সাধু সুন্দরবনের দুবলর চরে রাস পূর্ণিমায় পূজা-পার্বনাদি পুণ্য রাস উৎসব

উজ্জ্বল রায় দুবলার চর রাসমেলা থেকে:
পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দরবনের দুবলার চরে ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমা পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার ৩ দিনের রাসমেলা শুরুহয়েছে। রাস মলা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর ১৩৩ তম রাস উৎসব হচ্ছে। ১২ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলা চলাকালে দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের পুণ্যস্নানে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ১০টি পথ নির্ধারণ করেছে সুন্দরবন শ্চিম বন বিভাগ। র্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর টহল দল। আমাদের জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে জানা জায় এসব রুটগুলোতে ১০ নভেম্বর থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি র্যা ব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বনকর্মীরা ও নৌবাহিনীর টহল শুরু করেছে। এছাড়াও কেউ যাতে হরিণ শিকার করতে না পারে সে ব্যাপ রেওপ্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। নুমোদিত ১০টি পথ হলো-

বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর; কদমতলা হতে ইছামতি নদী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর; কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদার গাং, খোপড়াখালী ভাড়ানী, দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া-কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর; কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর; নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর; ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন হয়ে পশুর নদী দিয়ে দুবলারচর; বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর এবং শরণখোলা স্টেশন-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। ুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, ১২ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর মেলা চলাকালে দুবলার চলে প্রবেশে দর্শনার্থী ও তীথর্ যাত্রীদের কোনো এন্ট্রি ফি দিতে হবে না। দনের বেলায় নির্ধারিত রুটের যে কোনো পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন তারা।

বনবিভাগের চেকপয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। তে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ট্রলারে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। পূণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। পরিবেশ দুষণ করে এমন বস্তু ,মাইক বাজানো, বাজি ফাটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশীয় যে কোনো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহন থেকে যাত্রীদের বরত থাকতে হবে।উল্লেখ্য, কথিত মতে ১৯২৩ সালে গোপালগঞ্জে ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুরের হরি ভজন নামে এক সাধু সুন্দরবনের দুবলর চরে রাস পূর্ণিমায় পূজা-পার্বনাদি অনুষ্ঠান শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর শুরু হয় রাসমেলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।