ভণ্ডপীরের নেতৃত্বে চলে বগুড়ার খোরশেদ হত্যাকাণ্ড

বগুড়াবগুড়ার নন্দীগ্রামে নাপিত খোরশেদ আলম হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, স্ত্রীর হাত ধরে টানাহেঁচড়ার প্রতিবাদ করায় ‘হু খাজা’ নামে পরিচিত ভণ্ডপীর আজিজার রহমানের নেতৃত্বে খোরশেদকে মাথায় আঘাত করে ও ডোবায় চুবিয়ে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দুই মুরিদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এ তথ্য দিয়েছে। ২৮ অক্টোবর রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরদিন উপজেলার নাগরকান্দি গ্রামের কাটাগাড়ি এলাকায় খোরশেদের লাশ পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, নন্দীগ্রামের পদ্মপুকুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৪০) ও একই উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে খোকন আলী (৩৮)। এদের মধ্যে আলতাফ হোসেন একসময় নিহত খোরশেদের বন্ধু ছিলেন।
বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, নন্দীগ্রাম উপজেলার দমদমা গ্রামের আবদুল্লাহ পোদ্দারের ছেলে খোরশেদ আলম, তার স্ত্রী মইফুল বেগম, আলতাফ হোসেন ও খোকন আলী পার্শ্ববর্তী নওগাঁর রানীনগর উপজেলার নিজতালিমপুর গ্রামের কথিত পীর (হু খাজা) আজিজার রহমানের ভক্ত। তার আস্তানায় নিয়মিত মাদকের আসর ও গানবাজনা হতো। পারলৌকিক কৃপালাভে মুরিদরা সকলে নিয়মিত পীরের আস্তানায় যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি সুযোগ বুঝে ‘হু খাজা’ মুরিদ খোরশেদ আলমের স্ত্রীর হাত ধরে টানলে খোরশেদ টের পেয়ে এর প্রতিবাদ করেন। এতে পীরের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

পীর প্রতিশোধ নিতে খোরশেদকে সরিয়ে দিতে মুরিদ আলতাফ ও খোকনসহ তিনজনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আলতাফ ও খোকনকে ৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুসারে গত ২৮ অক্টোবর রাত পৌনে ৯টার দিকে আলতাফ ও খোকন মাদক সেবনের জন্য খোরশেদকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নাগরকান্দি গ্রামের কাটগাড়ি এলাকায় সেতুর উপর নিয়ে যায়। সেখানে গাঁজাসেবনের পর আলতাফ তার বন্ধু খোরশেদের মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি সেতুর নিচে খালে পড়ে গেলে এরপর পীর ‘হু খাজা’, আলতাফ ও খোকনসহ ৪ জন তাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে।

পরদিন সকালে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ সেখান থেকে নাপিত খোরশেদ আলমের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থলে নিহতের একজোড়া সেন্ডেল ও ঘাতকদের টর্চলাইট পাওয়া যায়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গত রোববার গোপনে খবর পেয়ে আলতাফকে ও পরদিন তার স্বীকারোক্তিতে খোকনকে গ্রেফতার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরা হত্যার দায় স্বীকার ও জড়িত কথিত পীর ‘হু খাজা’সহ দু’জনের নাম প্রকাশে করে। মঙ্গলবার বিকালে এরা দু’জন বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় উল্লিখিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ঘটনার পরপরই কথিত পীর ‘হু খাজা’ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নওগাঁর রানীনগরের বাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে। এদিকে নিহত খোরশেদ আলমের স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু আলতাফের পরকীয়া আছে এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও তার সত্যতা পুলিশ পায়নি। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবদুর রাজ্জাক পোদ্দার নন্দীগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, নাপিত খোরশেদ আলম হত্যারহস্য উদঘাটিত হয়েছে। দু’আসামী আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। কথিত পীরসহ অপর দু’জনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।