নড়াইলে যৌতুক লোভী পাষন্ড স্বামীর দা’য়ের কোপে স্ত্রী জখম

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধিঃ নড়াইলের লাহুড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে যৌতুকলোভী পাষন্ড স্বামীর দা’য়ের কোপে স্ত্রী বাহারুন বেগম (২২) মারাত্মক জখম হয়েছেন। যৌতুকলোভী ওই নরপিশাচের নাম মিলন মোল্যা (২৪)। সে একই এলাকার খলিল মোল্যার ছেলে।রবিবার (০৬ নভেম্বর) বেলা ১টার দিকে মিলনের বাড়িতেই এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মিলন লোহার তৈরি দা দিয়ে বাঁশ কাঁটছিল। এ সময় তার স্ত্রী বাহারুন বেগমকে বাপের বাড়ি গিয়ে যৌতুকের টাকা আনার জন্য বলে। বাহারুন বেগম রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মিলন তার হাতের ধারালো দা দিয়ে তার স্ত্রীর মাথায় আঘাত করতে থাকে। সেই সাথে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়েও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। বাহারুন বেগমের আর্ত চিৎকারে স্থানীয় জনতা এগিয়ে এলে মিলন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ সময় এলাকাবাসী আহতকে ধরাধরি করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডাঃ বাতেন খাঁর কাছে নিয়ে যায়। ডাঃ বাতেন আহতের মাথায় ৯টি সেলাই এবং চোখের উপর ২টি সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাহারুন বেগমকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, বিগত ৩ বছর আগে লাহুড়িয়া পঁচাশিপাড়া গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের মেয়ের সাথে পারিবারিকভাবেই মিলনের বিয়ে হয়। বর্তমানে মিলন ও বাহারুনের সংসারে মরিয়ম নামে এক বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মিলন যৌতুকের জন্য বাহারুনের উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। চাপ প্রয়োগে কোন কাজ না হওয়ায় বাহারুনের উপর মিলন বর্বর নির্যাতন শুরু করে। স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে নিস্তার পেতে বাহারুন তার বাবার বাড়ি থেকে অনেকবারই অর্থ এনে মিলনকে দিয়েছে। কিন্তু এতে তার লোভ মেটেনি। সে পুনরায় যৌতুকের দাবিতে বাহারুনের উপর নির্যাতন শুরু করে।

এ নিয়ে এলাকায় অনেকবার শালিস বিচারও হয়েছে। কিন্তু এতে কোন সুরাহা না হওয়ায় শেষে বাহারুন বেগম একাধিকবার স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে মিলনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু পুলিশ কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় মিলনের সাহসের মাত্রা চরমে উঠে যায়।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে আলাপ হলে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।