Saturday , October 20 2018
Home / আন্তর্জাতিক / এবার আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থার জরিপে বিশ্বের সেরা স্বৈরশাসক হলেন শেখ হাসিনা !

এবার আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থার জরিপে বিশ্বের সেরা স্বৈরশাসক হলেন শেখ হাসিনা !

এক বছর আগে নিউ ইয়র্ক, আমেরিকায় অবস্থিত মানবাধিকার সংস্থা WRTP(WE ARE THE PEOPLE) গত একশত বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাঁচজন সরকার প্রধানের নাম ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।নিকৃষ্ট এই পাঁচজন সরকার প্রধান নির্বাচনের লক্ষ্যে গত জুন ২০১৭ সালে HARVARD UNIVERSITY’র চার বারের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রফেসর DOCTOR JILLANI WARSI (ডক্টর জিলানী ওয়ার্সীকে) চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরী করা হয়।এই প্যানেল এ অন্য দুইজন সদস্য ছিলেন ডেভিড কর্নগোল্ড (MR. DAVID KORNGOLD, ESQ) ATTORNEY AT LAW এবং জন পি ডিমাইও(JOHN PETER DEMAIO, ESQ)।

গত এক বছরে উপরোক্ত প্যানেল প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিজীবন, শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে তাদের সামাজিক অবস্থান, তাদের ক্ষমতা গ্রহণের পদ্ধতি, সরকার পরিচালনায় তাদের ধরণ/কৌশল, তাদের শাসনামলে সরকার কর্তৃক এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত অপরাধ এবং অপরাধের জরীপ, তাদের শাসনামলে ঐসব দেশের বিচার ব্যবস্থা, ক্ষমতায় থাকাকালীন তাদের সদাশয়তা এবং নিশৃংশতা বিশেষ করা দেশের বিরোধী দল এবং ব্যক্তিদের বিশেষ করে যারা সরকারের বিরোধী, দেশের উন্নয়ন এবং উন্নয়নের নাম দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পরিস্থিতির অবনতি, ব্যক্তিজীবনে স্বৈরশাসক এবং তার পরিবারের আয় ইত্যাদি গবেষণার মাধ্যমে ২৫ জন স্বৈরশাসককে নির্বাচন করেন।পরবর্তীতে তারা ঐসব দেশের শিক্ষাবীদ, সাংবাদিক, ঐতিহাসিকদের সহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের সাথে কথা বলেন।সর্বশেষে তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা, তর্ক/বিতর্ক তথ্যের আদান প্রদানের পর পাঁচজন স্বৈরশাসককে নির্বাচন করেন ।

গত ৩০ মে ২০১৮ তারিখে WRTP আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্যানেল এর চেয়ারম্যান ডক্টর জিলানী ওয়ার্সী গত একশত বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাঁচজন সরকার প্রধানের নাম ঘোষণা করেন ।

পাঁচজন নিকৃষ্ট সরকার প্রধানরা হলেন:

১. শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina:2009-PRESENT) BANGLADESH
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম ডিক্টেটর শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা; যদিও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবই ছিলেন বাংলাদেশীদের নেতা।পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং তার শাসনামলে হাজার হাজার মানুষ খাদ্যের অভাবে না খেয়ে মৃত্যুবরণ করে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে পুনরায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়; বিশেষ করে যারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ নেতাদের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনীর ডজনখানেক জুনিয়র অফিসিয়ারদের হাতে শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়।

