মোদীর ‘সুবিচার’ দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মুসলিম মহিলারা

মুসলিম নারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুবিচার দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মুসলিম মহিলারা। উল্টে তাদের দাবী, যদি তিনি সত্যিই মুসলিম মহিলাদের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হন তাহলে আগে নিহত প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরীর বিধবা স্ত্রী জাকিয়া জাফরির ‍সুবিচার সুনিশ্চিত করুন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, শরীয়া আইনের অধীন মুসলিম মহিলারা যথেষ্ট সুরক্ষিত, ইসলাম ধর্ম নারীদের যে অধিকার দিয়েছে তা অন্য কোনও ধর্মে দেওয়া হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত দেশের অন্যান্য জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা।

নয়া দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইণ্ডিয়ায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুসলিম সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মহিলারা নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাঁরা জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুত ‘আচ্ছে দিন’ আনতে হলে মোদি সরকারের উচিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং অন্যান্য বাস্তব সমস্যার ওপর আলোকপাত করা। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মোদি সরকার একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে।

অল ইণ্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মহিলা সদস্য এবং মহিলা অ্যাক্টিভিস্টদের দ্বারা আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ল’ বোর্ডের এক্সিকিউটিভ মেম্বার ড.আসমা জোহরা বলেন, “কিছু মানুষ লিঙ্গ সুবিচার ও লিঙ্গ সাম্যের ধুয়ো তুলে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ফাঁদে পা দিচ্ছেন। যেটা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা।” তিনি আরও বলেন, “তিন তালাক ইস্যু কোনও ইস্যুই নয়, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে দিতে এই ইস্যু নিয়ে হৈচৈ করতে চাইছে।” তিনি তালাক নিষিদ্ধ করার বিরোধীতা করে তিনি বলেন, “অধিকাংশ মুসলিম মহিলা বিবাহের শরীয়া পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট। কোনও পরিস্থিতিতেই তারা এতে কোনও প্রকার পরিবর্তন মেনে নেবেনা” মুসলিম মহিলা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. আসমা জোহরা বলেন, তথাকথিত এই মুসলিম মহিলারা শরীয়ার এবিসিডি সম্পর্কেও অবহিত নয়। কারও ইশারায় এরা পরিচালিত হচ্ছেন।”

আতিয়া সিদ্দিকা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ মুসলিম মহিলাদের প্রতি দরদ খুবই আশ্চর্যজনক। তাঁর উচিত আগে জাকিয়া জাফরীর সুবিচার সুনিশ্চিত করা। তিনি ২০০২ সাল থেকে এখান থেকে ওখান ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁর স্বামী প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরীর হত্যার বিচার চেয়ে। ২০০২ সালে গুজরাতের দাঙ্গায় তাঁর স্বামীকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে দাঙ্গাকারীরা। সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় সরকারের উদ্দেশ্যে। সেগুলি হল – সরকার কেন সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে পারছেনা? বিচার ব্যবস্থার মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের অবস্থান কী? আইআইটি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নেই কেন? সেনাবাহিনীতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব কি রকম?

এছাড়াও অন্যমহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে আদালতে দু’কোটি মামলা জমে আছে, প্রধান বিচারপতি অত্যধিক কাজের চাপ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনেই চোখের জল ফেলেছিলেন। সেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার নামে আদালত বহির্ভূত সমাধানের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।