গ্রন্থ-প্রেমী তোফা গড়তে চান ই-লাইব্রেরি

বিশেষ প্রতিবেদনঃ ‘ভোর হলো দোর খোল খুকু মনি উঠোরে’ এ ভাবেই ডেকে বাবা আমাকে ভোরে কোলে নিয়ে আদর করতেন। আমিও নাকি সে ডাকে সাড়া দিয়ে বাবার সঙ্গে আধো আধো অস্পষ্ট কথায় মগ্ন হতাম। আমার ছোট চোখ  যেন স্বপ্ন দেখতো, বাবা ধরে রাখার ক্যামেরা পাননি, আমার ছোট বেলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন, অতীতের সে স্বপ্ন ধরে রাখা একেকটা ছবি, মহা মূল্যবান কাব্য’তে যেন রুপ নিত।
আমার বুকের ভেতরের শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রটা নাকি পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় গুদাম, তাইতো সেখানে সুরকে বেঁধে  রাখি পণ্যের বস্তার মতো। আরো আছে আমার ছেলেবেলার সেই সু-মধুর সময়। আমার বাবা কাজী নজরুল ইসলামের খুব ভক্ত, তাই আমার নাম হয়ে গেল নজরুল ইসলাম তোফা। কাজী নজরুলের ‘তোফা’ নাকি আমি। এ উপহার আমার বাবা দেখতে পেলেন আমার চোখে মুখে। দিনে দিনে বড় হই, বুঝতে পারি অনেক কিছুই শুরু হয় গাঁয়ের মেঠো পথে হাঁটা। সূর্য  উদয়ের আগে উঠে পথে, ঘাটে, বাজারে পড়ে থাকা ময়লা কাগজ পড়তে শুরু করি। স্কুল আর এমন নেশায় দিন কাটে, পড়ে থাকা কাগজের ছড়া কবিতা পছন্দ হলে কাটিংকরে ঘরে এনে আবৃত্তি করে পড়ি। তা দেখে বাবা আনন্দ পেতেন এবং ক্রয় করে দিতেন কাজী নজরুলের ছড়া কবিতার বই।

‘শুনেছো- ঠিকই শুনেছো। কেন সুনাম থাকবে না বলো? কতকাল ধরে কৃতিত্বের সঙ্গে এ কাজ করে আসছি’ শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটক সংগ্রহ গ্রন্থের ‘স্বর্গে কিছুক্ষণ’ নাটকের একটি সংলাপ এটি। এ সংলাপটি আমার অনেক ভালো লাগে। তাই মাঝে মধ্যেই এ গ্রন্থটি বের করে পড়ি। কথাগুলো এক নাগারে বললেন নজরুল ইসলাম তোফা।

গ্রন্থ-প্রেমী এই সরল মনা অভিনেতা গ্রামের মেঠো পথের পাশ দিয়ে বহমান আত্রাই নদীর তীরে ছিলো তাঁর অবাধ বিচরণ। নওগাঁ জেলার কশব ইউনিয়নে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। মোঃ কমর উদ্দীন শাহানার দ্বিতীয় সন্তান নজরুল ইসলাম তোফা গ্রামের স্কুল পঞ্চম শ্রেণী আর চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি’র পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হন। তারপর প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ এ গ্রন্থ-প্রেমী নাট্যাঙ্গনে নাটক আর সেটা নির্মাণে মগ্ন হন।

নজরুল ইসলাম তোফার জন্ম পাঁচ জুলাই উনিশ শত পঁচাত্তরে। থাকেন রাজশাহীর বর্নালীর মোড় হেতেম খাঁস্থ গ্রীন গার্ডেন টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের পার্শ্বে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি অভিনয় করেন। গ্রন্থ-প্রেমী নাট্য সমগ্র সংগ্রহে নেশা পূর্ন ভাবে শুরু করেন। ঘরে তার অসংখ্য বইয়ের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। বইগুলো শুধু সংস্কৃতিমনা মানুষদের ভালো লাগবে মনে করি। শুধু বই ক্রয় করে সেলফে রাখেননি, অন্য কাজের ফাঁকে প্রতিদিন একটি হলেও নাট্য পান্ডুলিপি পড়েন। জানা গেল তাঁর মনের ক্ষুধা অনেক বড়। আর সে ক্ষুধা মেটানোর জন্য তিনি যখনই সুযোগ পান তখনই বই পড়েন। জানালেন ইতোমধ্যেই অনেক বই পড়ে ফেলেছেন তিনি।

শৈশবে নজরুল ইসলাম তোফা স্কুল ও পূঁজা  পার্বণে যাত্রা করেছেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষকে হাঁসাতেন। তাই যাত্রা ও কৌতুক পরিবেশনের পাণ্ডুলিপি কপি করতে হতো হাতে লিখে। পাশাপাশি যারা তাঁর সঙ্গে অভিনয় করতেন তাঁদের প্রম্পট ও অভিনয় শিখিয়ে দিতেন। এভাবেই তাঁকে বই পড়ার নেশা পেয়ে বসে। পরে ভিডিও নাটকে অভিনয় শুরুু তাঁর। এভাবেই বৃহৎ পরিসরে প্রতিশ্রুতিশীল ও প্রতিভাবান নাট্যাভিনেতা আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন।

