ভারতের মধ্যপ্রদেশে আট বন্দিকে কথা বলতে বলতে গুলি, পরে মিডিয়ায় প্রচার বন্দুকযুদ্ধ! ( ভিডিওসহ​)

ভারতের মধ্যপ্রদেশে কারারক্ষীকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া আট বন্দির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়ার (সিমি) এই আট সদস্যকে হত্যার পুরো ঘটনাটি সাজানো বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কথিত এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার কিছু সময় আগের ও পরের ভিডিও চিত্র প্রকাশের পর অভিযোগটি আরো শক্ত হয়।

ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ ব্যক্তি একটি জঙ্গলের ভেতর পাথুরে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। দূরে আরো তিনজনকে দেখা যায়। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা সম্ভবত ওয়্যারলেস ব্যবহার করে কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘সিগমা ওয়ান ওয়ান থ্রি টু কন্ট্রোল, এখানে পাঁচ ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। আরো তিনজন পেছনে আছেন। এদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরো।’

এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায় যে, ‘দুজন বসে আছে, একজন খোঁড়াচ্ছে।’

এ সময় পরিষ্কার দিনের আলোয় পাহাড়ের অনেক নিচ থেকে ওই ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
এর পরের দৃশ্যে পাথুরে পাহাড়ি ভূমির ওপর নিহত ব্যক্তিদের লাশের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি লাশের ওপর দিয়ে হাঁটছেন। এরপর দেখা যায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এক ব্যক্তির শরীরে লুকিয়ে রাখা একটি চাপাতির মতো অস্ত্র বের করছেন। অবশ্য অস্ত্রটি প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখা ছিল। এ সময় আরেকটি লাশের শরীরে গুলি চালাতে দেখা যায় আরেক পুলিশ কর্মকর্তাকে।

এদিকে, পুরো ঘটনাটিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে এর সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মারকানদে কাটজু। নিজের ফেসবুক পাতায় এ মত দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার রাতে ওই ফেসবুক পোস্টে কাটজু লিখেছেন, ‘আমার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ভোপালের এই তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ ছিল নকল। আরা যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে এবং যারা এর নির্দেশ দিয়েছে, তাদের সবার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া উচিত। যেমনটি হয়েছিল আমার বেঞ্চে অনুষ্ঠিত প্রকাশ কদম বনাম রামপ্রসাদ বিশ্বনাথ গুপ্তার মামলার ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছিল, নির্দেশ হচ্ছে নির্দেশ। তার ব্যত্যয় করা যায় না। কিন্তু তাদের আবেদন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এদের বেশির ভাগকেই ফাঁসি দেওয়া হয়। তাই যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছেন এবং ভাবছেন পার পেয়ে যাবেন, তাঁদের জানা উচিত, ফাঁসির মঞ্চ তাঁদের জন্যও অপেক্ষা করছে।’

এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই ভিডিওর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে সাবেক এই বিচারপতি আরো লিখেছেন, ‘এই ঠান্ডা মাথার খুনগুলো যাঁরা করিয়েছেন, যে পুলিশ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে জড়িত এবং যেসব রাজনীতিবিদ (যদি এর মধ্যে কোনো মন্ত্রী থেকে থাকেন তবে তাঁরও) ও আমলারা এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাচ্ছি।’
এর আগে গতকাল ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানায়, গত রোববার মধ্যরাতে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালের উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যান এই আটজন। এ সময় তাঁরা স্টিলের প্লেট ও গ্লাস দিয়ে কারারক্ষীর গলা কেটে হত্যা করেন এবং বিছানার চাদর দিয়ে দড়ি পাকিয়ে জেলের পাঁচিল টপকে পালান।

মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ওই আট সিমি সদস্যের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা রয়েছে। নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন হলেন মোহাম্মদ আকিল খালিজি ওরফে আবদুল্লাহ, মেহবুব গুড্ডু ওরফে মালিক, মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ, মুজিব শেখ ওরফে আকরাম ওরফে ওয়াসিম, আমজাদ, জাকির হোসেন শেখ ওরফে ভিকি ডন ও আবদুল মজিদ।

এনটিভি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।