হাটহাজারী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যেগে বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ হচ্ছে পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি বিরোধ ও ইভটিজিং

একে.এম নাজিম, হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি (ঈচঈ) এর আওতায় বন্ধ হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়রসহ প্রতন্ত এলাকার ছোট বড় অনেক অপরাধ।

এর মধ্যে পারিবারিক কলহ, জায়গা জমির বিরোধ, ইভটিজিং বন্ধসহ নিয়ন্ত্রনে এসেছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মূলক কর্মকান্ড। এই কমিউনিটি পুলিশিং এর হাটহাজারী মডেল থানায় দায়িত্বে আছেন কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার (ঈচঙ) এস.আই হাবিবুর রহমান সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যেগে এমটিই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিজ্ঞ মহল।

জানা যায়, ২০০৭ সালে সারা বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কার্যক্রম চালু করে সরকার। সারাদেশের বিভিন্ন অপরাধসহ সামাজিক ছোট বড় অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের তথ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী কে সহযোগিতা করার জন্য সারাদেশের প্রতিটি থানায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কার্যক্রম চালু করা হয়। এর ধারা বাহিকতায় হাটহাজারী মডেল থানায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালু হয়। এতে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি করে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও ১টি করে উপদেষ্টা কমিটি করা হয়েছে। আবার এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি মনিটরিং করার জন্য¡ উপদেষ্ট হিসেবে দায়িতে আছেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা ও হাটহাজারী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি।

এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের দেওয়া তথ্যের কারণে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন এলাকার অনেক ছোট বড় অপরাধ খুব তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রন করতে পারছে। এবং প্রতি মাসে হাটহাজারী মডেল থানায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভা অনুষ্টিত হয়। এই সভায় উঠে আসে পুরো উপজেলার প্রতন্ত অঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকার মাদক, ইয়াবা ও সামাজিক অপরাধের বিষয়। এবং এই বিষয় গুলো পর্যালচানা করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই কর্মকান্ড গুলো নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে পুরো উপজেলা ঘুরে জানা যায়, এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কারণে অনেক এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ হয়েছে। এবং অনেক এলাকার মেয়েরা র্নিভয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে। এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কারণে বিভিন্ন এলাকার নানান সমস্যা ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

তবে উপজেলা ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে এই প্রতিবেদক কে বলেন, এই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম অনেক সুফল বয়ে এনেছে। এর কারণে হাটহাজারী উপজেলায় অপরাধের মাত্রা কমে এসেছে কিন্তু বিশেষ করে পৌর সদরের ১নং ওয়ার্ডের সন্দিপ পাড়া, ৪নং ওয়ার্ডের আলীপুর ও মীরেরহাটের পশ্চিমে ও উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় অসাধু কিছু কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় এখনো ঐ সব এলাকায় মাদক বিক্রয়, প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন, মাঝে মধ্যে মেয়েদের উৎতাক্ত করাসহ বিভিন্ন ছোট বড় অপরাধ দমন করতে পারছেনা পুলিশ।

মাদক বিক্রয়ের সহযোগিতা করা ও অসুধা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির গুটি কয়েক সদস্যদের ব্যপারে এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে নিতে হবে শিক্ষিত সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করে এবং বিভিন্ন বিপদ আপদে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাড়ায় এমন লোকদের নিয়ে প্রতন্ত এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি করতে হবে তাহলে সমাজ আরো সুফল পাবে এবং এর সাথে সাথে পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মধ্যেমে জনসচেতন মূলক বিভিন্ন সভা সেমিনার ও আলোচনা সভা করতে হবে। যদি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা যায় তাহলে সামাজিক সব অপরাধ ও বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ ও ইভটিজিং বন্ধ হবে।
কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার (ঈচঙ) এস.আই হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমরা প্রতিমাসে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভা করছি এই সভায় বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও অপরাধ থেকে প্রতিকারের বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করতে পেরেছি। এবং আমাদের এই কার্যক্রম নিয়মিত চলবে আমাদের এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কোন সদস্যর বিরুন্ধে কোন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের খবর আমার কাছে নেই। যদি জানতে পারি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কোন সদস্য মাদক বিক্রয়, ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাহলে সাথে সাথে তার বিরুন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।