নাফ নদীতে ভাসছে রোহিঙ্গা বোঝাই ২০টি নৌকা

টেকনাফের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন, আবদুল গফুর ও ফরিদুল আলম জানান, ‘মঙ্গলবার সকালে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদের যাত্রীরা সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সময় নাফ নদীতে নৌকায় রোহিঙ্গাদের ভাসমান অবস্থায় দেখেছেন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিনের পথে বেশ কিছু লম্বা নৌকা দেখেছেন তারা। এসব নৌকার মধ্যে শুধু মাথাগুলো দেখা যাচ্ছিল। প্রতি নৌকায় কমপক্ষে ২০ জন করে রোহিঙ্গা নাগরিক থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তারা।’
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘মঙ্গলবার সকালে টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শূণ্যরেখা অতিক্রম করে রোহিঙ্গা ভর্তি ২০টি নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের বাধা দেয়। ’
তিনি আরও জানান, ‘সীমান্ত জুড়ে বিজিবির সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিজিবির একার পক্ষে ৬৩ কিলোমিটার জলপথের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। যেসব স্থলপথে বিজিবির টহল দিতে পারছে না, সেসব পয়েন্ট দিয়ে কিছু স্থানীয় দালাল রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।’ তবে কোনোভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান বিজিবির ওই কর্মকর্তা।
এদিকে গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর সেনা বাহিনীর অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় গত কয়েকদিনে ৩১৬ জন রোহিঙ্গাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ ছিল শিশু । এর পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিজিবি সচেতনতামূলক সভা করেছে এবং স্থানীয় জেলেদের নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম না করে দেশের অভ্যন্তরে মাছ ধরার পাশাপাশি, রাতের বেলায় মাছ না ধরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করে আসছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গারা রাতের আধারে কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। বিশেষ করে টেকনাফের উনছিপ্রু, ওয়াব্রাং, জাদিমুরা সীমান্তবর্তী পয়েন্ট দিয়ে দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করছে।
তারা আরও জানান, গত রবিবার টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়ের জাদীমুড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় একটি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর শোনা গেছে। এদিকে সোমবার রাতে নাফ নদীর তীরে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা লাশটি ওই নৌকা ডুবিতে মারা যাওয়া কারও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজিবির সূত্রমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নাফ নদী দিয়ে ছোট নৌকায় করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ৫৩৯ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, গত ৯ অক্টোবর নতুন করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর সেনা বাহিনীর অভিযানের মুখে পালিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় নভেম্বর মাসে ৩১৬ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সদস্যরা। এ পরিস্থিতে আগামীকাল বুধবার মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) রিজিয়ান কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবির সঙ্গে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম রিজিয়নের অপারেশন কর্মকর্তা ডিকশন চৌধুরী জানান, ‘নদীতে রোহিঙ্গাদের ভাসমান নৌকার খবর শুনেছি। তবে নাফ নদীতে টহল জোরদার করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ চেষ্টাকালে ১৩৫ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং কোনও রোহিঙ্গা যেন ঢুকতে না পারে, সেজন্য নদীতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, ‘সীমান্ত এলাকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে সতর্ক রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশের সময় প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে ‘

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।