শরীয়তপুরের জাজিরায় শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাওয়াত না করায় তোপের মুখে প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরীয়তপুরের জাজিরায় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের না ডাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

খোজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার ১৭ ডিসেম্বর শরীয়তপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী জাজিরা মোহর আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন এমন কয়েকজন শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বিদ্যালয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের খবর না দেওয়ায় কোন শিক্ষার্থীই উপস্থিত হতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আমিন উদ্দিন, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মাস্টার ইব্রাহিম, সাবেক সহকারী শিক্ষক মোঃ আলী ও ইউনুছ আলীকে সংবর্ধনা দেয় বিদ্যালয়। চার জনের প্রত্যেকেই চাকরি জীবনের সময় অতিক্রম করে অবসর নিয়েছেন। এদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আমিন উদ্দিন তিন বছর পূর্বে অবসর গ্রহন করলেও নানা গাফিলতির কারনে সংবর্ধনা দেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘ বছর ছিলাম অবসর গ্রহন করার পরেও কেউ কোন সামান্য সংবর্ধনাও দেননি এই তিন বছরে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের না দেখে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক এর তীব্র সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম নুরুল হক তার কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তিনি সংসদ সদস্যকে জানান, আমরা ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছি। পরে সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে যদি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই না থাকে তাহলে প্রাক্তন শিক্ষকদের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কোন মূল্য নেই।

এদিকে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের খবর জানতে না পেরে ক্ষেভ প্রকাশ করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
এক শিক্ষার্থী জানান, যে শিক্ষকদের সাথে আমাদের বহু বছরের সম্পর্ক তাদের বিদায়ে আমরা যেতে পারলাম না।এর থেকে কষ্টের কিছু হয় না।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ মোঃ আমিন উদ্দিন জানান, দীর্ঘ বছর এ বিদ্যালয়ের সাথে ছিলাম। অথচ আজকে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের না দেখে কষ্ট পেলাম।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম নুরুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাজিরা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হচ্ছেন এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অনেকটা নিজের ক্ষমতার জোড়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বাজে ব্যবহার করেন।
প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আগে সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন সকলের সাথে কথা বলতেন। প্রধান শিক্ষক হওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখেন। নিজের ক্ষমতা জাহির করতে অনেক প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার দেখা হলেও কখনো জানতে চাননি তারা কোথায় ভর্তি হয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শুধু এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়, বিদ্যালয়ের যে কোন বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত অন্য শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেন বলে কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ করলে প্রধান শিক্ষক তাকে চাকরিচ্যুত করতে পারেন এ জন্য এ প্রতিবেদকের কাছে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এক শিক্ষক। ঐ শিক্ষক বলেন, সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ায় অনেক বিষয়েই ছাড় পেয়ে যান তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।