স্বপ্নের গুজব ছড়িয়ে ছাতকে নারিকেল তলায় পানি ঢালা নিয়ে রাতভর তোলপাড়

রবিউল ইসলাম তারেক, ছাতক প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি স্বপ্নের গুজব ছড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনার রাতে কথিত এই কুসংস্কার নিয়ে সর্বসহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ‘ফুলতলী সাহেব তার ছেলেকে স্বপ্নে দেখিয়েছেন, (বৃহস্পতিবার) রাতের মধ্যে যাদের সন্তান আছে তারা যেন প্রত্যেকেই নারিকেল গাছের তলায় পানি ঢেলে দেয়। যাদের একাধিক সন্তান রয়েছে তারা যেন একাধিক কলসি পানি দেয়। অন্যতায় তাদের ছেলে মারা যাবে।’ এই স্বপ্নের দোহাই দিয়ে মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেয়া উপজেলার সিংচাপইড়, দক্ষিণ খুরমা ও দোলারবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন গুজবে রাতভর তোলপাড় শুরু হয়। নিজেদের ছেলে সন্তান জীবিত রাখতে অনেক মহিলা-পুরুষ নিজেরা নারিকেল তলায় পানি ঢেলে আত্মীয়-স্বজনকে পানি ঢালতে বাধ্য করেছেন। অনেকেই নির্ঘূম রাত্রিযাপন করেছেন বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় দিকে কেবা বা কারা মুঠোফোনে ফুলতলী সাহেবের স্বপ্নের দোহাই দিয়ে নারিকেল গাছে পানি দেয়ার গুজবটি ছড়িয়ে দেয়। এরপর থেকে চলে মুঠোফোনে আত্মীয়-স্বজনও দরজায় কড়া নেড়ে প্রতিবেশীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এই কুসংস্কারের প্রচারাভিযান। শুরু হয় নারিকেল গাছে পানি দেয়ার হিড়িক। সিংচাপইড় গ্রামের কর্পূর নেছা বেগম জানান, রাতে তার এক প্রতিবেশী ঘুম থেকে জাগিয়ে এই সংবাদ দিলে তার কথায় বিশ্বাস করে আমি রাত ১২টার দিকে গাছের শিকড়ে পানি দিয়েছি। পরে আমি আমার কয়েকজন প্রতিবেশীকে ঘুম থেকে ডেকে বিষয়চি জানাই।

ভাতগাঁও ইউপির আনুজানি গ্রামের জনৈকা এক মহিলা জানান, রাত ১০টায় ফোন করে এক পুত্র আমাকে নারিকেল গাছে পানি দেয়ার বিষয়টি জানায়, আমি রাত ১১টায় নারিকেল গাছে পানি দিয়েছি। এরপর ফোনে অনেক আত্মীয়-স্বজনকেও পানি দেয়ার কথা বলেন।

দোলারবাজার ইউপির রাউলী গ্রামের সাইফুর রহমান মিজু জানান, তার এক বন্ধু রাতে ফোন করে এই বিয়য়টি জানালে তিনি তা- বিশ্বাস করেননি। বরং এই বিষয়টিকে নিছক গুজব ছাড়া কিছুই নয় বলেও বুঝানোর চেষ্ঠা করি।

এব্যাপারে কয়েকজন মুফতির সাথে আলাপ করে জানা যায়, এটা নিচক কুসংস্কার বৈ আর কিছু নয়। এটা বিশ্বাস করলে মানুষের ঈমান থাকবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারন মানুষের বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে। কিন্তু নারিকেল তলায় পানি না দিলে কিভাবে সে মারা যাবে। তবে যারা পানি দেন নাই তারা কি মরে গেছেন। ঈমানী শক্তি দূর্বল হওয়ার সূযোগে শয়তান অতি সহজেই মানুষের ঈমান লুঠে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে মুসলমানদের অত্যন্ত সচেতনতার সাথে আরো সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।