ডঃ তেমেল কারানুল্লাহ তুরষ্কের সাদাত পার্টির নতুন সভাপতি নির্বাচিত

তুরষ্কের অন্যতম পুরানো রাজনৈতিক দল ইসলামপন্থী সাদাত পার্টির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডঃ তেমেল কারানুল্লাহ। ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পিএইচডি অর্জনকারী এই নেতা তুরষ্কে অন্যতম অন্যতম আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত হবার পাশাপাশি ইতিপূর্বে সাদাত পার্টির ফরেন সেক্রেটারি, দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সিভাস সিটি কর্পোরেশন মেয়র এবং একাধিকবার এমপি ছিলেন।২০০১ সালে সাদাত পার্টি গঠিত হবার পর তিনি পঞ্চম সভাপতি। ৭০ এর দশকে তুরষ্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকানের হাত ধরে গড়ে ওঠা মিল্লিগুরুশ ক্রমান্বয়ে কয়েক বার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে মিল্লি নিজাম পার্টি, মিল্লি সালামত পার্টি, রেফাহ পার্টি এবং সাদাত পার্টি নাম ধারন করে। এই দল থেকেই নাজমুদ্দিন আরবাকান ৭০ এর দশকে উপ প্রধানমন্ত্রী, এবং ১৯৯৭ সালে ২১.৬০% ভোট নিয়ে জাতীয়তাবাদের সাথে কোয়ালিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করলেও ৮ মাসের মাথায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সরকার ভেংগে দিয়ে নাজমুদ্দিন আরবাকান, এরদুগানসহ শীর্ষ নেতাদের জেলে পাঠানো হয়। এরপর ২০০১ সালে এরদুগান এবং আব্দুল্লাহ গুল সাদাত পার্টি থেকে বেরিয়ে এসে “একে পার্টি ” গঠন করে ১৪ বছর যাবত তুরষ্কের ক্ষমতায় থেকে আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় দিক থেকে অনেক পরিবর্তন এনেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান ক্ষমতাসীন একেপির বেশিরভাগ নেতা এবং মন্ত্রীরা পুরানো সাদাত পার্টি থেকে আসা। এমনকি একেপির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এবং সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ নুমান কুর্তুমুশ ইতিপূর্বে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সাদাত পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতির দ্বায়ীত্বে ছিলেন এবং সেখান থেকে অব্যাহতি দিয়ে কিছুদিন পরেই একে পার্টিতে যোগ দেন।বর্তমানে সংসদীয় রাজনীতিতে সাদাত পার্টি পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান সরকার এবং দেশের সকল সেক্টরে তাদের প্রভাব বিদ্যমান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।