মুখোমুখি অবস্থানে রুশ-মার্কিন যুদ্ধ বিমান

ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে। আর মধ্যে মাঝ-আকাশে অল্পের জন্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াল রাশিয়া এবং মার্কিন বোমারু বিমান। সিরিয়ার আকাশে এই দুইদেশের যুদ্ধবিমান কার্যত মুখোমুখি চলে আসে। পাইলটদের দক্ষতায় কোনওরকমে সংঘর্ষ এড়িয়ে যায় বিমান দুটি।

জানা গেছে, একটি গোপন অভিযান চলার সময় একটি মার্কিন বিমানের খুব কাছে চলে এসেছিল রাশিয়ার যুদ্ধবিমান। এমনই কাছে যে, রাশিয়ান বিমান থেকে মার্কিন বিমানের ঝাঁকুনি টের পেয়েছেন রুশরা। শুক্রবার মার্কিন সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এমনটাই চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়েছেন।

বাগদাদে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র বিমানবাহিনীর কর্নেল জন ডোরিয়ান জানান, ১৭ অক্টোবর চাঞ্চল্যলর এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। তবে রাশিয়া বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার অনুরোধ করে। ডোরিয়ান জানান, রুশ যুদ্ধবিমানটি মার্কিন বিমানের অর্ধেক মাইলেরও কম দূরত্বে কাছাকাছি চলে আসে। মার্কিন বিমানটিকে বড় আকারের উল্লেখ করলেও তার নাম প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, দুই বিমান এতো কাছাকাছি চলে এসেছিল যে একে অপরের কম্পন অনুভব করতে পারছিল।’

রুশ যুদ্ধবিমান কাছাকাছি আসলেও তাতে মার্কিন বিমানের ক্রুদের কোনো ঝুঁকি ছিল না বলে জানান তিনি।

কেন এ ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘কারণ আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করি। এই আলোচনা ছিল একান্ত। উভয় দেশই চলমান উত্তেজনাকে আরও বৃদ্ধি করতে আগ্রহী নয়। ফলে তা ওই সময় প্রকাশ করা হয়নি।’

রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাশিয়া ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ার আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ এমনকি হসপাতালও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিপরীতে বিদ্রোহীদের সমর্থন ও সহযোগিতা করছে আমেরিকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।