নারায়ণগঞ্জে রিমান্ডে আসামির পুরুষাঙ্গে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা!

নারায়ণগঞ্জে রিমান্ডে নিয়ে এক আসামির পুরুষাঙ্গে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ওই আসামির নিতম্বে বেত্রাঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমীর হামজাকে কারণ দর্শাতে (শোকজ) বলেছেন আদালত।

আগামী ১ নভেম্বর স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে আদালতের এ আদেশ পৌঁছানো হয়েছে বলে আদালতের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই কাওছার আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ১ নভেম্বর স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে সদর থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল চুরি মামলায় জড়িত সন্দেহে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গ্রেফতারকৃত ইমরুল হাসান ইমরান নামে এক যুবককে বর্বর নির্যাতন চালান অভিযুক্তরা।

আদালত থেকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে রাতে থানার ভিতরে ইমরুল হাসান ইমরানের পুরুষাঙ্গে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাকা দেন এসআই আমীর হামজা।
ওই যুবকের পুরুষাঙ্গে এবং নিতম্বে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে পুলিশ।

গত রোববার আদালতে প্রেরণ করে ওই যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহনের জন্য আবেদন করে পুলিশ। এসময় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে ইমরানকে হাজির করা হলে সে কান্নাকাটি করতে থাকে। এসময় আদালত তার সমস্যার বিষয় জানতে চান।

এসময় পুলিশী নির্যাতনে ক্ষত স্থান আদালতকে দেখিয়ে ওই যুবক কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।
এতে আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ না করে থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে শোকজ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৭৪/৪ ডন চেম্পার এলাকায় জনৈক হারিছ মোল্লার আড়াই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এতে হারিছ মোল্লা সদর মডেল থানায় ২৭ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত চোরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ২৫ অক্টোবর ইমরুল হাসান ইমরান (২৫) নামের যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইমরানের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

উৎসঃ jugantor

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।