মুন্সিগঞ্জে ৬ বছরের গৃহকর্মী শিশু নির্যাতনের শিকার

মোহাম্মদ শাহীন: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের বল্লাল বাড়ীতে সুবর্ণা (৬) নামের এক শিশু দিনের পর দিন গৃহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুন্সিগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতিত শিশুর সূত্রে জানা যায়, মা ভারতি বেগম মারা যাওয়ার পর শিশুটিকে বল্লাল বাড়ী এলাকার সিরাজ মাদবর এর স্ত্রী কল্পনা বেগম পালক হিসাবে নিজের বাড়ী নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে দিয়ে বাসা- বাড়ীর কাজে নিয়োজিত করেন।

মেয়টিকে দিয়ে দাসি-বান্দির মতো করে সমস্ত কাজ করাতেন। খাবার তেমন পেতনা শিশুটি, শোয়ার জন্য ছিল খাটের নিচে স্থান। ছিলনা মশারী, পরনে কখনও জোটেনি ভাল কাপড়, পেটে মিলেনি সময় মত কোন খাবার। মেয়েটিকে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর যখমের চিহ্ন আছে। মাথায় কোপের আঘাত, ঘাড়ে ছেঁকা, গলায় মরধরের কাল দাগ, বুকে পোঁড়া দাগ, চোখে কালো দাগসহ একাধিক চিহ্ন। পেটে গরম পানিতে ঝলসানো, ডান পায়ের রানে আগুনে পোঁড়ার চিহ্ন, বাম পাটি অনেক অংশে আরো অনেক পোঁড়া চিহ্ন আছে। হাতেও ছিলনা আঘাতের কোন কমতি। প্রতিটি আঙ্গুল ফুলা আর একাধিক আঘাতের চিহ্ন।

শিশুটিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য শিশুটির খালা সমলা বেগম নিজের হেফাজতে নিতে চাইলে অভিযুক্ত কল্পনা তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ প্রায় ২ বছর পর স্থানীয়রা শিশুটির নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেন। তবে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকিত স্থানীয়রা। কে তাকে দেখবে? কার নিকট থাকবে এই এতিম শিশুটিকে। নির্যাতিত শিশুটি বানিয়া বাড়ীর এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। মেয়েটার বাবা শাহালমের খোঁজ করে জানা যায়, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে অনত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। দুপুর ২ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থানায় গিয়ে দেখা যায়, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইউনুচ আলী তার দুপুরের খাবার শিশু বাচ্চাটিকে খাওয়াচ্ছেন। এবং শিশুটিকে সু-চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করেছেন।

পাশের রুমের ভাড়াটে রানা জানান, বাচ্চা মেয়েটা বাসায় কাজ করে আসছিল। আবার শুনতাম তার নাকি মেয়ে। প্রতিদিন মারধর করা হত শিশুটিকে তখন ভাবলাম ঘটনাটি রহস্যজনক। বুধবার (০২ নভেম্বর) সকালে মেয়েটিকে যখন মরধর করেছিল তখন ছুটে গেলাম তখন জানতে পারলাম মেয়েটাকে কাজের লোক হিসাবে রাখা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসি।

চিকিৎসক সৈবাল বসাক জানান, মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে শাররীক নির্যাতন করা হয়েছে এবং তার চোখে এখন ইনফেকশন আছে।

নির্যাতিত শিশু সুবর্না জানান, আমার মা মারা যাওয়ার পর আমাকে এই মহিলা নিয়ে আসে আমি তাকে মা বলতাম। আপনি আমাকে আর মাইরেন না আমি মরে যাব। তবুও সে আমাকে মারধর করে, মাথায়, পেটে, গলায়, হাতে ও রানে অনেক আঘাত করেছে দিনের পর দিন। কাজ করাতো কিন্তু খাবার দিতনা আমাকে। শুতে দিত খাটের নিচে। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই। আমাকে ওনি দিনের পর দিন যেভাবে শাররিক নির্যাতন করেছে ঠিক তেমনি তাকে নির্যাতন করা হউক সেটাই আমি দেখতে চাই।

মারধর করার কথা স্বীকার করে কল্পনা বেগম বলেন ও আমার মেয়ে ওকে আমি মারবো কাঁটবো সেটা আমার ব্যাপার। আপনার যদি মেয়ে হয়ে থাকে তাহলে তাকে দিয়ে বাসা বাড়ীর সমস্ত কাজ করান কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘরের মেয়ে ঘরের কাজ না করে কি অন্যের বাড়ীতে কাজ করবে? মাইরের কাজ করেছে তাই মেরেছি।

মুন্সিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইউনুচ আলী বলেন, শিশুটিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অভিভাবক পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।