যেখানে থমকে আছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসলেও সেখানে রয়েছে নানা সমস্যা। তাই পর্যটনের উন্নয়নে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের রয়েছে নানা প্রস্তাবনাও। আর প্রশাসন বলছে, পর্যটনের উন্নয়নে নানা কাজ বাস্তবায়নের কথা। সমস্যা ও আশ্বাসের মধ্যেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।

ফেনিল ঢেউ আছড়ে পড়ছে কক্সবাজারের বালুকাময় সৈকতে। পাশেই সবুজ পাহাড়। সাগর পাড়ের সত্যিকারের মনোরম আবহ খুঁজে পাওয়া যায় বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের এই শহরে। বছর জুড়ে কম বেশি এখানে আসেন হাজার হাজার বিনোদনপ্রেমি। বিশেষ করে ছুটিতে কক্সবাজার হয়ে ওঠে লাখো পর্যটকে মুখরিত। কিন্তু পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনও পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকত ছাড়া আর কিছুই নেই।

তারকামানের হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের প্রধান হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. হায়াত খান বলেনÑ ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারে কতগুলো হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। কিন্তু এর বাইরে আর কিছুই নেই। পর্যটকদের জন্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতই আছে, এটাই একমাত্র দেখতে পর্যটকরা আসেন। এটা দেখে তারা যতটুকু সন্তুষ্ট হবার ততটুকু সন্তুষ্ট হয়ে চলে যান। অথচ পর্যটনকে একটি শিল্প হিসেবে বিকাশের জন্য কক্সবাজারে বিনোদন সহ আরো বিভিন্ন উপাদান সংযোগ করা প্রয়োজন।’

কলাতলীস্থ সায়মন বিচ রিসোর্টের ফন্ট অফিস ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেনÑ ‘বেসরকারি উদ্যোগে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিকমানের হোটেল হয়েছে। এখন সরকার চাইলে পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারেন। যেটা বিদেশি পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে। তারমধ্যে বিদেশিদের জন্য এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন, বিনোদনের জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা করতে যেটা বিশ্বের অন্যান্য দেশে আছে। যদি সে ধরনের বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় তাহলে পর্যটন নগরী হিসেবে বিদেশিদের কাছে কক্সবাজারের আকর্ষণ আরো বাড়বে।’

সী-গাল হোটেলের ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ বলেনÑ ক্যাবেল কারের মাধ্যমে সাগর ও পাহাড় ভ্রমণ, কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত সরাসরি জাহাজ ব্যবস্থা, আরো আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণ এবং শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা যায় তাহলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।’

লং বিচ হোটেলের ম্যানেজার সরওয়ার আলম বলেনÑ ‘কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর পর্যটকদের কিছুই করার থাকে না, তখন হোটেলবন্ধী হয়ে যায়। যদি পর্যটকদের জন্য রাত্রিকালীন বিনোদনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কক্সবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবে।’

কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ, কটেজ ও রিসোর্ট। কিন্তু পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। তাই কক্সবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে আকৃষ্ট করতে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে জানালেন হোটেল মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার।

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন ‘যারা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর সহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সে ধরণের পর্যটককে আমরা কক্সবাজার আনতে চাই। কিন্তু সে ধরণের পর্যটক এখানে আসবে না। কারণ প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা অন্যান্য দেশের মতো আমাদের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারিনি। কারণ পর্যটন করপোরেশন কিংবা সরকারের কোন দপ্তরের সাথে আমাদের সমন্বয় নাই। যদি সমন্বয়ের সাথে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারি তাহলে বিদেশি পর্যটক আগমন ঘটবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।’

এব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো দৃশ্যমান হতে একটু সময় লাগবে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘেঁষে মেরিন ড্রাইভ সড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। টেকনাফের সাবরাং এলাকায় ১২শ’ একর জমির উপর এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ও জালিয়াদ্বীপে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও পর্যটন করপোরেশনের প্রায় ২শ ১৬ একর জমি রয়েছে সেখানেও একটি বড় কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে।’

সৈকতের এ শহরে প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি বিনোদনপ্রেমির আগমন ঘটে। এদের সবাই দেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১২ সালের পর থেকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।