Saturday , October 20 2018
Home / অন্যান্য / একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ভাষা ও অঙ্গভঙ্গী এত অশ্লীল !? (ভিডিওসহ​)

একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ভাষা ও অঙ্গভঙ্গী এত অশ্লীল !? (ভিডিওসহ​)

আবারো খালেদা জিয়ার মেক​আপ নিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করলেন শেখ হাসিনা। প্রকৃত জ্ঞানী বেহুদা কথা বলে না। তাদের প্রতিটি কথাই মানব কল্যাণে নিবেদিত হয়। নিজেকে সংযত রাখার সুফল হিসেবে বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ সাদী আরো বলেন- তুমি পাহাড়ের ন্যায় তোমার পা অনড় অটল রাখতে পারো, তবে তোমার সম্মান ঊর্ধ্বে যাবে। তোমার জিহ্বা বন্ধ করে নাও, কিয়ামতের দিন বাকশূন্যের হিসাব থাকবে না। কথার মূল্য যারা জানে, তারা ঝিনুকের ন্যায় মুক্তা ব্যতীত মুখ খুলে না।

ঝিনুকের মুখ দিয়ে যেমন মুক্তা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না, সে রকম জ্ঞানীর মুখ দিয়ে মূল্যবান কথা ছাড়া আর কিছুই বের হয় না। শেখ সাদী আরো বলেন, ভালো এবং মন্দ চিন্তাকারী উপস্থিত উত্তরাধিকারীর চেয়ে উত্তম। মানুষের আত্মার কথা বলার শক্তি পরিপূর্ণ থাকে। তুমি কথা বলে নিজের সম্মান কমিয়ে দিওনা। কম কথা বলো, দেখবে- তুমি কখনও লজ্জিত হবে না। দশ ব্যক্তির সমান কথার চেয়ে বুদ্ধিমানের ন্যায়, বুঝে শুনে একটি কথা বলো। একশ’ বেহুদা কথার চেয়ে একটি মূল্যবান কথা অতি উত্তম। তুমি যদি একশত তীর নিক্ষেপ করো এবং তা লক্ষ্যবিদ্ধ হলো না, তার চেয়ে একটি মাত্র তীর লক্ষ্যবিদ্ধ হলে তাই ভালো। জ্ঞানী মুখ বন্ধ করে রাখে। কেননা তারা দেখে যে, মোমবাতি মুখের কারণেই জ্বলে।’

পাঠক, শেখ সাদীর এ মহা মূল্যবান কথা আমাদের দেশের এক শ্রেণীর তথাকথিত জ্ঞানী সমাজ কতটুকু জেনেছেন বা উপলব্ধি করতে পেরেছেন তা ঠিক বলতে পারবো না। তবে এ কথা বলতে পারি যে, তারা যদি সাদীর এ বাণীর যথার্থতা জানতেন ও বুঝতেন তবে আমাদের সমাজ এতটো কলুষিত হতো না। বলতে বাঁধা নেই, আমরা আজ কারণে-অকারণে যাচ্ছেতাই বাচাল বচন ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে পরিবেশন করে নিজের জ্ঞানের দৈন্যতা জাতির কাছে প্রকাশ করে যাচ্ছি।

চামচার দলের হাততালি আর তোষামোদকারীর বাহ্বাতে নিজের পদমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করে, ব্যক্তিত্বহীন মানুষ হিসেবে, নিজেকে হাস্যরসের খোরাক হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিলো না। জাতি হিসেবে আমরাও তা আশা করিনি। কিন্তু বাংলাদেশের নীতিবর্জিত আদর্শহীন রাজনীতির বেড়াজালে পড়ে আজ আমাদের তা দেখতে ও শুনতে হচ্ছে। এমন কতক ঘটনা, দেশের রাজনীতির মাঠকে খবরের শিরোনাম করে আমাদের নেতা-নেত্রীরা জাতির কি উপকার করতে পেরেছেন, বলাইবাহুল্য। আমরা অসহায় জনগণ কেবল দেখেই যাচ্ছি আর বলছি আহ্হারে নেতা, তোমার মাথায় পচনক্রিয়া শুরু হয়েছে। নেতার মাথায় যখন পচন ধরে তখন রাষ্ট্র ও সমাজ কি ভালো থাকতে পারে? অবশ্যই না, পচন ধরতে বাধ্য। বাস্তবেতো তাই ঘটছে, একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ সারা দেশে বিদ্যমান। পত্রিকা খুল্লে খুন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ যেন সকল অনিয়মের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, আর সে প্রতিযোগিতার যোগ্য রেফারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন দেশের তথাকথিত নেতা-নেত্রী আর প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্তা ব্যক্তিরা।

