‘ইসলামী রেনেসাঁর কবি’ খ্যাত ফররুখ আহমদের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী

ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে (তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত) মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে। তার বাবা সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। ফররুখ আহমদের মায়ের নাম রওশন আখতার।

ফররুখ আহমদের কাব্য প্রতিভা প্রাণ পেয়েছে মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী আদর্শ অবলম্বন করে । কবি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তার সমস্ত চেতনা রাঙিয়ে তুলেছেন । ইসলামী পুনর্জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ ইসলামের নিমজ্জমান সূর্যের পুনারাবির্ভাবের প্রত্যাশায় তিনি বিপ্লবী দামামা বাজিয়েছেন কাব্যভাষায়। পরাজয়ের গ্লানির সাগর পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোক এ স্বপ্ন দেখেছেন সবসময়।

তিনি ধর্মীয় অনুশাসনকে মনে প্রাণে আঁকড়ে ধরেছিলেন। যখন থেকে ইসলামের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন তখন থেকে কখনো অনৈসলামিক, অসামাজিক ও ইসলামী শরীয়তের পরিপন্হী কোন কাজ করেননি। একমাত্র ইলাহ আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করেননি।

তার মনোবল ছিল মুসলমান কোন মানুষের সাহায্য চাইতে পারে না আল্লাহর সাহায্য ব্যতিত। জীবনের শেষ পর্যন্ত কবি নীতি আদর্শকে কখনো জলাঞ্জলি দেননি।

তিনি বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখেছেন তা সত্যিই বিরল। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর প্রধান পরিচয় ‘কবি’। ফররুখ আহমদ সনেটও রচনা করেছেন। তাঁর রচনায় ধর্মীয় ভাবধারার প্রভাব দেখা যায়। এছাড়া আরবি ও ফার্সি শব্দের প্রাচুর্য তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামী ডানপন্থার প্রতি সমর্থন থাকায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিলেন না। তবে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার সমর্থন করতেন।

ফররুখ আহমদের কর্মজীবন শুরু হয় কোলকাতায়। ১৯৪৩ সালে আই.জি.প্রিজন অফিসে, ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাইতে এবং ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে একটি ফার্মে চাকরি করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’-র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চাকরি করেন ঢাকা বেতারে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে ফররুখ আহমদ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। এখানেই প্রথমে অনিয়মিত হিসেবে এবং পরে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

তার বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থগুলো হল:

০ সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর, ১৯৪৪)

০ সিরাজাম মুনীরা (সেপ্টেম্বর, ১৯৫২)

০ নৌফেল ও হাতেম (জুন, ১৯৬১)-কাব্যনাট্য

০ মুহূর্তের কবিতা (সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩)

০ ধোলাই কাব্য (জানুয়ারি, ১৯৬৩)

০ হাতেম তায়ী (মে, ১৯৬৬)-কাহিনীকাব্য

০ নতুন লেখা (১৯৬৯)

০ কাফেলা (অগাস্ট, ১৯৮০)

০ হাবিদা মরুর কাহিনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৮১)

০ সিন্দাবাদ (অক্টোবর, ১৯৮৩)

০ দিলরুবা (ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪)

তার শিশুতোষ রচনাবলীর মধ্যে অন্যতম:

০ পাখির বাসা (১৯৬৫)

০ হরফের ছড়া (১৯৭০)

০ চাঁদের আসর (১৯৭০)

০ ছড়ার আসর (১৯৭০)

০ ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫)

১৯৬০ সালে ফররুখ আহমদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। কবি ফররুখ আহমদ ১৯৬৫ সনে প্রেসিডেন্ট পদক “প্রাইড অব পারফরমেন্স” এবং ১৯৬৬ সালে পান আদমজী পুরস্কার ও ইউনেস্কো পুরস্কার। ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে তাঁকে যথাক্রমে মরণোত্তর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি রাজধানী ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

মহান রব্বুল আলামীন তার এই বান্দাকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।