হিলারি জিতলে কী পাবেন ড. ইউনূস?

এখন শুধুই অপেক্ষা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে কে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে? ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন নাকি রিপাবলিকান ডোলাল্ড ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সব শেষ জরিপগুলোতে তুলনামূলক এগিয়ে আছেন হিলারি।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের হিলারি সমর্থকরা হিসাব কষছেন। একইসঙ্গে তারা ড. ইউনূসের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করছেন। আর এই আলোচনার মূল বিষয়, হিলারি জিতলে কী পাবেন ড. ইউনূস? কারণ জানা গেছে, হিলারিকে জেতানোর জন্য বিভিন্নভাবে কাজ করছেন তিনি। এছাড়া তিনি যে হিলারির ঘনিষ্ঠ বন্ধু সে কথা সবাই জানে।

অনেকেই বলছেন, হিলারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, ইউনূস হয়তো ফিরে পেতে পারেন তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের কর্তৃত্ব।

জানা গেছে, সরকার যখন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আইনের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেয়, তখন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সহায়তা চেয়েছিলেন ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে ধ্বংস করতে চাইছে’ বলেও বিবৃতি দেন হিলারি।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেন, “দেশের মানুষ সবাই জানে, হিলারি ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভালো বন্ধু। তাই হিলারি হোয়াইট হাউসে গেলে নিশ্চয়ই তা ড. ইউনূসের জন্য ইতিবাচক হবে। তিনি হয়তো গ্রামীণ ব্যাংকের কর্তৃত্ব ফিরে পেতে চেষ্টা চালাতে পারে হিলারি প্রশাসনের মাধ্যম।”
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার বিষয়টি কীভাবে নেবে তাও মনে রাখতে হবে। এ সরকারকে চাপ দিয়ে সহেজে পিছু হটানো কঠিন। তার অনেক নজির কিন্তু সরকার নানা ইস্যুতে তৈরি করেছে। ফলে হিলারি যদি খুব আন্তরিকভাবেই চান, তবেই কেবল হয়তো সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ড. মুহাম্মদ ইউনূসফে ফেরত দিতে পারে।”

জানা গেছে, বন্ধুকে হোয়াইট হাউসে নিয়ে যেতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন শান্তিতে এই নোবেলজয়ী।
এর আগে গ্রামীণ ব্যাংক প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারকে প্রভাবিত করতে হিলারির কাছে বারংবার তদবির করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলছেন, “হিলারি তার কূটনৈতিক কৌশল দিয়ে হয়তো দু’পক্ষকেই যেভাবে সামাল দেয়া যায় তা করবেন।” তবে এখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেশি এগিয়ে থাকবেন বলে ওই কর্মকর্তার ধারণা।

বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়েও হেরে যান ইউনূস।

অন্যদিকে, হিলারি যদি হোয়াইট হাউসে যান আর আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে হিসাব নিকাশের খাতায় নতুন পাতা যুক্ত হতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, হিলারি ক্ষমতায় গেলে এবং বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ড. ইউনূস রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন।
তবে এ বিষয়ে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক নেতাকে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সবার একটাই মন্তব্য, মার্কিন নির্বাচন হয়ে গেলে পরিস্থিতিই বলে দেবে ইউনূসের জন্য হিলারির পক্ষ থেকে কী উপঢৌকন অপেক্ষা করছে।
তবে হিলারি ক্ষমতায় গেলে পৃথিবীব্যাপী ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার গতি যে অনেকগুন বেড়ে যাবে সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি।

নিউজবাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।