জাবিতে প্রজাপতি মেলা

অনেক রকমের প্রজাপতি দেখলাম, অনেক সুন্দর, কিন্তু একটারও নাম জানিনা, কোনোটা হলুদ, কোনোটা নীল, কোনোটা সাদা এভাবেই বলছিলেন মিরপুর থেকে ঘুুরতে আসা ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাত রহমান প্রীতি।

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো প্রজাপতি মেলা-২০১৬।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে এ মেলায় ৮০ থেকে ৮৫ প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শীত হয়েছে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের ভিতর এবং বাইরে অসংখ্য প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হয়েছে।

প্রকৃতির অপরুপ অলঙ্কার এ প্রজাপতির বাহারি রঙের তিড়িংবিড়িং ছুটে চলা দেখেতে বিষ্টিকে উপেক্ষা করে ঢাকার অদূরে জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ভিড় করেছে হাজারও দর্শনার্থী।

সকালে জহির রায়হান মিলনায়তনে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতিরও যে প্রয়োজন রয়েছে তা মানুষকে জানানোই মেলার মূল লক্ষ্য বলে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। আমরা চিহ্নিত করেছি মাত্র ৩০৫ প্রজাতি। পৃথিবীতে মোট ১৬ গোত্রের প্রজাপতি রয়েছে। আমাদের দেশে আছে ১০ গোত্রের। যা নিয়েই মূলত আমার গবেষণা। কিন্তু এসব প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন, তাই এ মেলার আয়োজন।

দিনব্যাপী এ মেলায় ছিল র‌্যালি, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতির হাট দর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য এবার মেলা থেকে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ কে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ‘ইয়াং বাটারফ্লাই ইনথুসিয়অস্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন খান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।