শরীয়তপুরে ২২ দিনে ২৯৪ জেলের জেল-জরিমানা

শরীয়তপুর প্রতিনিধিমা ইলিশ রক্ষায় ১২ অক্টোবর থেকে ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল সরকার। বুধবার ২ নভেম্বর সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন আইন অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি করায় শরীয়তপুরে ২৯৪ জন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা ও তৎপরতার কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নামা জেলের সংখ্যা অনেক কম ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় ১০৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় ২৯৪ জন জেলেকে আটক করা হয়। ২২০টি মামলার মাধ্যমে এদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ড করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৫৪ জনকে সর্বোচ্চ ১ বছর ও সর্বনিন্ম ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১৪০ জনকে ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।

এই ২২ দিনে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের সময় জেলেদের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। উদ্ধার করা হয় ২ টন ৬০৮ কেজি ইলিশ। এগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৩টি ট্রলার আটক করা হয়।

জেলায় মৎস্যজীবীদের চূড়ান্ত তালিকা এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে মোট জেলের সংখ্যা ২৮ থেকে ২৯ হাজার হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৫ জন জেলেকে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে ৩.২৭ মেট্টিকটন চাল দেওয়া হয়েছে।

তারাবুনিয়া এলাকার জেলে স্বপন বেপারী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার আমাদের ২০ কেজি করে চাল দেয়। কিন্তু এতে আমাদের সংসার চলে না। এছাড়া চাল পাওয়ার তালিকায় সব জেলেদের নাম নেই। তাই অনেক জেলে অভাবের কারণে এবং মহাজনের চাপে নদীতে যেতে বাধ্য হয়।’

গোসাইরহাটের ঠাণ্ডারবাজার এলাকার আড়তদার আল আমিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন আমাদের আড়ৎ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। জেলেদের নদীতে নামার জন্য আমরা কোনও চাপ প্রয়োগ করি না।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘দেশ ও জনগণের ভালোর জন্যেই আইন অমান্যকারী জেলেদের আটক করে সাজা দিতে হয়েছে। তবে আটককৃত জেলেদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, বুঝিয়ে বলেছি। তারা নিজেরাই প্রতিজ্ঞা করেছে নিষেধাজ্ঞার সময় তারা আর কখনও নদীতে জাল ফেলবে না।’

সহকারী পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, ‘মৎস্য বিভাগ যখন যেভাবে চেয়েছে, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। নদীতে মাছ ধরা বন্ধের জন্য পুলিশ ও র‌্যাব নিয়মিত টহল দিয়েছে। তবে দ্রুত গতির আধুনিক নৌযানের স্বল্পতার কারণে শরীয়তপুরের পদ্মা ও মেঘনার ২০ কিলোমিটার এলাকা নিচ্ছিদ্রভাবে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ফলে প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ১.২ মেট্টিকটন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৫.২ মেট্টিকটন। আর চলতি অর্থবছরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসেই ইলিশের উৎপাদন ৬.৪ মেট্টিকটনে দাড়িয়েছে। এবার ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন অনেক বাড়বে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।