ইউরোপিয়ান তরুণ গবেষক সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশী মুকিত

পারকিনসন্স রোগের কারণ অনুসন্ধানে অনন্য অবদানের জন্য এ বছর মর্যাদাপূর্ণ ইউরোপিয়ান ইনভেস্টিগেটর সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ ড. মিরাতুল মুকিত। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডিতে এই গবেষণা করেন মুকিত। প্রতিবছর ইউরোপিয়ান মলিকুলার বায়োলজি অরগানাইজেশন ইয়ং ইনভেস্টিগেটর প্রোগ্রাম (EMBO YIP) শীর্ষক এ সম্মাননা দেয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেবলা হয়, এমআরসি প্রোটিন ফসফরাইলেশন অ্যান্ড ইউবিকিটিলেশন ইউনিট প্রকল্পের ওয়েলকাম ট্রাস্ট ক্লিনিক্যাল গবেষক ছিলেন মুকিত। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লাইফ সায়েন্সের একটি অংশ। তার গবেষণা পারকিসন্স রোগের কারণ আরো ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করবে। নাইনওয়েলস হসপিটালের স্নায়ুবিদ পরামর্শক মুকিত। তিনি সেখানে মূলত অঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা করেন।

সম্মাননার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ওই প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে এবং সারা ইউরোপ থেকে আসা গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই পুলকিত। এই পারস্পরিক বিনিময় আমাদের গবেষণা প্রচেষ্টাকে আরো এগিয়ে নিতে নতুন নতুন ধারণা দেবে।

এর আগেও ইউরোপীয় গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন মুকিত। ২০০৪ সালে পারকিনসন্স রোগের জন্য যে PINK1 জিনের মিউটেশন (পরিব্যক্তি) দায়ী তা আবিষ্কারকারী টিমের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। মুকিত ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডিতে ২০০৮ সাল থেকে এই জিনের ওপর গবেষণা করছেন। তিনি দেখিয়েছেন, PINK1 জিনটির বিচ্যুতি কীভাবে পারকিনসন্স রোগ সৃষ্টি করে।

তার এই কাজ পারকিনসন্সের বিষয়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে: PINK1 এবং Parkin জিন দুটি একত্রে কীভাবে মানবকোষকে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর তরুণ গবেষকদের যেসব মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা দেয়া হয় তার মধ্যে EMBO YIP অন্যতম। আর এটি শুধু সম্মাননাই নয়, যিনি সম্মাননা পান তার আরো বিশ্বমানের গবেষণার জন্য তহবিলসহ নানা সুযোগ ঘটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।