এমপি বদির তিন বছরের কারাদণ্ড

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সকাল ১১টায় রায় ঘোষণা করেন।
তিন বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। উক্ত টাকা অনাদায়ে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
যার পরিপেক্ষিতে আবদুর রহমান বদিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এ সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ পেলে প্রভাবশালীরাও ছাড় পাবে না।
উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে আনীত অপর জ্ঞাত আয় বর্হিভুত মামলায় খালাস দেয় আদালত।
১৯ অক্টোবর আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ঠিক করেন বিচারক। ১০ আগষ্ট দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
গত ২৯ জুন বদি আত্মপক্ষ শুনানি করেন। ওইদিন তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করে একটি লিখিত বক্তব্য আদালতে দাখিল করেন। মামলাটিতে চার্জশিটভূক্ত ১৫ সাক্ষির মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।
দুদকের আইনজীবী কবির হোসেন বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিবেন বলে আশা করছি ।
আসামীপক্ষের আইনজীবী মাহবুব আহমেদ বলেন, দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন নি। আমরা আশা করছি আমার মক্কেল খালাস পাবেন।
২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বদির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার বাইরে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার অবৈধ সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কমমূল্যে সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে এক কোটি ৯৮ লাখ তিন হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আবদুস সোবহান রমনা থানায় গত ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মামলাটি করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মঞ্জিল মোর্শেদ আদালতে বদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বদির বিরুদ্ধে ছয় কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বলা হয়েছে, তিনি দুদকের কাছে তিন কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। মামলাটিতে তিনি ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর এমপি বদি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।