এলাকাজুড়ে সমালোচিত হতে শুরু করেন, কারণ নদীর পাড়ে কড়ই গাছের গোড়ায় স্কুল মাঠে উচ্চ স্বরে হেলে দুলে অভিনয় চর্চা আর মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে চিত্রকর্ম চর্চা, সবই ছিল পাগলের মতো। আজ তারই ফলশ্রুতি প্রায় সাড়ে তিন হাজার  নাট্য সমগ্র গ্রন্থ। যে কারণে  কোনো প্রহসন নয়, অনুপ্রেরণার গল্পই বলা চলে।

কোনো দুর্লভ ও ব্যতিক্রমধর্মী নাট্য সমগ্র বই সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে, সবার আগে মনে পড়ে রাজশাহীর বুক পয়েন্টের মালিক চন্দন দার কথা। তিনি কলকাতা ও ঢাকা গিয়ে তাঁকে মনের খোরাক মেটানোর জন্য নাট্য সমগ্র এনে দিতেন। নিজস্ব বুদ্ধি দ্বীপ্ত চেতনায় বই পাগল  নাট্যপ্রেমী,  চ্যানেল নাটকে অভিনয় করার সুয়োগ পেয়েছেন এবং করছেন। আশ্চর্য্য জনক তথ্য হলো নাট্যগুরু শিমুল সরকার ব্যথিত এপর্যন্ত কারও কাছে অর্থ নেয়নি। গ্রন্থ-প্রেমী নজরুল ইসলাম তোফা নিজের শৈল্পিক চিন্তায় বইয়ের মলাট করে রাখেন তুলি কলম দিয়ে পূর্নাঙ্গভাবে প্রচ্ছদ অংকন করে। শুধু তাই না সেই গ্রন্থগুলোকে ক্রমিক নম্বরের আওতায় এনে একটি ডায়রিতে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী লিপিবন্ধ করে রেখেছেন রীতিমত আনন্দ পেলাম হাতের লেখা দেখে একেবারে বিদ্যাসাগর টাইপ। আর হবেই বা না কেন? তিনি তো চারুকলার শিক্ষক। প্রয়োজনে গ্রন্থ খুঁজে পেতে  চমৎকার লেখাটি মনোযোগ আকর্ষণ করবে মনে করি।

নাট্য গ্রন্থ-প্রেমী নজরুল ইসলাম তোফা দেশি বিদেশি লেখকদের লেখা নাটকের সমগ্র সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উৎপল দত্ত, বাদল সরকার, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু, শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, অলোক রায়, শুম্ভ মিত্র, মনোজ মিত্র, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, নভেন্দু সেন, চন্দন সেন, লোকনাথ ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় বৈরাগী, ব্রাত্য রাইসু, সেলিম আল দীন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মামুনুর রশীদ, হুমায়ূন আহমেদ, মান্নান হীরা, মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্দ্র মজুমদার, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, আহম্মেদ সফা, আবুল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সহ দেশি বিদেশি খ্যাতিমান সব লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা নাটকের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাটক সমগ্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলাকালীন থেকেই বই সংগ্রহের নেশা নজরুল ইসলাম তোফার। তার সংগ্রহে রয়েছে তার প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে শিক্ষাজীবনে কেনা সব বই-ই।

তবে তার নাটকের সমগ্র সংগ্রহের নেশা তৈরি হয় ১৯৯২ সালের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হবার পরে। নাটকের গ্রন্থ সংগ্রহের বিষয়ে বলতে গিয়ে নজরুল ইসলাম তোফা বলেন, ‘২০১০ সালের দিকে আমি ধারাবাহিক নাটক ‘চোর কাব্য’তে কাজ করছি। তাই তখন শ্যুটিং এর জন্য ঢাকায় ছিলাম। সেইজন্য ‘টিভি নাটক সমগ্র’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করার জন্য গেলাম ঢাকার নিলক্ষেতে। সেখানে গিয়ে আমাকে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। আমার পরনে থাকা শার্ট ছিঁড়ে যায় রিকশায় বেঁধে। আমি ছিঁড়া শার্ট পরেই মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকি। নতুন শার্ট কেনার জন্য না, গ্রন্থটি কেনার জন্য।  মনটা খারাপ হলেও শার্ট কেনার জন্য কোন আগ্রহ ছিল না। কারণ শার্টের চেয়ে গ্রন্থটি আমার বেশি প্রয়োজন ছিল তখন’। আবেগ জড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আর একটা বিষয় হলো সেই সময় চাইলেই হয়তো শার্ট কিনে নিতে পারতাম, তবে শার্ট কিনলে গ্রন্থটি কেনার টাকা হতো না। কারণ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার টাকা ব্যতিত পকেটে তখন ছিলো মাত্র পাঁচশো টাকার মত।’ তাঁর বাবা হঠাৎ একদিন বলে বসেন, এতো বই সংগ্রহ করছো কি হবে এতো? উত্তরে তিনি বলেন, বই আমার অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠার সহায়ক হচ্ছে, তাছাড়া তুমি তো একদিন থাকবে না। তখন আমার ছেলেকে বলবো, আমার বাবা আমাকে এই লাইব্রেরি করে দিয়েছে। তুমিও তোমার সন্তানকে  বলবে। নজরুল ইসলাম তোফার বাবা সেই সময় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তোমার চিন্তা চেতনার জায়গা আমি বুঝি। তারপর তাঁর বাবা বই সংগ্রহ নিয়ে কোন কথা বলেননি। এটি ছিলো তোফার বই সংগ্রহের বড় শক্তি।

