Tuesday , October 23 2018
Home / আইন ও বিচার / প্রধানমন্ত্রী রেগে গিয়ে বললেন, “চুপচাপ আমাদের কথামতো কাজ করুন” – সিনহা

প্রধানমন্ত্রী রেগে গিয়ে বললেন, “চুপচাপ আমাদের কথামতো কাজ করুন” – সিনহা

১। “সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশ হওয়া ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইটি নিয়ে তোলপাড় সর্বত্র। এই বইতে তার পদত্যাগ থেকে দেশত্যাগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যা যা ঘটেছিল তার সবই তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১লা জুলাই বঙ্গভবনে এসকে সিনহাকে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কি বলেছিলেন সেই কথাও পুরোটা তুলে ধরেছেন।

এসকে সিনহা লেখেন, “জুলাই মাসের ১ তারিখ, ২০১৭। সকালবেলা আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে একটা কল আসলো। নিজেকে তিনি প্রেসিডেন্টের মিলিটারি সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে জানালেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে হবে। এই ধরণের ফোন পেয়ে আমি কিছুটা অবাক হলাম। কারণ এসব ক্ষেত্রে সবসময় আমার রেজিস্টারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে যে কোন বৈঠকের দিন-ক্ষণ ঠিক করা হয়।

ফোনে কথা শেষ করার একটু পরেই ০১৭৩০০৯০০৯৫ নাম্বার থেকে মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন মিটিং এর রিকনফার্মেশন করে একটি এসএমএস পাঠালেন। আমি উদ্বিগ্ন এবং হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকলাম।

যা-ই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই আমি বঙ্গভবনে পৌছালাম। সামনের বারান্দায় মিলিটারি সেক্রেটারি আমাকে রিসিভ করে একটি রুমে নিয়ে গেলেন। আমি শুধু অবাক হচ্ছি। কারণ বঙ্গভবনে আমি অনেকবার এসেছি, সবসময় আমাকে অভ্যর্থনার জন্য নির্দিষ্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হতো।

কিন্তু তিনি এদিন আমাকে অফিসারদের একটা রুমে নিয়ে গেলেন। ভাঙাচুরামার্কা এক রুমে তিনি নিজে টেবিলের ওপাশে একটা চেয়ারে বসলেন এবং আমাকে সামনের সোফাতে বসালেন। আমি অপমানবোধ করতে লাগলাম এবং চিন্তা করতে থাকলাম এভাবে বসার চেয়ে বরং ভেগে যাওয়াই ভালো হবে। এইটা একজন প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য আচরণ না।

এইসময় তিনি আমার সাথে এই সেই কথাবার্তা বলে সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমি চা বা কফি খাবো কি না, আমি বললাম নো থ্যাংকস।

এভাবে পয়তাল্লিশ মিনিট সময় পার হয়ে গেলো। তারপর এক সময় তারা আমাকে প্রেসিডেন্টের রুমে নিয়ে গেলো। ওখানে উপস্থিত মানুষদের দেখে তো আমি হতবাক। প্রেসিডেন্টের সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা আর আনিসুল হক মিলে আমাকে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় প্রসঙ্গে চেপে ধরলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্কবিতর্ক হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে বললেন, এ পর্যন্ত অসংখ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি রায় দিয়ে বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমি যে খেদমত করেছি তার জন্য সরকার আমাকে চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু এখন এই একটা রায় প্রসঙ্গে দ্বিমত করে আমি সব বরবাদ করে দিচ্ছি। এই কথা শুনে আমার খুব অপমানবোধ হলো।

যখন তারা বুঝতে পারলেন যে আমাকে আমার মতামত থেকে নড়ানো সম্ভব না, তখন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেগে গেলেন। তিনি বললেন, আমার সম্পর্কে সব গোপন খবরাখবর তার ভালো করেই জানা আছে, চুপচাপ আমাদের কথামতো কাজ করুন ।”

About banglamail

Check Also

সিনহা যে কথাগুলো বলেছেন​, সেগুলো বলার অপরাধেই আমাকে জেলে যেতে হ​য়েছে – মাহমুদুর রহমান

আমার ফাঁসি চাই নামের একটা বই বাংলাদেশে এক সময় তুমুল উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিল। লেখকের নাম …