গুণে ভরা তোকমা দানা

স্বাস্থ্যসচেতেন মানুষদের কাছে তোকমা দানা বেশ পরিচিত। বিভিন্ন ফলের জুস ও ফালুদা তৈরিতে তোকমা দানা ব্যবহার করা হয়। এটি প্রচুর পুষ্টি ও মিনারেল সমৃদ্ধ একটি খাবার। তোকমা দানা `সালভিয়া হিসপানিকা` নামেও পরিচিত। ছোট ডিম্বাকৃতির নরম বীজটি বিভিন্ন রঙয়ের হয় যেমন, বাদামি, কালো, সাদা ইত্যাদি। তোকমা দানায় হাইড্রোফোলিক উপাদান রয়েছে, যার কারণে খুব সহজে পানি শোষণ করে নেয়। তোকমা দানা ওজনের চেয়ে বারোগুণ বেশি পানি শোষণ করতে পারে।

প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, ম্যাংগানিজ, দস্তা, ফসফরাস, ভিটামিন-বি, ফোলেইট এবং রিবোফ্ল্যাভিন রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে অল্প পরিমাণে তোকমা দানা খেতে পারেন। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে। তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় ৪০ গ্রাম খাদ্য আাঁশ পাওয়া যায়। আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেটের পীড়া, প্রদাহ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তোকমা দানা চমৎকার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। এতে শুধু আঁশই থাকে না, শরীরের শক্তিও সরবরাহ করে। এক মুঠো তোকমা দানা বাদাম, শুকনো ফলের সঙ্গে মিশ্রণ তৈরি করে খেলে দীর্ঘক্ষণ আপনাকে ক্ষুধামুক্ত রাখবে। যা ক্ষুধা দমন, অসময়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়। ওমেগা-৩ শরীরের জন্য খুব দরকারী একটি উপাদান। উদ্ভিদভিত্তিক ওমেগা অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে তোকমা দানা।

তোকমা দানায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। আর এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ,  ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ এবং বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে। এক চাপ তোকমা দানায় আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিনের দরকারি ৩০ শতাংশ ম্যাংগানিজ, ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তোকমা দানা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল উৎপন্ন করে এবং রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায়। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, সুস্থ হার্ট এবং হাড় গঠনে সহায়তা করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।