ট্রাম্পের আমেরিকায় মুসলিমদের স্থান আছে কি?

মুসলিম, ল্যাটিন ও আফ্রো-আমেরিকানদের নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে বারবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলেছেন তিনি। এবার ইরাক যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনা হুমায়ুন খানের বাবা খিজির খান জানতে চেয়েছেন, ট্রাম্পের আমেরিকায় মুসলিম, ল্যাটিন বা আফ্রো-আমেরিকানদের কোনও স্থান আছে কিনা? রবিবার রাতে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে হিলারি সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পের প্রতি এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন খিজির।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে খিজির খান বলেন, ‘আপনার কাছে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। আপনার আমেরিকায় কি আমার সন্তানের কি কোনও স্থান রয়েছে? আপনার আমেরিকায় কি মুসলিমদের স্থান রয়েছে? আপনার আমেরিকায় কি ল্যাটিনদের স্থান রয়েছে? আপনার আমেরিকায় কি আফ্রে-আমেরিকানদের কোনও স্থান রয়েছে? আপনার আমেরিকায় কি এদের কারোই স্থান নেই? ভালো! সৌভাগ্যবশত এটা আপনার আমেরিকা নয়।’

কয়েক মাস আগেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ন্যাশনাল কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তার ছেলের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মুসলিমবিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলোধোনা করেন খিজির খান।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বাজে প্রার্থী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন খিজির খান। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে বক্তব্য এবং তার সূত্র ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার শিকার হওয়ার পর সারা দেশ থেকে মানুষ তাকে উৎসাহিত করেছেন। সাধুবাদ জানিয়ে তিনি ও তার স্ত্রীকে ‘উদার আমেরিকার প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেকে।

খিজির খানএর  আগে গত সেপ্টেম্বরে খিজির খান মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট হবে ঘৃণার বিপক্ষে ভোট। ৩৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী খিজির খানের ভাষায়, ‘আমি জানি, যে মূল্যবোধের জন্য আমি আমেরিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই মূল্যবোধের প্রতিনিধি নন।’

তিনি বলেন, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন মার্কিন সৈনিকের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান করেছেন।

উল্লেখ্য, জনসংখ্যার বিচারে কম হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাজ্যে ভোটের লড়াইয়ে মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হন। কারণ মার্কিন মুসলিমদের বেশিরভাগেরই বাস মিশিগান, ওহাইয়ো, ভার্জিনিয়া কিংবা ফ্লোরিডার মত দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে। ফলে মুসলিম ভোট ব্যাংক এসব রাজ্যে নির্বাচনি লড়াইয়ের পার্থক্য গড়তে ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল ইকোনমি বিভাগের অধ্যাপক শারিন হেলোরান। তিনি বলেন, এবারই প্রথম মুসলমানরা একটি গ্রুপ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন। সূত্র: সিএনএন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।