জামায়াত আমির মকবুল আহমাদের ‘যুদ্ধাপরাধ’ তদন্তে ট্রাইব্যুনাল

জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির মকবুল আহমাদের যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনিয়া লালপুর গ্রামের পাল বাড়িতে তদন্ত করে।

সারা দেশে যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার ঘটনার তালিকা প্রণয়নের সরকারি আদেশে ২০১৫ সালে দাগনভূঁইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে সিলোনিয়া লালপুর গ্রামের পাল বাড়ির ১০ জনকে ধরে নিয়ে হত্যা এবং এর নির্দেশদাতা হিসেবে মকবুল আহমাদের নাম উঠে আসে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমির মতিউর রহামন নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাঁচ মাস পর মকবুলকে আমির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশে রুকনদের গোপন ভোটে মকবুল তিন বছরের জন্য আমির নির্বাচিত হয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দলটি।

মকবুল আমির নির্বাচিত হওয়ার পর তার যুদ্ধাপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে এলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে তার দল।

ওই প্রতিবেদন ধরে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্টতার তদন্ত করছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, তারা পালবাড়ি পরিদর্শন ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। সে অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।

“ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কাদের নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।”

তবে সার্বিক বিষয় বিবেচনা ও তদন্তের স্বার্থে দোষী ও দায়ী ব্যক্তিদের নাম গণমাধ্যমের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে অপারগতা জানান তিনি।

ওই ঘটনায় নিহত বিপিন পালের নাতি আশিষ দত্ত বলেন, ১৯৭১ সালে ১১ জুন রাতে স্থানীয় আলবদর কমান্ডারের নেতৃত্বে রাজাকাররা পাল বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার নানা বিপিন পালসহ পাল ও দাস বাড়ির ১০ ব্যক্তিকে হাত ও পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

“যাওয়ার সময় রাজাকাররা প্রতিটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়ির নারী ও শিশুরা অন্যত্র পালিয়ে যায়।”

নারায়ণ চন্দ্র দে’র ছেলে গণেশ চন্দ্র দে বলেন, রাজাকাররা তার বাবাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার বাবাসহ অন্যান্যদের ফেনী সিও অফিস চত্বর এলাকায় গুলি করে হত্যার পর মাটিচাপা দেয়।

এ ব্যাপারে দাগনভূঁইয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শরীয়ত উল্যাহ বাঙ্গালি বলেন, তৎকালীন শান্তি কমিটির নেতা ও বর্তমান জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদের নির্দেশে আল বদররা হিন্দুপাড়ায় আগুন দিয়ে ১০ জনকে হত্যা করে। এ সময় একই এলাকার খুশিপুর গ্রামের আহসানউল্যাহ নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে লাশ সিলোনিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান বলেন, দেরিতে হলেও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। নৃশংস এই হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওয়তায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

bdnews24

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।