ঝিনাইদহে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ আগাম শীতকালীন সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। ইতোমধ্যে অনেকেই বিক্রি করেছেন ক্ষেতের সবজি, দামও পেয়েছেন ভাল।খরচের তুলনায় লাভ অনেক বেশী, তাইতো ঝিনাইদহে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ। প্রতি বছরই চাষীরা ঝুকছেন সবজি চাষের দিকে।কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে, ইতোমধ্যেই আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে ৩৫ ভাগ জমিতে।

মৌসুমের শুরুতে বাজারগুলোতেও উঠতে শুরু করেছে এসব সবজি। বাজারে বর্তমানে সবজি বিক্রি করে ভাল লাভ পাচ্ছেন চাষীরা। ক্ষেত থেকে চাষীরা ব্যবসায়ীদের কাছে বাধা কপি বিক্রি করছেন ২০ থেকে ২৫ টাকা, ফুল কপি প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস দরে।জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন তাকালেই চোখে পড়বে বাধাকপি, ফুলকপি, লাউ, শিম সহ নানা জাতের আগাম শীতকালীন সবজি। আসছে শীত মৌসুম, তাইতো দমফেলার ফুরসত নেই চাষীদের। চাষীরা ব্যস্ত ক্ষেত পরিচর্যার কাজে।

কেননা ভাল পরিচর্যার ফলেই মিলবে ভাল ফলন।সবজি চাষীরা জানান, এখন ভাল করে ক্ষেত পরিচর্যা করা গেলে সবজির ভাল ফলন মিলবে। তাই আমরা ক্ষেত পরিচর্যা করছি। ইতোপূর্বেই আমরা সবজি বিক্রি করে ভাল লাভ পেয়েছি। সেই টাকা দিয়ে আবার ক্ষেতে ফুলকপির চাষ করেছি।নগরবাথান এলাকার সবজি চাষী নেকবার হোসেন জানান, সবজি চাষে লাভ খরচের তুলনায় দিগুনেরও বেশী।এখন আমরা ভাল দাম পাচ্ছি সবজির। কিন্তু ভরা মৌসুমে সবজির দাম পড়ে যায়। এরকম যদি হয় তাহলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। তাই সবজির দাম যেন ভরা মোসুমে কমে না যায় এ জন্য সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল আহসান জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা চাষীদেরকে শীতকালীন সবজি চাষের উপর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগীতা করে আসছি। যার ফলে চাষীরা নিয়মিত মৌসুমী ফসল চাষের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে শীতকালীন সবজি চাষের দিকে ঝুকছে। ফলে আগাম সবজির দামও ভাল পাচ্ছে। এবার সবজির আবাদ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।তিনি আরো জানান, চাষীরা কীটনাশকের পরিবর্তে ক্ষেতে জৈব সার ব্যবহার করছে। ফলে সবজির মান ভাল হচ্ছে। যার দরুন বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ঝিনাইদহে এসে চাষীদের কাছ থেকে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। চাষীরা যদি এভাবে ভাল করে সবজির উৎপাদন পারে তাহলে সব সময় ই দাম ভাল পাবে। অব্যাহতভাবে এমন লাভ পেলে আগামীতে জেলায় সবজির চাষ আরো বাড়বে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।