Monday , September 24 2018
Home / মুক্তমত / জামায়াতের গড়ে ১০% এর কাছাকাছি ভোট নির্বাচনের ফলাফলের ব​ড় প্রভাবক হবে !

জামায়াতের গড়ে ১০% এর কাছাকাছি ভোট নির্বাচনের ফলাফলের ব​ড় প্রভাবক হবে !

কারো এ, বি, সি প্ল্যান বুঝিনা, কিছু সরল কথা বুঝি।

১। হাসিনার জন্য যে/যারা যে মূহূর্তে হুমকি হবে, তার/তাদের প্রতি হাসিনার আচরণ বদলে যাবে তৎক্ষণাৎ। কারো প্রতি হাসিনার আচরণ দেখেই সহজে বুঝতে পারবেন, কে তার প্রকৃত শত্রু। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো, কোটাসংস্কার, নিরাপদ সড়ক চাই ইত্যাদি অরাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে হাসিনার আচরণ থেকেই বোঝা যায়, হিসাবের বাইরে হাসিনা কোন কিছুকেই দাঁড়াতে দিবে না। এজন্য সে কোন কিছুরই ধার ধারেনা। সে ভারতের বাইরে কোন এম্বাসিকেও তেমন পুছে না।

২। জামায়াতকে কেউ সাথে নিতে চায় না, তারপরেও সরকারের, ভারতের বন্দুকের নল জামায়াতের দিকেই তাক করা। কারণ বিগত ৪টা নির্বাচনে দেখা গেছে, সারাদেশে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কাছাকাছি ৩৫% করে ভোটব্যাংক আছে। জামায়াতের সারাদেশে গড়ে ১০% এর কাছাকাছি ভোট আছে। তাই বড় দলগুলোর কেউ জামায়াতের সাথে কেউ জোট করলে, নির্বাচনের ফলাফল একপেশে হয়ে যাবে। গত ৪টির মধ্যে ৩টি নির্বাচনেই সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠ হলে বিএনপি-জামায়াত অনায়াসে জিতে যাবে, এটা সবাই বুঝে। এটাই মাথাব্যাথার মূল কারণ।

৩। কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা এই সব মুলো ঝুলিয়ে বিএনপিকে জামায়াত ও খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে আনার কৌশল মাত্র। যাতে খেলাটা ভারতের এ টিম বনাম বি টিমের মধ্যে হয়। ভারত এর মধ্য থেকে একজনকে আরো পরে অবস্থা অনুযায়ী বাছাই করবে। ভারত কোন কারনে বি টিম আনলেও, সেক্ষেত্রে বিএনপির ভোটব্যাংক আসবে কিন্তু আদর্শ কিংবা মাথা আসবে না। ফলে সেটা ভারতের জন্য সেটা মাথাব্যাথার কারণ হবে না। এতে তাদের আরো একটা সুবিধা আছে, ভারতের চির বিরোধীতাকারী জাতীয়তাবাদী শক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে বড় অংশ ভারতের টিমে ঢুকে যাবে। ফলে ভারতবিরোধী বড় কোন শক্তির অস্তিত্ব এদেশে থাকবে না।

৪। ধারণা করছি, হাসিনা রেজিমের অবসানে মানুষের আকাংখা থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে আগ্রহ বাড়বে। খালেদাকে জেলে রেখেই বিএনপির একাংশ ২০০ এর কাছাকাছি আসনে বিকল্প নেতৃত্বকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের সাথে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠ হবে, ফলে দেশে বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জামায়াতকে কৌশলে সংসদে আনা হবে না, যেহেতু শুধুমাত্র জামায়াতের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করা হবে, তাই এটা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করবে না। ভারত নির্বাচনে এ টিম বা বি টিম একটা পছন্দ করবে। এ টিম পছন্দ করার সম্ভবনা ৮০% মনেকরি।

৫। বি টিমের ২০% সম্ভবনার কারণ হচ্ছে, হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা, নির্ভরহীনতা ও দুরত্ব। হাসিনার সাথে সাথে তরুণ প্রজন্মের আঙুল ভারতের দিকে উঠে যাচ্ছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বেশিরভাগক্ষেত্রেই সেদেশের জনগণকে ভারতবিমুখী করেছে। বাংলাদেশে ভারত বিমুখীতার হার ওই দেশগুলোর চেয়ে অনেক গুণে বেশি। বাংলাদেশের জনগণ আরো ভারতবিমুখী হোক, এটা ভারত চাইবে না। কারণ, তাতে হিসাবের বাইরে গণঅভ্যুত্থান, বিদ্রোহ ইত্যাদি গড়ে উঠতে পারে। ১৯৭৫ এ হিসাবের বাইরে ভারতের জন্য নিয়ন্ত্রণহীন ২১ বছর কেটেছে।

৬। ভারত যেকোন মূল্যে জামায়াতকে আন্দোলন ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চাইবে। অলরেডি যেসব অঞ্চলে জামায়াতের প্রভাব আছে, বেছে বেছে প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতাদের সবাইকে গ্রেফতারের প্ল্যান বাস্তবায়নের শুরু হয়েছে। ডিজিএফআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জামায়াতকে একটা আসনেও নির্বাচিত হতে দেওয়া হবে না। এজন্য যেখানে জামায়াতের ২৫% এর কাছাকাছি নির্দিষ্ট ভোট আছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে বাছাই করে কাজ শুরু করেছে তারা। তাদের পরিকল্পনার সিংহভাগ সফল হলে, জামায়াতের ব্যর্থতায় হতাশ ইসলামপন্থী মানুষেরা ভিন্ন অপশনের দিকে ঝুঁকবে। সমর্থনগুলো আহলে হাদীস, চরমোনাই, অন্যান্য ইসলামিক দল, জাতীয় ঐক্য, অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মসহ নানাদিকে যাবে।

কিছু অনুসিদ্ধান্তঃ
ক) সব রসূনের এক মাথা
খ) বিএনপির সামনে দুইটা অপশনঃ মুক্তি বনাম বন্দিত্ব, আন্দোলন বনাম সমঝোতা। বিএনপির সিদ্ধান্তের উপর দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ভর করছে।
গ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ভারতের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আধিপত্যবাদের বিপরীতে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম হিসেবে টিকে থাকার আদর্শিক স্প্রিট একমাত্র (উল্লেখযোগ্য) ছাত্রশিবির সরবরাহ করে।
ঘ) রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নেই।

তাদের ষড়যন্ত্র করছে, আল্লাহ তায়ালা উত্তম কৌশলী। বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

Masud Parvej

About banglamail

Check Also

দুই শতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে জাতিসঙ্ঘে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বরেকর্ড – ডক্টর তুহিন মালিক

এক : জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন নিউ ইয়র্কে। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে যোগ …