সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে ভাসমান ব্যবসায়ীদের কারণে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ চরমে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে ভাসমান টঙ্গী চালী ব্যবসায়ীদের কারণে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ দূর্গতি চরমে উঠেছে। শত বছরের পুরানো সুরমা নদীর পারে গড়ে উঠে জেলার আরেক অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাচনা বাজার। শুধু জামালগঞ্জ নয় এর আশে পাশের কয়েকটি উপজেলা হাওরাঞ্চল থাকার কারণে দিনে দিনে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে সাচনা বাজারে। এক সময় সাচনা বাজার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেও কালের পরিক্রয়ায় সেই সাচনা বাজার এখন হাজারো মানুষের দূর্ভোগ আর দূর্গতির হাট হিসাবে খ্যাতি পেয়েছে। আর এ দূর্ভোগ ও দুগর্তির কারন হিসাবে দেখা দিয়েছে গত দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে বাজারের মেইন রোডে গড়ে উঠা দু’শতাধিকের উপর ভাসমান দু’সারির দোকানকোটা।’ অভিযোগ রয়েছে কয়েক শ্রেণীর প্রভাবশালী চক্র ওই সকল দোকানকোটার পজিশন ধরিয়ে দিয়ে হকারদের নিকট থেকে আগাম হিসাবে প্রতিটি দোকানের বিপরীতে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার পাশাপাশী ভাড়া হিসাবে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।’ ১/১১ এর সময় এক গলিকে বিভক্ত করে দু’গলিতে রুপান্তরিত হওয়া ওইসব দোকান কোটা উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে দখলদার চক্র সেই আগের অবস্থানেই রয়ে গেছেন। ওইসব দোকানকোটা উচ্ছেদ ও উচ্ছেদ ঠেকানোর দলে থাকা সুবিধাভোগীরা বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের সাথে সাপ-লুডু খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।’সম্প্রতি সরজমিনে সাচনা বাজার গেলে ভোক্তভোগী সাধারন লোকজন, স্কুল কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদকের নিকট তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ওই সব তথ্য প্রদান করেছেন। সরজমিনে জেলার এ বৃহৎ হাট ঘুরে দেখা যায়, জেলা সদর থেকে চার চাকার যানবাহননের প্রবেশ দ্বার সিএনন্ডবি রোডের মুখ থেকেই সরু গলির দু’পাশের দোকানকোটা মধ্যবাজার হয়ে দক্ষিণে লঞ্চঘাট পর্য্যন্ত এক গলিকে দু’গলিতে ভাগ করে মাঝখানে বসানো হয়েছে, চা-পান , জুতা, কাপড়, মনোহারি, ফল- মুল , শাক- সবজি, সহ প্রায় দু’শতাধিক অস্থায়ী দোকানকোটা । ওইসব দোকানকোটার কারনে গলির সরু রোড দিয়ে সিএনজি, লাইটেস, প্রাইভেট কার, রিক্সা, মোটর সাইকেল প্রবেশ করতেই পারেনা। সেই সাথে বাজারের ভেতর থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্যবাহি ট্রাক প্রবেশ তো দুরের কথা সাধারন পথচারীরা, নারী , পুরুষ, স্কুল- কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরাও চলাচল করতে গিয়ে গায়ে গায়ে ধাক্কা সামলাতে গিয়ে অনেক সময় বিপাকে পড়ে যান। বাজারের ব্যবসায়ী পংকজ পাল চৌধুরী বলেন, পণ্যবাহি ট্রাক, যানবাহন প্রবেশ তো দুরের কথা সাধারন লোকজনও ফুটপাতের দোকান কোটার কারনে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারেনা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের কয়েকজন ছাত্রী জানান, সাচনা বাজার হয়ে খেয়া নৌকা পারি দিয়ে প্রতিনিয়ত কলেজে আসা যাওয়া করতে হয়, বাসা থেকে খেয়াঘাট যেতে যেখানে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা না সেখানে গলি পার হতেই আধা ঘন্টা সময় লেগে যায়। ওই ছাত্রী আরো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আমার মত ক্কুল কলেজে পড়–য়া হাজারো শিক্ষার্থী ফুটপাতের দোকানকোটার কারনে লোকজনের শরীরে গাঁ ঘেষেই চলাচল করতে গিয়ে লজ্জায় পড়ে যায়।’ জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাচনা বাজারের ওই ফুটপাতের দোকানকোটা জন্য শুধু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীই নয় বাজারে আসা সাধারন ক্রেতাদেরও হাটতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওইসব দোকানকোটা উচ্ছেদের দাবি দ্ধীর্ঘ দিনের হলেও কেন উচ্ছেদ হচ্ছে না বুঝতে পারিনা। অপরদিকে সাচনা বাজার -বেহেলী রোডের অবস্থা আরো বেগতিক। দু’সারির দোকান কোটার সামনে কয়েকটি ওয়ার্কশপের নির্মাণ সামগ্রী ও মেরামত যোগ্যনয় এমন কিছু সেলু মেশিন, ট্রাক্টর ফেলে রাখা হয়েছে।’ এদিকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মুখে কুলুপ এটে রাখা ফুটপাতে বসা দোকানীরা আগাম টাকা দেয়া ও প্রতিমাসে ভাড়া প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেও এদের কেউ কেউ জানান, ভাসমান চালি সমিতির নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুর্ন:বার্সন করার কথা বলে একটি মহল বাজারের খাঁস ভুমিতে ভিট পাইয়ে দেবার নামে গত ক’বছর আগে তারা নিজেরাই পূর্ন:বাসীত হয়েছে। এমন কি যাদের বাজারে দু চারটি ভিট রয়েছে তারাও ভূমিহীন সেজে খাস জায়গায় ভিট নিয়েছে। আমাদের পূর্ন:বাসন আর হলনা। ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুর্ন:বাসনের নামে সাচনাবাজার নিউ মার্কেটে ৪০টির অধিক দোকানকোটা গড়ে উঠলে হাতে গোনা ক’জন ভাসমান ব্যবসায়ী ভিট পেয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন আর অধিকাংশ ভিটা পেয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পরিবারের লোকজন।’ সাচনা বাজার ভাসমান চালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া বলেন, প্রশাসন আমাদেরকে রাস্তা পরিস্কারের কথা বলেছেন, আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে। আমরাও চাই বাজারের গলি পরিষ্কার করতে কিন্তু আমাদের পূর্ন:বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করলে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে উপোস থাকা ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

’সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন, জনগনের চলাচলের স্বার্থে এবং বাজারের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য ভাসমান টঙ্গী চালী গুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। বিগত উপজেলা পরিষদের সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা আহমেদ পলি সোমবার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে উচ্ছেদ অভিযানের বিসয়টি অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের মাধ্যমে মাইকিং করে সর্বশেষ সময় জানিয়ে দেয়া হয়েছে ভাসমান দোকান কোটা সরিয়ে নেয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন, তাদেরকে নোটিশ করা হয়েছে। নোটিশের কপি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কেউ যদি তার অবৈধ দোকান কোটা না সড়ায় তাহলে বাধ্য হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।