২০০৯ সালে দেশের প্রথম ডিক্টেটর শেখ মুজিবেরই মেয়ে শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং দেশের সেনাবাহিনীর সহায়তায় এক প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ঐ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স চুরি, অস্ত্রের মুখে ভোটারদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের গুম এবং খুনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শেখ হাসিনা তার বাবা’র পথ অনুসরণ করে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে বিরোধী দলীয় নেতা কর্মী এবং অনুসারীদেরকে অপহরণ, আইন বহির্ভুত হত্যা এবং দিনে দুপুরে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া শুরু করেন। এসব অত্যাচার এবং হত্যাযজ্ঞ থেকে সরকারের সামান্যতম সমালোচনাকারিদেরকেও রেহাই দেয়া হয়নি। নিরংকুশ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নির্দেশে হাজার হাজার মানুষকে পশু পাখির ন্যায় হত্যা করে তাদের লাশ রাস্তাঘাট, নদীনালা বা পুকুরে ফেলে দেয়া হয়; আবার কখনও কখনও তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়; অগণিত মানুষদের অপহরণ করে পার্শবর্তী দেশ ভারত অথবা মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেয়া। শেখ হাসিনা তার বাবা বাংলাদেশের প্রথম ডিক্টেটর শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন বিধায় তারই প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে বিডিআর পিলখানায় হত্যাকান্ড ঘটিয়ে শ’খানেক সেনা অফিসিয়ারদের নিশৃংস ভাবে হত্যা করা হয়।বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে শাস্তি দেয়ার জন্য ভারতীয় কমান্ডোদের সাহায্যে ঐ হত্যাকান্ড ঘটানোর পর শেখ হাসিনা তাদেরকে নিরাপত্তার মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করার ব্যবস্থা করেন এবং এজন্যই তিনি দেশের সেনাবাহিনীকে পিলখানায় ঢোকার আদেশ দেননি। তার বাবার হত্যাকাণ্ডের পর জনগণ রাস্তায় শান্তি মিছিল করেছিল বিধায় শেখ হাসিনা দেশের জনগণকেও ক্ষমা করেননি।

শেখ হাসিনার নির্দেশেই তার দলের স্বশস্ত্র ক্যাডাররা দেশের দুইজন প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখ্যে পদত্যাগ এবং দেশত্যগে বাধ্য করেন; ফলশ্রুতিতে দেশের বিচারব্যবস্থা আজ আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের হাতে জিম্মি।আবার তার ছেলে সজীব আহমেদ জয়ের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ব্যাংকে কম্পিউটার হ্যাকিং নাটক তৈরী করে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার চুরি করা হয়; এবং প্রায় সকল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন লুটপাট করে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেউলিয়া ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া হয়।একথা নির্বিঘ্নেই বলা যায় যে শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বেই বাংলাদেশে প্রথম মাফিয়া শাসন শুরু হয়। মাফিয়া শাসনের অধীনে আইনভঙ্গকারীকেই পুরস্কৃত করা হয়। ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের যেই নেতা বিরোধী দলের নেতা এবং কর্মীদেরকে বেশী বেশী করে হত্যা করতে পারে তাকে দেশের রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে মাফ করিয়ে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসা এবং আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে ভারতের সাথে শতশত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর এবং লজ্জাস্কর। সম্ভবত, শেখ হাসিনাই হবেন পৃথিবীর দ্বিতীয় সরকার প্রধান যিনি নিজ স্বার্থ্যে প্রথমে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে দেশটিকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন।ঠিক একইভাবে সিক্কিমের কাজী লেন্দুপ দর্জী এই কাজটিই করেছিলেন।

নির্বাচক প্যানেলের নোট: শেখ হাসিনার সার্বিক কর্মকান্ড বিবেচনা করলে বাংলাদেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধ বা দেশপ্রেমের পরিবর্তে প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধই পরিলক্ষিত হয়। তাকে কোনো অবস্থাতেই হিটলার, অং সান সু ক্যি, মুয়াম্মার গাদ্দাফী বা সাদ্দাম হোসেন অথবা তাদের সমসাময়ীক কারো সাথে তুলনা করা যায় না। এসব স্বৈরশাসকরা ব্যক্তিজীবনে যথেষ্ট শিক্ষিত, মার্জিত, দূরদর্শীসম্পন্ন এবং জাতীয়তাবাদী ছিলেন।তারা ব্যক্তিগতভাবে নিঃসন্দেহে লোভী ছিলেন কিন্তু নিজ দেশের স্বার্থকে তারা কখনোই উপেক্ষা করেনি।

ইন্ডিয়ার পত্রিকায় প্রকাশিত (৬ নং পৃষ্ঠায়): https://www.theindianpanorama.news/…/…/06/TIP-June-8-NYC.pdf

About banglamail

Check Also

তু‌মি সরকা‌রের ২ টাকার চাকর , আমা‌কে চেনো তু‌মি ? আওয়ামি এম্পির মেয়ে (ভিডিওসহ​)

এই ভদ্র ম‌হিলা স্কলা‌স্টিকা স্কু‌লের সাম‌নে তার প্রাই‌ভেট কার ( ঢাকা মে‌ট্রো~গ~২৬~৯৩৪৭) ডাবল লে‌নে পা‌কিং …