গ্রন্থ সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে তার সংগ্রহে শুধুমাত্র নাটকের সমগ্র গ্রন্থ রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার তার মধ্যে আবার বেশ কয়েকটি করে নাটকের পান্ডুলিপি। তার সংগৃহীত বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা নাট্যসমগ্র ও বাংলা অনুবাদ নাট্যসমগ্র গ্রন্থ। সেই গ্রন্থগুলো দিয়ে নিজের বাড়িতে তৈরি করেছেন একটা সংগ্রহশালা।

কেন তিনি এতো নাট্যসমগ্র সংগ্রহ করেছেন ও এখনো সংগ্রহ করে যাচ্ছেন এবং সেগুলোকে সযত্নে সংরক্ষণ করেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম তোফা বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই নাটকে অভিনয় করি আর নাটকে বই পড়তে করতে ভালোবাসি। স্কুলে পড়াকালে মঞ্চ নাটকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আমার নাটক বা অভিনয় করা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর নাট্যগুরু পরিচালক শিমুল সরকারের সঙ্গে থিয়েটারে যুক্ত হই। এভাবে নাটক করতে করতে একসময় টিভি নাটকে কাজের সুযোগ পাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ করার সময় নিজের ভিতরে কিছু অপূর্ণতা আছে বলে মনে হয় আমার। সেই অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে আর নাটক ও অভিনয় সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জনের লক্ষে বিভিন্ন খ্যাতিমান নাট্যকার ও লেখকদের লেখা নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি। এভাবেই আমার সংগ্রহে জমা হতে থাকে একের পর এক নাট্যগ্রন্থ।

এ পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষের জীবন ভাবনা থাকে, থাকে স্বপ্ন। কিছু মানুষ আছে যাদের মধ্যে স্বপ্নের জগৎ অনেক বড়। নজরুল ইসলাম তোফাও সেই ভবিষ্যত স্বপ্ন পরিকল্পনায় স্বপ্নবাজদের দলে।

এসব নাট্যগ্রন্থ নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম তোফা বলেন, ‘এসব কাগজের গ্রন্থ তো বেশি দিন অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব না। সে জন্য এসব মূল্যবান গ্রন্থগুলোকে অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করার জন্য আমি এগুলোকে ই-বুকে রূপান্তরিত করে ই-লাইব্রেরি (অনালাইন আর্কাইভ) তৈরির পরিকল্পনা করছি। যাতে সযত্নে নিজের সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি গ্রন্থগুলোর দ্বারা অন্যদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারি’।

গুনি মানুষ ও মেধা সম্পন্ন-মানুষেরাই শুধু পারে একটি বড় দেশ আর বড় জাতিকে গড়ে তুলতে। আমাদের সামনে আগামীদিনের যে মহান বাংলাদেশ অপেক্ষমাণ তার সুযোগ্য নির্মাণের জন্য আজ আমাদের প্রয়োজন অনেক সমৃদ্ধ মানুষের।

নজরুল ইসলাম তোফা বলেন,  মানবসভ্যতার শুরু থেকে আজ অবধি শ্রেষ্ঠ নাটক সমগ্র একের পর এক বাহির করছে এবং এ গ্রন্থ গুলো নাট্যাভিনেতা নিয়োমিত পড়াশুনার ভেতর দিয়ে দেশের মানুষের চেতনা জগৎকে বড় করে তোলার উদ্দেশ্যে নানান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাই জ্ঞানচর্চাকে সারা দেশের প্রতিটি অঙ্গনে ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। নাট্যঙ্গনের সব শ্রেনীর মানুষ বইপড়ার মাধ্যমে রুচিশীল ও আদর্শ মানুষ রূপে মিডিয়া জগতে আসুক। তাঁদের উদ্দেশ্যেই মুলত প্রথম বই সংগ্রহ করা। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হচ্ছে  ই-লাইব্রেরির উদ্যোগ। বর্তমানে হাতের নাগালে চলে এসেছে তথ্য প্রযুক্তি, এর বহুমাত্রিক ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। বই আর কেবল কাগজে ছাপা, বাঁধানো মলাট দেয়া পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক বা ই-বুক বা ডিজিটাল ভার্সনে বইপড়ার পাঠক সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে ই-বুক এখন বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার, ই-বুক রিডার  এবং সাম্প্রতিক সময়ের মোবাইল ফোন সেট গুলো ইলেকট্রনিক বই পড়াটাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।