চট্টগ্রাম জেলার মুসল্লিদের বিশ্ব ইজতেমা এবার হবে হাটহাজারীতে ইজতেমা ময়দান প্রস্তুতের জন্য চলছে সব ধরণের কাজ

একে.এম নাজিম, হাটহাজারীঃ এ বছর চট্টগ্রাম জেলার বিশ্ব-ইজতেমা হাটহাজারীতে হবে। আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর এই ইজতেমা চট্টগাম জেলার নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়ের পাশে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুল সংলগ্নে বিলে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা টংগীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব-ইজতেমা বিগত বছরগুলোতে মুসল্লিদের পর্যাপ্ত সংকুলান না হওয়ায় ইজতেমার কর্তৃপক্ষ প্রতিটি জেলায় জেলায় বিভিন্ন তারিখে ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। এতে করে কমে আসবে রাজধানী ঢাকার উপর চাপ। উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারই প্রথম চট্টগ্রাম জেলার ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে হাটহাজারী’র মির্জাপুরে। ইজতেমার নির্ধারীত স্থানের পার্শ্বে রয়েছে হালদার প্যারালাল খাল প্যারালাল খালে পানি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন যাতে মুসল্লিদের পানির কষ্ট পেতে না হয়। উক্ত বিলের উত্তর পাশ দিয়ে টয়লেট নির্মানের সুবিধাও রয়েছে। অন্য থানার চেয়ে হাটহাজারীতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে।

ইজতেমার জন্য হাটহাজারী উপজেলাটি নির্ধারন করায় হাটহাজারী বাসীর মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। হাটহাজারী তাবলীগ মারকাজ “নুর মসজিদ” ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার গ্রামে ওয়ার্ডে প্রতিটি মসজিদে মসজিদে ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে নিয়ে চলছে জোড়, মাশাওয়ারা বৈঠক ইত্যাদি। মুরুব্বিদের চেয়ে যুবক-তরুনরাও প্রস্তুত এবার। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ব-ইজতেমার তাবলীগ জামায়াতের কাকরাইল ও লাভলেইনের মুরুব্বিরা। প্রতি এক বছর পর পর হাটহাজারী চারিয়া এলাকায় এই ইজতেমা হবে। এবছর চারিয়া এলাকায় যারা ইজতেমায় শরিক হবে তারা আগামী বছর ঢাকা টংগিতে ইজতেমায় শরিক হবে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম জেলার মহানগরসহ সন্দিপ, মিরসরাই, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালি, পটিয়াসহ আরো বেশ কয়েকটি উপজেলার মুসল্লিরা তাবলীগ জামাতে অংশ নিবে বলে জানা গেছে। এবার ২০ লক্ষ ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা ইজতেমায় অংশ নেবে বলে জানা যায়।

এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার থেকে ইজতেমা ময়দানে কাজ শুরু হয়েছে। দৈনিক একশ জনের বেশি লোক ইজতেমা ময়দানের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ইজতেমা ময়দানে সর্বপ্রথম মসজিদ নিমার্ণেও মাধ্যমে কাজের যাত্রা শুরু করেন। উক্ত এলাকায় ১০টির ও বেশি ডিবটিউবেল বসানোর কাজ চলছে পাশা পাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ টয়লেট নির্মাণের কাজও চলছে। ইজতেমার মূল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার স্বাকয়ার ফুট জায়গা ইতিমধ্যে দান করে দিয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। উল্লেখিত এলাকার বেশ কয়েটি উপজেলা থেকে সেচ্চাসেবক এসে ইজতেমার দায়িত্ব প্রাপ্ত নিজ নিজ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই ইজতেমায় বিদেশি মেহমানদের জন্য ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানে যতেষ্ট ব্যবস্থ করা হয়েছে। উক্ত ইজতেমা উপলক্ষে বিভিন্ন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাবার দোকান নিমার্ণের কাজ শুরু করেছে। এই ইজতেমাকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা জোরদারসহ ইজতেমায় আগত ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের জন্য জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে আগামী শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে পবিত্র জুমার নামাজ হবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।