আমাদের নেতা নেত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দিনের পর দিন রাজনীতি করছেন। একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য, গ্রাম্য ঝগড়াটে রমণীর ন্যায় কোমরে কাপড় বেঁধে রাজপথ তথা পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে ঝগড়াতে লিপ্ত হয়েছেন। আর তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের আশ্রয়ে লালিত পালিত সন্ত্রাসী, নেতা পাতি নেতাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ অশ্লীল কথাবার্তা দেশের রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।এদিক দিয়ে সরকার ও বিরোধীদল উভয় দায়ী হলেও সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে আমরা সেই প্রবাদ বাক্যটি স্মরণ করে দিতে চাই, ‘ঘর নষ্ট বড় ভাই পাগল’ অর্থাৎ বড় ভাই যদি তার সঠিক দায়িত্ব, দায়িত্ববোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ থেকে সরে যায় বা নীরব থাকে তবে সে পরিবার বা ঘরে অশান্তি সৃষ্টি হতে বাধ্য। আমরা যদি রাষ্ট্রকে একটি পরিবার আর প্রধানমন্ত্রীকে বড়ভাই হিসেবে দেখি তবে রাষ্ট্রের এমন অশান্তির জন্য তাকেই (প্রধানমন্ত্রীকে) জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। আর যদি প্রধানমন্ত্রী পাগল বড়ভাই ভূমিকা নেন তবে তো কথাই নেই। জনগণের অবস্থা এখানে কি হবে তা বলাই বাহুল্য।

https://imperiya.by/video/i_AhoWanM0r/-Sheikh-Hasina-Latest-News.html

দুর্ভাগ্য আমাদের, দুর্ভাগ্য রাষ্ট্রের, বাস্তবে কিন্তু আমরা তাই দেখছি। সচেতন পাঠক সমাজ, সম্প্রতি মহান জাতীয় সংসদ তথা রাজপথে যে অশালীন বক্তব্যের আদান প্রদানের মাধ্যমে, দেশে যে অপসংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে তা নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আগেই বলছিলাম ‘ঘর নষ্ট বড় ভাই পাগল’!বলতে সংকোচ নেই, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বড়ভাই সুলভ দায়িত্ববোধ থেকে দায়িত্বশীলের ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে কি-না তিনি নিজেই অশ্রাব্য বাক্য আদান প্রদানে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষায় এর যৌক্তিকথা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর দাবি) নাচক করছেন তা কোন অবস্থাতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনিই প্রথম ‘কোলে তুলে ক্ষমতায় যাওয়া’র অশোভন ভাষা প্রয়োগ করে জাতিকে শরমে ফেলে দিয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি ২০১২ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দেন তার উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো বিরোধীদলকে নাস্তানাবুদ করা। তিনি মাননীয় বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপনি এত অস্থির কেন? খাল কেটে কুমির আনার দরকার কি?

তত্ত্বাবধায়ক এলেই যে বিরোধীদলীয় নেতাকে চ্যাংদোলা করে ক্ষমতায় বসাবে তার গ্যারান্টি কি? ৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা একই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছেন তত্ত্বাবধায়ক আসলেই যে আপনাকে (খালেদা জিয়া) কোলে করে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, এই আশা করবেন না। ভোট চুরি করে আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তা আর হবে না। ২ মার্চ গণভবনে আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায় শেখ হাসিনা প্রায় একই ভাষায় বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেই যে তাকে কোলে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্ষমতায় বসাবে তার গ্যারান্টি কি? তার সাধের প্রিয়জন ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনরা তাকে ক্ষমতায় বসায়নি, বরং তাকে জেলে এবং তার দুই ছেলেকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছে। আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে তাকে জেলে নেবে না, দুর্নীতির কারণে বিদেশে থাকা তার দুই পুত্রকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করবে না তার নিশ্চয়তা কি?

