ঝিনাইদহে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর মুখে !

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের শিশু আজমির ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিন বছর বয়স হলেও তার ওজন পাঁচ কেজি। শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া ওঠে শিশুটির। যেতে পারে না ঘরের বাইরে। বিভিন্ন সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও সঠিক কোনো রোগের নাম নির্ণয় করতে পারেননি তারা। দিনমজুর পিতা হাবিল হোসেন সহায়-সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা করালেও এখনো সুস্থ হয়নি শিশুটি। সে অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করে।

ঝিনাইদহের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মেজর (অব) আহম্মদ আলি ক্লিনিক্যালি ডায়াগনসিস করে জেরোডার্মা পিগমেন্টোসাম (এক্সপি) রোগ বলে ধারণা করেন। এটি অতি বিরল রোগ। তবে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার মাধ্যমে রোগটির সঠিক নির্ণয় সম্ভব। এ রোগের চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি বলে জানালেন এই চিকিৎসক।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আহম্মদ আলি আরো বলেন, কিছু দিনের মধ্যে রোগীর চোখ নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয় চিকিৎসকরা বলছেন জেলা পর্যায়ে এ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। প্রথম দিকে ঝিনাইদহের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানো হয়। তিনি তাকে ১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি করে রাখেন। পরে জানান, তার দ্বারা চিকিৎসা সম্ভব নয়। ঢাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করতে পরামর্শ দেন।

শিশুটির মা আরজিনা খাতুন জানান, জন্মের চারদিন পর থেকে আজমীর হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা পড়ে। এরপর থেকে শরীরের চামড়া উঠে যায়। চিকিৎসার পর ফোসকা পড়া বন্ধ হয়। এখন শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়। সেখান থেকে রস ঝরে এবং চামড়া খসে পড়ে।

সারাক্ষণ চুলকাতে থাকে। আজমীরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোটা গোটা ঘাঁ রয়েছে। তিন বছর বয়স অনুযায়ী সে বাড়ছে না। চিকিৎসকরা ঠিকমতো বলতে পারছে না সে কি রোগে আক্রান্ত।

জাহিদুর রহমান তারিক,
ঝিনাইদহ অফিস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।