাতীয় ভাগ্যলেখক হিসেবে বসিয়ে দিলাম ভাগ্য লিখতে। তারপর শুরু হল ভাগ্য লেখার কাজ একের পর এক। শুরু থেকে বলতে গেলে লেখাটা পুরা একটা বই আকৃতি ধারন করবে তাই শুধুমাত্র সমসাময়িক বিষয়ের দিকে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।চলছে ছাত্র আন্দোলন। লক্ষ নিরাপদ সড়ক আর কোঠা।সফলতা ব্যার্থতার হিসাব কষার সুময় এখনো হয়নি তাই সে ব্যাপারে লিখলাম না।গত কয়েকদিনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলন কারী দেশের সুর্যসন্তানেরা বড় ভুল সময়ে, ভুল জাতিতে আর ভুল সরকারের আজ নিজেদের ভাগ্য বিপন্নের পথে হাটছে। কারন তাদের শুরুটা করেছিল যেমন রক্তের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে ভয় দ্বারা প্রভাবিত করে ক্ষমতা টেকানোর ফর্মুলা দিয়ে ঠিক সেই মহৌষধই প্রয়োগ হচ্ছে জাতির ভবিষ্যত ছাত্রদের উপরে।

আন্দোলন যখন চরমে ঠিক তার মধ্যে তাদের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় আর মহানগরী কমিটি ঘোশনা দিয়ে অন টেস্টে নামিয়ে দিয়ে একটি যৌক্তিক দাবী নিয়ে শুরু করা আন্দোলন রুখে দিতে। তারাও কাছা মেরে নেমে গেল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে। ফলাফল কিছু লাশ, কিছু গন ধর্ষিতা বোন এবং সর্বশেষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রের জেল আর রিমান্ড।যখন ওরা শুরু করেছিল জাতি এক নতুন সুর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল কিন্তু তার মাঝেই ভয়ের কালো ভুত চেপে বসল জাতির কোমলমতি ভাই বোন দের ঘাড়ে অর্থাৎ পুরো জাতি ঘাড়ে।এই মুহুর্তে এই ভুত ছাড়ানোর আসলে কি কেউ আছে দেশে?যদি উত্তরটা আমি দেই তবে বলব তেমন কোন শক্তি নেই এদেশে।কেন নেই? কারন দেশের ক্রান্তিলগ্নে কোন জাতির সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদেরকে বহু আগেই নখ দন্তহীন চিড়িয়াখানার জন্তু বানানো হয়ে গেছে। এরপর থাকে বিরোধীদল।

তারাতো নিজেদের উপরে চড়ে থাকা ভুতের আছড় ছাড়াতেই নাকের পানি চোখের পানি এক করে ফেলছে বহুদিন ধরে। তারা আজ ব্রিফিং দলে পরিনত হয়ে ঘরের মধ্যেই ক্ষুধার্ত ইদুরের মত বুকডাউন মারছে অনবরত। তাহলে সমাধান কি হবে না? একটা সমাধান আছে তা হল দেশের সকল মানুষগুলো ঘরে না ফেরার শপথ নিয়ে দুর্বার গতিতে রাজপথে নেমে আসতে হবে আর অনবরত আন্দোলন করে যেতে হবে তাতে ফিরে তাকানো যাবে কয়জন মরল, কয়জন গুম হল আর কয়জন আহত হল।আন্দোলন চলছে তো চলবেই। তাহলেই সম্ভবত ভয়ের রামরাজত্বের অবসান ঘটিয়ে তৈরি হবে নতুন এক সম্ভাবনার বাংলাদেশ। প্রিয় বাংলাদেশ।
লেখকঃ দেশের একজন নাগরিক।

About banglamail

Check Also

জামায়াত নেতৃবৃন্দের হত্যার ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে এসকে সিনহার স্বীকারোক্তি !

গলা ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশিত …