‘গোয়াতে সপরিবারে ছুটি কাটাতে চান শেখ হাসিনা’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসম্ভব ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও কয়েকটা দিন বের করে গোয়ার সমুদ্রতটে সপরিবারে ছুটি কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্তত এমনটাই দাবি করেছেন ভারতের ওই রাজ্যটির পর্যটনমন্ত্রী দিলীপ পারুলেকর।

তার বক্তব্য, সম্প্রতি গোয়ায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন তথা বিমস্টেক আউটরিচে যোগ দিতে এসে এই পর্যটনকেন্দ্রটি শেখ হাসিনার এতই পছন্দ হয়েছে যে, তিনি এখানেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটি কাটাতে আসবেন বলে প্ল্যান করে ফেলেছেন। খুব অল্প সময়ের গোয়া সফরে তার মন ভরেনি, কাজেই তিনি শিগগিরই প্রিয়জনদের নিয়ে আবার আসবেন বলে ঠিক করেছেন। তবে এবারে একটু বেশি সময়ের জন্য।

গোয়ার রাজধানী পানাজি থেকে টেলিফোনে দিলীপ পারুলেকর এদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। গোয়ার সৈকতের সৌন্দর্য আর আতিথেয়তায় তিনি এতটাই অভিভূত যে, পারলে তখনই ফেরার যাত্রা পিছিয়ে দিতেন। সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা দিয়েছেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোয়াতে বেড়াতে আসবেন।’

বস্তুত পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের বছরে এক বা একাধিকবার ‘ছুটি’ নেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এটা বেশ বিরল। ফলে বারাক ওবামা হোয়াইট হাউস ছেড়ে হাওয়াইতে দিনকয়েক গলফ খেলতে যেতে পারেন, কিংবা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল স্বামীর সঙ্গে ইটালিতে ট্রেক করতে যান। কিন্তু শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদিদের ক্যালেন্ডারে ছুটির অস্তিত্ত্ব নেই বললেই চলে।

তারা বেশ ঘন ঘন বিদেশ সফরে গেলেও সেসব রাষ্ট্রীয় সফরে ছুটির মেজাজ আদৌ থাকে না। তবে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে শেখ হাসিনা যখন প্রায় প্রতি বছরই নিউ ইয়র্কে যান, কিছুটা সময় তিনি হোটেলের স্যুইটেই ছেলে-পুত্রবধূ বা মেয়ে-জামাতার সঙ্গে কাটিয়ে থাকেন ঠিকই, সেটাকে বোধহয় পুরোদস্তুর হলিডে বলা চলে না।

সেদিক থেকে দেখলে শেখ হাসিনা গোয়ায় ছুটি কাটানোর প্ল্যান করে থাকলে সেটা অবশ্যই দারুণ অভিনব একটা পদক্ষেপ।

আর গোয়ার পর্যটন বিভাগও তার এ কথাকে একরকম লুফে নিয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী পারুলেকর নিজেই স্বীকার করেছেন, তারা চাইছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেখ হাসিনা তাদের রাজ্যে ঘুরে যান। এমন একজন হাই-প্রোফাইল ভিভিআইপি অতিথি গোয়াতে ছুটি কাটিয়ে গেলে রাজ্যে বিদেশি পর্যটকদের, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বেড়াতে আসা অতিথিদের ঢল নামবে বলেই তারা আশা করছেন।

ব্রিকস-বিমস্টেক আউটরিচে যোগ দিতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উঠেছিলেন গোয়ার বিলাসবহুল লীলা হোটেল। দক্ষিণ গোয়ার এক প্রান্তে, সাল নদী যেখানে আরব সাগরে মিশেছে, সেই মোহনার কিনারা ঘেঁষে ক্যাভেলোসিম বিচে এই হোটেলটি। স্বাগতিক দেশ ভারত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার থাকার ব্যবস্থা করেছিল সেই হোটেলেই সাগরতীরের একটি ভিলায়।আর অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা গোয়ার সেই নিভৃত কোণাটি শেখ হাসিনার মন ছুঁয়ে গেছে বলেই রাজ্য সরকারের দাবি। কিন্তু সময়টা ছিল বড্ড কম, পুরো চব্বিশ ঘন্টাও নয়!

গত ১৫ অক্টোবর দুপুরে লীলা হোটেলের ফাইন ডাইনিং ইটালিয়ান রেস্তোরাঁ ‘রিভারসাইডে’ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সম্মানে একটি ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকার। সেই মধ্যাহ্নভোজের আসরে হাজির ছিলেন গোয়া সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। আর পর্যটনমন্ত্রী দিলীপ পারুলেকরের সঙ্গেও সেখানেই আলাপ হয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনার। গোয়াতে পা রেখে যা তার মন ভরে গেছে, তখনই শেখ হাসিনা সে কথা জানান গোয়ার মন্ত্রীকে।

আসলে বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় ডেস্টিনেশন গোয়ার সৈকতে ইদানিং ট্যুরিস্টদের সংখ্যায় কিছুটা ভাঁটা পড়েছে। বিশেষ করে রুবল-এর মূল্যে ওঠাপড়ার জেরে রাশিয়ানরা এখন অনেক কম আসছেন। এই পরিস্থিতিতে গোয়া সরকার টার্গেট করেছে বাংলাদেশি পর্যটকদের, যারা প্রচুর সংখ্যায় ভারতে বেড়াতে এলেও দিল্লি-আগ্রা-আজমির শরীফ কিংবা দার্জিলিং-কলকাতা সার্কিটের বাইরে খুব একটা বেরোন না।

‘কিন্তু হার এক্সেলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা যদি একবার সপরিবারে গোয়াতে ছুটি কাটিয়ে যান, তাহলে আমি নিশ্চিত প্রচুর বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট বেড়ানোর জন্য আমাদের রাজ্যকেও বেছে নেবেন,’ বলতে কোনও দ্বিধা নেই গোয়ার পর্যটনমন্ত্রী দিলীপ পারুলেকরের!

banglatribune

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।