ফলোআপঃ নীলফামারীতে-৩য় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের পর সাড়ে ৭-মাসের অন্তঃস্বত্তা!!এলাকায় তোলপাড়

ক্রাইমরিপোর্টার নীলফামারীঃ- নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর চৌধুরীপাড়া গ্রামের ১৩ বছর বয়সী নিপুন (ছদ্ম নাম) নামের এক কিশোরী জোর পুর্বক ধর্ষনের শিকার হয়-সাড়ে- ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে।আর ঘটনাটি ফাস হয়ে পড়ায় পুরো এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।নিপুন উপরোক্ত এলাকার কাঠমিস্ত্রি রবিউল ইসলামের কন্যা ও হাজারীহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

মেয়েটির পিতা পেশায় কাঠমিস্ত্রী হওয়ায় জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় থাকায় বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে শুধু একমাত্র মা একাই থাকত । এই সুযোগে একই এলাকার প্রতিবেশি মৃত মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর লম্পট ছেলে আনোয়ারুল হোসেন চৌধুরী (২১)।নিপুনদের বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত।সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আনোয়ারুল প্রায় ৮ মাস পুর্বে একদিন বিকেলে নিপুনদের বাড়িতে কেউ নেই জেনে প্রবেশ করে নিপুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপুর্বক কয়েক দফা ধর্ষণ করে।

আর ধর্ষণ শেষে ঘটনা প্রকাশ করলে নিপুনকে সেও বিয়ে করবেনা অন্য কোথাও বিয়ে করতে দিবেনা ও তাকে হত্যা করবে বলেও ভয়ভিতী দেখায় ধর্ষক আনোয়ারুল।তাই নিপুনও বিষয়টি সম্মান ও জীবনের ভয়ে আড়াল করতে বাধ্য হন। ধর্ষণের দীর্ঘ থেকে নিপুনের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং শরীর,পেট বাড়তে থাকলে তার মায়ের সন্দেহ হয়। পরে তিনি নিপুনকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে নিপুন সাড়ে ৭ মাসের অন্তঃস্বত্তার বলে ডাক্তার জানান।

এ ঘটনা শুনে নিপুনের মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ায় এই ঘটনাটি কে ঘটিয়েছে জানতে চাইলে নিপুন জানায় প্রতিবেশি আনোয়ারুলের কথা। এর পরেই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়!!
অন্তঃসত্ত্বা নিপুনের বাবা কাঠমিস্ত্রি রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, আমার পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে মেয়েকে বাড়িতে একা পেয়ে আনোয়ারুল যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে আমার মেয়েকে আনোয়ারুল বিয়ে না করলে মেয়েটাতো বলছে সে আত্মহত্যা করবে নিশ্চিত পাশা-পাশি আমাকে ও নিপুনের মাকেও আত্নহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা।আমরা সমাজে মুখ দেখাব কি করে? তিনি আরো অভিযোগ করে জানান, আমি বিচারের জন্য আনোয়ারুলের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও কোনো সাড়া পাইনি।উল্টো আনোয়ারুলের পরিবার আমাকে বলে, কিছু টাকা নিন, বিষয়টা মিমাংসা করে ফেলি আর মেয়েকে অন্যখানে বিয়ে দিয়ে দেন।কিন্তু আপনারাই(সাংবাদিকরা) বলুন, কোন পিতা তার সন্তানের ইজ্জতের মুল্য কি টাকার বিনিময় মিমাংশা করতে পারে?তবে তো সমাজে বাবাকে সবাই ধু-ধু দিবেন,আর কারো মেয়েই জন্মদাতাকে পিতা বলে ডাকবেননা!! আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই,সমাধানসহ আমার মেয়ের পেটের সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চাই।
মন্তব্য জানার জন্য খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।আর অভিযুক্ত আনোয়ারুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়িতে একজন ব্যক্তিও নেই।কেনো তারা বাড়িতে নেই এলাকাবাসীর কাছে এমনটা জানতে চাইলে তারা জানান,আনোয়ারুল কর্তৃক নিপুনের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হয়ে পড়ায় আনোয়ারুলের গোটা পরিবার গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।তবে এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি নিজেই ঘটনাটি জানতে পেরে সরেজমিনে তা যাচাইয়ে করতে গিয়েছিলাম।আর ঘটনার সত্যতা পেয়ে মেয়েটির পক্ষে আইনী সকল ধরনের সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুতিও নিচ্ছি,যা চলমান রয়েছে।

মহিনুল ইসলাম সুজন-নীলফামারী।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।