হিলারি-ট্রাম্প সমানে সমান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে থাকা না থাকার প্রশ্নে পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে প্রধান দুই দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। বলা যায়, বেশ হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানেই এখন রয়েছেন তারা। রবিবার এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের ওই জরিপে দেখা গেছে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন হিলারি। জরিপে হিলারির পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ মানুষ আর ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ মানুষ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ৯ দিন আগে জরিপটি প্রকাশ করা হলো।

মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভোটারদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপটি চালানো হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, অন্য দুই প্রার্থী অর্থাৎ লিবারটারিয়ান গ্যারি জনসনের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪ শতাংশের এবং গ্রিন পার্টির জিল স্টেইনের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ২ শতাংশ মানুষের। সম্প্রতি ইমেইল ইস্যুতে হিলারির বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আর এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরের রোষানলে রয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। ডেমোক্র্যাটরা দাবি করে আসছে, এফবিআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। তবে এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিনি এফবিআই-এর তদন্ত ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে রাজি নন। প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৬ জনই বলেছেন তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমেইল ইস্যুটি কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না। প্রতি ১০ জনে তিন জনের বেশি মার্কিনি জানিয়েছেন, তারা হিলারিকে সমর্থন দেবেন না বলে মনে করছেন। আর ২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এ ঘটনার পর তারা হিলারিকে ভোট দেওয়ার কথা আরও বেশি করে ভাবছেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরু করার খবরটি সামনে আসে। হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি। হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল আদান-প্রদানের কারণে আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গত ২৯ জানুয়ারিতে সংস্থাটির অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ইমেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত শেষ করে এফবিআই।

সম্প্রতি এফবিআই থেকে জানানো হয়, হিলারির ইমেইল নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। ওই তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন নতুন কিছু ই-মেইলের সন্ধান পাওয়ায় তদন্ত হবে। হিলারির প্রচারণা শিবিরের ভাইস চেয়ারপার্সন হুমা আবেদিনের ইমেইল তদন্তের জন্যও এফবিআই-এর কাছে একটি ওয়ারেন্ট আছে বলে জানানো হয়।

আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনে ২০০ মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ভোটার রয়েছেন। এরইমধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আগাম ভোট দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন ভোটার। সূত্র: এএফপি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।