তিন মাসেও হদিস নেই আমান আযমী, আরমান ও হুমাম কাদেরের

সন্ধান মিলছে না আমান আযমী, আরমান ও হুমাম কাদেরের। দিনের পর দিন মাসের পর মাস কেটে গেলেও নিখোঁজ এই তিন ব্যক্তি কোথায় আছেন সে সম্পর্কে কারো কাছেই কোন তথ্য নেই। আদৌ তারা আর কোনদিন ফিরে আসবেন কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও নিখোঁজ এই তিন ব্যক্তির কোন তথ্য নেই। গত ৪ আগষ্ট থেকে ২২ আগষ্টের মধ্যে নিখোঁজ হয় এই তিন ব্যক্তি। প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদেরকে তুলে নেয়া হয়েছে। নিখোঁজ এই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন সেনা বাহিনীর সাবেক অফিসার, একজন সুপ্রীম কোর্টের ব্যারিষ্টার এবং একজন হলেন বিএনপি নেতা।

গত ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় সেনা বাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে (৫৭)। তার মা আফিফা আযম ওই সময় অভিযোগ করেছেন, ২২ আগষ্ট রাত অনুমান ৯ ঘটিকার সময় রমনা থানার বড় মগবাজারস্থ ১১৯/২ কাজী অফিস লেনের বাসা থেকে ২০-৩০ জন লোক তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ওই সময় এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, “সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আল আযমী একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি অবসর জীবন-যাপন করছেন। তিনি দেশের একজন সুনাগরিক। তিনি দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার নামে কোন মামলা নেই। ফলে তাকে গ্রেফতার করা অযৌক্তিক ও বেআইনী।’’ সেই ২২ আগষ্ট থেকেই তিনি নিখোঁজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি পরিবারের। গতকাল পর্যন্ত তার কোন তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

এর আগে মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে তুলে নেয়া হয়েছে বিএনপি নেতা হুমাম কাদের চৌধুরী ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমানকে। গত ৪ আগস্ট সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীকে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গন থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। ঘটনার পর হুমামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানি মিডিয়া কর্মীদের বলেছিলেন, ওইদিন বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রায় ফাঁসের ঘটনায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে দাযের করা মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে গাড়ি থেকে নামার পর ডিবি পরিচয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
হুমামের অপর আইনজীবী চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব রাগিব ওইদিন সাংবাদিকদের জানান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী গতকাল তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরপরই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের নিচ থেকে কয়েকজন লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হুমামকে নিয়ে যায়। ওইদিন তিনি বলেন, সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে আসেন হুমাম ও তার মা ফারহাত কাদের চৌধুরী। হুমাম সামনের আসনে চালকের পাশে ও তার মা পেছনের আসনে বসা ছিলেন। তারা ঢাকার দায়রা জজ আদালতের সামনে পৌঁছলে আরও মামলায় আটকের কথা বলে হুমামকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয়ধারী পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি। এরপর থেকেই হুমাম নিখোঁজ। পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় ঘটনার পর তারা থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু থানা ডাইরী গ্রহণ করেনি। ঘটনার পরে পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন। কিন্তু হুমামের কোন হদিস মেলেনি।

এই ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ৯ আগস্ট রাতে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সাদা পোশাকধারীরা রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস এর বাসা থেকে তাকে নিয়ে যায় বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, ওইরাত সোয়া ৯টার দিকে ৬/৭ জনের সাদা পোশাকের একদল লোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ব্যারিস্টার আরমানের মিরপুরের ডিওএইচএস এর বাসায় যায়। এসময় আরমান দরজা খুললে তাকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ওই অজ্ঞাত লোকজন। পরিবারের সদস্যরা কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে কিনা জানতে চাইলে তারা কোন জবাব দেননি। এরপর থেকেই আরমান নিখোঁজ। আরমান বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন ডিফেন্স ল’ইয়ার। তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও হুমামের কোন হদিস মেলেনি।

bdsangbad.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।