বিশ্বজিৎ হত্যায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী এবার হত্যার হুমকী দিলো সাংবাদিককে

আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান এবার হত্যার হুমকী দিলো এক সাংবাদিককে। পুলিশের খাতায় ওই আসামী পলাতক হলেও সে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো ঢাকা শহর। তাও আবার জগন্নাথ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পরিচয়ে।
ইনকিলাবের নিজস্ব প্রতিবেদক তাকী মোহাম্মাদ জোবায়ের পল্টন মডেল থানায় দায়েরকৃত এক সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেছেন, কামরুল তাকে হত্যার হুমকী দিয়েছেন। পল্টন থানার সাধারন ডায়েরী নাম্বার -১১৪ সুত্রে জানা যায়, গতকাল বিকাল ৩ ঘটিকার সময় সাংবাদিক তাকী মোহাম্মাদ জোবায়েরকে নয়াপল্টন পলওয়েল সুপার মার্কেট এর সভাপতির কক্ষে আসতে অনুরোধ করে তারই সহকর্মী সোহাগ খান। কারন সোহাগ খানের পলওয়েল সপুার মার্কেটে ভাস্ট বাংলাদেশ নামক একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে।

তাকী সাড়ে ৩ টার দিকে নিচ তলায় সভাপতির ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করে দেখেন সেখানে সোহাগ খান ছাড়াও তার পূর্ব পরিচিত ৪র্থ তলার একটি দোকানের মালিক কাজিম উদ্দিন খন্দকারসহ ৫-৬ ছেলে বসে আছেন। তাকী প্রবেশ করার পর তাকে বসার জন্য একটি চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন মালিক সমিতির সভাপতি। তবে পিছনে থেকে এক ছেলে বলে উনি কে? চেয়ার ছাড়তে হবে কেন? সভাপতি তাকীর পরিচয় দিলেও ছেলেটি তাকে তাচ্ছিল্য করে বলে, আমি তিনটি পত্রিকার মালিক। তাকী তার পত্রিকার নাম জানতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সভাপতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এরপর কাজিমের লোকজন বেরিয়ে পলওয়লে মার্কেটের সামনে অবস্থান নেন। পরে সাংবাদিক সোহাগ ও তাকী বের হয়ে আসলে লিফটের গোড়ায় আটকে দেয় তারা। এসময় প্রথম থেকে উত্তেজিত ছেলেটি আরও ৮-১০ জনকে নিয়ে তাকীকে ঘিরে ধরে তাকে বলে, “আমি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ২০ নম্বর আসামী। আমার নাম কামরুল হাসান, আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তোমার মত সাংবাদিককে এক সেকেন্ড গায়েব করার ক্ষমতা রাখি।”

তাকী প্রধানমন্ত্রীর নাম না ভাঙ্গানোর অনুরোধ করলে, ঐ বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা তাকে থাপ্পড় মারতে উদ্যত হন। বলেন, “প্রধানমন্ত্রীও আমার কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না। না হলে বিশ্বজিৎকে খুন করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পেয়েও এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতাম না।” এছাড়া অকথ্য ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে গালি-গালাজ করেন। পরে তাকী চলে আসতে চাইলে জোর করে তার মোবাইল নম্বর এবং তিনদিনের মাঝে ঢাকা না ছাড়লে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে তাকী মোহাম্মাদ জোবায়ের পল্টন থানায় একটি সাধারন ডায়েরী এবং ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পরে কামরুল হাসানের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কামরুল ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে অতি উৎসাহী হয়ে বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো সরকারকে চাপে ফেলতে। এই কামরুলের বাড়ি বি.বাড়ীয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কিভাবে উন্মুক্ত ভাবে ঘুরে বেড়ায় আমার মাথায় আসছে না। আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দ্রুত তার গ্রেফতার দাবি করছি।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই কামরুল মানসিক ভারসাম্যহীন। তা না হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এর আগেও কটুক্তি করেছে। আজও কুটক্তি করার সাহস জুটতো না। ও ছাত্রলীগের কেউ না। সরকারকে চাপে ফেলতে তারা কয়েকজন মিলে বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলো। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সাংবাদিকদের বলেন, কামরুল ছাত্রলীগের কেউ না। ও ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত। কামরুল ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়েছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের জন্য লিখিত অনুরোধ জানাবো।

bdsangbad

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।