Monday , September 24 2018
Home / জেলা সংবাদ / কুমিল্লা দেবিদ্বারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি-মাদক পাঁচারের অভিযোগ

কুমিল্লা দেবিদ্বারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি-মাদক পাঁচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবিদ্বার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের (মিরপুর-মাধবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি) বিরুদ্ধে মহাসড়কে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন ট্রাক-সিএনজি চালিত অটোরিক্সার মালিক-চালকরা। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাঁচারের অভিযোগ আছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিংবা কাগজপত্র দেখার নামে তারা নিয়মিত চাঁদা নিলেও করার কিছুই নেই। পরিবহনের চালক-হেলপারদের বেধরক মারপিট করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চল দিয়ে তাদের সহযোগিতার মাদক পাঁচারেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যানবাহনে মাদক ও চোরাচালান হলেও আটকে নেই উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য।

গত সপ্তাহে এস আই হাবিব ৫কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করার পর মামলা নেয় এবং আসামিকে হাজতে রাখে, হাজত থেকে আসামি পালিয়ে গেলে কালো জসিম নামে একজনকে জামিনে আনার চুক্তিও জসিমের পরিবারকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে ওই আসামির পরিবর্তে চালান দেওয়া হয়। এর আগে ওই ফাঁড়ি এলাকায় একটি পিকাপ থেকে ১২০ কেজি গাজা আটক করে বিক্রি করে দেয়। ওই ফাঁড়িতে আটককৃত যত মাদক আছে তা কসবাও মুরাদনগর এলাকায় বিক্রি করে দেয় বলে জানা যায়। ফলে রাষ্ট্রের হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক অবক্ষয় ।

মাধবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ৪৪৭টি সিএনজি থেকে প্রতিমাসে ২ হাজার ৫শত টাকা করে চাঁদা দেয়। চেছিজ নম্বর দিয়ে বিশেষ নম্বর আছে ওই টুকেনে যা দেখালেই মহাসড়কে সিএনজি গুলো চলতে পারে। আর যাদের ওই বিশেষ নম্বরের টুকেন নাই তাদেরকে ধরলেই দিতে হয় ৫হাজার টাকা না হয় মামলা। ফাঁড়ির এস আই দেলোয়ার দেবিদ্বারের সিএনজি থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে এমন অভিযোগ করলে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.মাহবুবুর রহমান বলেন আমি আমার মাকে দিয়ে হাসপাতালে আছি এসে ব্যবস্থা নেব।
পুলিশ এর থাকার জায়গা (ব্রাক) নির্মানের অজুহাতে টিন ,ইট,সিমেন্ট রেখে অবৈধযান ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.মাহবুব‘র বিরুদ্ধে।

সিলেটসহ অনেক জেলার সাথে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংযুক্ত হওয়ার কারণে মিরপুর-মাধবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশেরা অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা রোধ এবং মাদক চোরাচালান আটক এই হাইওয়ে পুলিশের প্রধান কাজ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী এবং মালবাহী যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে।

মিরপুর-মাধবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে দিনে-রাতে সমানতালে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পর্যন্ত পান না যাহবাহনের মালিক চালকরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে দিনে সি এন জি আর সন্ধ্যার পর মালবাহী ট্রাক থেকে টহলের নামে তাদের চাঁদাবাজি ভয়াবহ আকার রুপ নেয়।

দূরের মালবাহী ট্রাক এবং ছোটছোট পিকআপের চালকদের টাকা না দিলে মুক্তি নেই। মহাসড়কের তিনচাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও ফাঁড়ির পুলিশ নিয়মিত টাকা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে। এমনকি সিএনজি চালিত অটোরিক্সাগুলো গ্যাস ভরার জন্যে পাম্পে যাবার সময় মহাসড়কে উঠলে তাদের নিকট থেকে নেয়া হচ্ছে টাকা।

ভুক্তভোগীরা জানান পানুয়ারপুল গ্যাস এলাকা থেকে সিএনসি চালকদের উঠিয়ে নিয়ে সি এম বি এলাকায় চাঁদাবাজি করে থাকেন। এদিকে কাগজপত্র বিহীন অটোসহ যানগুলো ধরে ফাঁড়িতে এনে মামলা না দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেয়া রুটিনে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিক,নেতারা সুপারিশ করলেই মামলা আর অকথ্য ভাষায় গালি।

জহুরুল হক নামের এক অটোরিক্সা চালক বলেন আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় হাইওয়ে পুলিশ মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা নিয়েছে। করিম মিয়া নামের আরেক চালক বলেন আমার গাড়ি ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গেলে ছাড়িয়ে আনতে আমার ৫ হাজার টাকা লাগে। রানা,উজ্জ্বল ও বাবু মিয়ার অটো আটক করলে তারা একইভাবেই মোটা টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন। চালক মামুন, মনছুর, লাভলু জানান গ্যাস নেয়ার জন্য মহাসড়কে উঠলে হাইওয়ে পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ অসংখ্য চালকের। এদিকে আশেপাশের ছাড়া দূরের কোন যানবাহন পেলেই তাদের কাছ থেকে প্রচন্ড ভয়ভীতি দেখিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের চাঁদা।

মহাসড়কে তিনচাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও টোকেনের মাধ্যমে নেয়া চাঁদা নিয়ে দেয়া হচ্ছে চলাচলের অবৈধ অনুমতি। জানা যায় এই অটোগুলো মহাসড়ক ব্যবহার করতে প্রতিমাসে চাঁদা দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন বিভিন্ন মাসে তারা, বিভিন্ন মার্কা টোকেনের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের নামে এই চাঁদা আদায় করা হয়।

এছাড়াও যানবাহনের চালক-হেলাপারদের সাথে চরম খারাপ আচরণ এবং মারপিট করা এই হাইওয়ে পুলিশের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখানকার এস আই দেলোয়ার কিছুদিন পূর্বে এক চালককে বেধরক পিটুনি দেন। এতে চালক গুরুত্বর আহত হলে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বিভিন্ন প্রকার মাদকসহ অবৈধ চোরাচালান এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তই হয়ে থাকে। মাদক ও চোরাচালান রোধ কিংবা ধরপাকড়ে উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য নেই এই হাইওয়ে পুলিশের। এই মহাসড়ক দিয়ে অবৈধভাবে জিরাসহ ভারতিয় মালামাল আমদানী করে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায়। ফাঁড়ির মাদক পারাপারে হাইওয়ে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি সকলেরই জানা।

একদিকে যেমন সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ যানবাহনের চালক-হেলপাররা এই হয়রানি ও মারধর থেকে মুক্তি চান। তেমনি মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আরো কার্যকর ভূমিকা নিয়ে যুব সমাজকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

তবে এ সব কিছুই অস্বীকার করেছেন মিরপুর-মাধবপুর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.মাহবুবুর রহমান।

About banglamail

Check Also

বগুড়ায় জামায়াতের মহিলা কর্মীদের বোরকা খুলতে বাধ্য করায় নিন্দার ঝড়!

বগুড়ায় কুরআন শিক্ষার আসর থেকে গ্রেফতার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর ৬ কর্মীকে কারাগারে নেয়ার সময় বোরকা …