ঝিনাইদহে ঘুষের টাকা বাকি তাই শিক্ষকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর বন্ধ!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ নিয়োগের সময় দাবীকৃত ঘুষের টাকা বাকী থাকায় শংকর কুমার নামে কাব্য তীর্থ বিষয়ের এক শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার গাড়াবাড়িয়া হামিদপুর গোপালপুর পাতিবিলা (জিএইচজিপি) পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাবার এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ক্লাস নিচ্ছেন শংকর কুমার। কিন্তু ঘুষের টাকা বাকি থাকায় তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দিচ্ছেন না স্কুলের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান। স্কুলের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা গেছে শংকর কুমার ২০১৫ সালের ৩১ ১০ অক্টোবর কাব্য তীর্থ শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান।

নিয়োগ পাবার পর যথারিতী তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়াসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন। কিন্তু তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয় না। অভিযোগ পাওয়া গেছে স্কুলে চাকরী দেওয়ার শর্তে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান। শংকর কুমার ইতিমধ্যে তার ভায়েরা মহেশপুর উপজেলার হামিদপুর পাড়ার মনা প্রামানিকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকী চার লাখ টাকার জন্য তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দিচ্ছেন না।এমনকি এখনো পর্যন্ত তার যোগদান পত্র দেওয়া হয়নি।

এ ব্যপারে শিক্ষক শংকরের ভায়েরা মনা প্রমানিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান; কত টাকা চুক্তি হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমি এক লাখ টাকা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমানের কাছে দিয়ে এসেছিলাম।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, তাদেরও নিয়োগের পর থেকে খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র আটকে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক। কাব্যতীর্থ শিক্ষক শংকর কুমার জানান, আমার ৫ লাখ টাকা ডোনেশন দেওয়ার কথা। এর মধ্যে আমি এক লাখ টাকা দিয়েছি। বাদবাকি টাকা পরিশোধ হয়নি বলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি।

এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।