অ্যাসাঞ্জকে ‘হত্যা’র নকশা: ফের আলোচনায় হিলারি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ওপর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ড্রোন হামলা চালানোর চিন্তা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল এ বছরের অক্টোবরে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এ বছর ২ অক্টোবর ট্রু পন্ডিত নামের মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘কৌতুক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন হিলারি। তবে একে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে আমেরিকান টেলিভিশন নামের এক ইউটিউব চ্যানেল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই প্রতিবেদনটি আবারও প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বিপুল সমালোচনায় থাকা হিলারিকে নিয়ে আরও জোরালো হয়েছে আলোচনা।

তবে আমেরিকান টেলিভিশনের ভিডিওটিতে এখন আর প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ তা সরিয়ে নিয়েছে।
‘উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া’ মার্কিন কূটনৈতিক নথি “SP Wikileaks doc final11.23.10.docx”র বরাত দিয়ে ট্রু পন্ডিত নামের এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে অক্টোবরে এই অভিযোগ করা হয়েছিল। কথিত উদার মিডিয়ার অনুদার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে নিয়ে সত্যিকারের সাংবাদিকতা শুরু করার শ্লোগান রয়েছে ওই মার্কিন সংবাদমমাধ্যমের টুইটার একাউন্টে। তবে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রতত্ত্বমূলক খবর পরিবেশনার অভিযোগ রয়েছে।
২০১০ সালে ওই নথিগুলো ফাঁস হতে শুরু করে। তবে ট্রু পন্ডিত-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে নথির স্ন্যাপশট ব্যবহার করা হয়েছে, উইকিলিকসে “SP Wikileaks doc final11.23.10.docx” লিখে গুগলে অনুসন্ধান চালিয়ে সেখানে সংযুক্তি আকারে সেই নথিটি পাওয়া যায়নি।

তবে উইকিলিকস নিজেদের টুইটার একাউন্টে ট্রু পন্ডিত প্রকাশিত প্রতিবেদনটি শেয়ার করার পর এর গুরুত্ব বেড়ে যায়। ইনফোওয়্যার নামে অ্যালেক্স জোনের ষড়যন্ত্রতত্ত্বভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক পল জোসেফ ওয়াসটন প্রথমে সংবাদটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরে উইকিলিকস তাদের টুইটার একাউন্টে রিপোর্টটি পোস্ট করলে তিনি মতামত পাল্টান। তখন একে যথার্থ বলেই মনে করছিলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবিকে উদ্ধৃত করে ট্রু পন্ডিতের প্রতিবেদনে বলা হয়, উইকিলিকসে ২০১০ সালে ফাঁস হওয়া বিপুল পরিমাণ ইমেইল নিয়ে হিলারি ক্লিনটন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভীষণ রকমের চাপে ছিল। ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী হোয়াইট হাউস এবং বিদেশি সরকারগুলো এ নিয়ে বিপুল পরিমাণ চাপের মধ্যে ছিল।

ইমেইল ফাঁসের আগে হিলারি এবং তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বেশকিছু বৈঠক করে। বৈঠকগুলোতে অ্যাসাঞ্জ এবং তার উইকিলিকসকে থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হয়।

২৩ নভেম্বর ২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত এমনই এক বৈঠকে অ্যাসাঞ্জকে নরম লক্ষ্যবস্তু (সফট টার্গেট) বানানোর পরিকল্পনার কথা জানান হিলারি। তিনি হঠাৎ করেই বলে ওঠেন, ‘ড্রোন হামলা চালিয়ে আমরা অ্যাসাঞ্জকে শেষ করে দিতে পারি না?’ তার কথা শুনে বৈঠকে থাকা অন্যরা হাসছিলেন। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, আদতে কোনও কৌতুক নয়, খুবই গুরুত্বের সঙ্গেই কথাটি বিবেচনা করতে বলেছেন হিলারি। হিলারির ড্রোন হামলার প্রস্তাবের পর অবশ্য এর বিকল্পও চিন্তা করা হয়। তাকে ধরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে পুরস্কার ঘোষণা করার কথা ভাবা হয়। অসমর্থিত সূত্রের বরাতে তখন ট্রু পন্ডিতের রিপোর্টে দাবি করা হয়, ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা করা হচ্ছিল।

২৩ নভেম্বর ২০১০ তারিখের ওই বৈঠকের পরপরই হিলারি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী চিফ অব স্টাফ চেরি মিলস, দুই ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হুমা আবেদীন আর জেক সালিভানকে মেইল করেন হিলারির ঘনিষ্ঠ অ্যান মেরি স্ল্যাটার। “RE an SP memo on possible legal and nonlegal strategies re Wikileaks.” শিরোনামে সেই মেইলটি করা হয়।

সেই বৈঠকের ৫ দিনের মাথায় ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ পর্যন্ত সময়ের আড়াই লাখ ইমেইল ফাঁস করে আলোড়ন তোলে উইকিলিকস। তবে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে গিয়ে যথাযথভাবে এই মেইলটি পাওয়া গেছে ঠিকই। তবে ফাঁস হওয়া “RE an SP memo on possible legal and nonlegal strategies re Wikileaks.”শিরোনামে সেই মেইলটিতে গিয়ে “SP Wikileaks doc final11.23.10.docx” নামের অ্যাটাচমেন্টটি পাওয়া যায়নি। হিলারির প্রাইভেট ইমেইল তদন্তে জড়িত এফবিআই সদস্যরাও ওই অ্যাটাচমেন্ট পাননি বলে অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় ট্রু পন্ডিত।

ট্রু পন্ডিত দাবি করে, সেই সূত্রের বরাতেইই তদন্তের সময় হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষাৎকার থেকে এফবিআই-যেসব নোট নিয়েছেন তা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তারা। ওই আলোচনার অসমর্থিত সূত্র উল্লেথ করে ট্রু পন্ডিতের রিপোর্টে বলা হয়, কোন কোন ব্যক্তির ওপর ড্রোন হামলা চালানো হবে তা ঠিক করতে ‘অনেক আলোচনা’ করেছেন হিলারি। এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়েছে অনেক বিতর্ক। হিলারি জানতেন, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষা বিভাগ, রাষ্ট্র এবং সিআইএর ভূমিকা অপরিহার্য। তবে কার পদক্ষেপ কী হবে তা যথাযথভাবে বোঝাতে পারছিলেন না তিনি। আর তা নিয়ে এ সংস্থাগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় ব্যক্তির ওপর ড্রোন হামলা চালানোর বিষয়ে হিলারিকে বার বার আলোচনায় বসতে হয়েছে।

সূত্র: ট্রু পন্ডিত, ইনফোওয়্যার, আমেরিকান টেলিভিশন, আরটি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।