৭ মার্চ ২০১২ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণশোভযাত্রা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান। উনি কি ভেবেছেন তত্ত্বাবধায়ক এলে উনাকে একেবারে কোলে তুলে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। উনাকে তো কোলে তুলে ক্ষমতায় বসাবে না। উনার বুঝা উচিত, তত্ত্বাবধায়ক এসে উনাকেই জেলে পুরেছিলো। দুই ছেলেকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলো। আর এবার যদি তত্ত্বাবধায়ক আসে, তাহলে তাদের ধরে এনে কারাগারে পুরবে।’

পাঠক, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শোভন না অশোভন হয়েছে তা আপনারাই বিচার করবেন। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ তাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ দিতেই হয়, তারা প্রধানমন্ত্রীর এমন অশোভন বক্তব্যের পাল্টা প্রতি উত্তর দেন নাই। তবে তাদের দলের নবীন দুই জন মাননীয় সংসদ গত ১৮ ও ১৯ মার্চ সংসদে যে বক্তব্য রাখেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য এবং সমর্থন যোগ্য নয়। আমরা তাদের এমন বক্তব্যকে নিন্দা জানাই।১৮ মার্চ ২০১২ তাদের মহিলা সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে বলেন… ২০০৮ সালের নির্বাচনে উনি (শেখ হাসিনা) মইনউদ্দিন আহমদের কোলে বসেছেন। শুধু মঈন নয় আরো কোথায় কোথায় বসেছেন এদেশের মানুষ জানে। ১৯ মার্চ তাদের আরেকজন সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া এমপি জাতীয় সংসদে বক্তব্যকালে বলেন- ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে খালেদা জিয়া আন্দোলন করছেন বলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়েছেন।

কোলে করে ক্ষমতায় নেবার কথা বলেছেন। …বেগম জিয়াকে কোলে তোলার কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। আপনার কি (শেখ হাসিনার) কোলে উঠার স্বাদ জেগেছে? নিজের প্রয়োজনে কোলে ওঠা আর লং ড্রাইভে যাওয়ার বদ অভ্যাস আপনার আছে, বেগম জিয়ার নয়। লং ড্রাইভে গিয়ে স্বৈরশাসকের কোলে চড়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবৈধ শাসনকে বৈধতা দেন। যৌবনকালে আর কার কার কোলে চড়েছেন রেন্টুর বই পড়লে সব জানা যাবে।বেয়াইয়ের কোলে চড়ে দোল খাওয়ার সময় বেয়াইন দেখে ফেলে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। ১৯৯৬ সালে গোলাম আযমের কোলে চড়ে তত্ত্বাবধায়ক এর আন্দোলন করেছেন। …বিরোধীদলীয় এ দুইজন সদস্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন- ‘বিরোধী দলের এমপিরা জাতীয় সংসদে যেসব শব্দ উচ্চারণ করেছেন, তা নিষিদ্ধ পল্লীতেও মানায় না।

আমি তাদের এ ভাষাকে নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষার সঙ্গে তুলনা করে সেখানে যারা থাকেন, তাদের ছোট করতে চাই না’ তারই প্রতি উত্তরে বিরোধীদলীয় এমপি সৈয়দা পাপিয়া ১৯ মার্চ বলেন- ‘রোববার নাকি নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষায় কথা বলা হয়েছে। আমাদের অনুপস্থিতে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলেকে নিয়ে কিভাবে গালাগালি হয়েছে

About banglamail

Check Also

আবারও ফিরে এসেছে বাঁশেরকেল্লা

সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ফেসবুক পেজ বাঁশেরকেল্লা (https://www.facebook.com/newbasherkella/) আবারও ফিরে এসেছে।। মাত্র ১ দিন …