বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে ‘নব্য জেএমবি’ আহত

.পুঠিয়া উপজেলার তাড়াশ গ্রামে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত আব্দুল খালেক (১৯) একজন ‘নব্য জেএমবি’ বলে জানিয়েছেন পুঠিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘খালেকের চাচাতো ভাই লালন জেএমবির তালিকাভুক্ত সদস্য। লালন সাড়ে সাত বছর জেএমবি’র মামলায় জেল খেটেছে। আব্দুল খালেক তার সঙ্গেই চলাফেরা করতো। তাছাড়া তার সহযোগী বুলবুলও জেএমবি সদস্য বলে সবাই জানে। তার সঙ্গেই সে বোমা তৈরি করতে বুলবুলের শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিল। শনিবার রাতে বোমা বিস্ফোরণের পর পুলিশ আব্দুল খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি বোমা, ৫টি চাপাতি ও বেশ কিছু জিহাদী বই উদ্ধার করেছে।’

রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে তিনি  এসব তথ্য জানান।

গত শনিবার সন্ধ্যায় বোমা তৈরির সমফ বিস্ফোরণে দুই হাত ও চোখ উড়ে যায় আব্দুল খালেকের (১৯)। সে চারঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আবু বকর শেখের ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে খালেক নব্য জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্য।

স্থানীয়রা জানান, পুঠিয়ার তাড়াশ গ্রামের সোহরাব হোসেনের বাড়িতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। তবে সোহরাব হোসেন ওই বাড়িতে থাকেন না। সেখানে তার স্ত্রী হুমায়রা একা থাকেন।

বোমা বিস্ফোরণের পর হুমায়রা খাতুন স্থানীয়দের জানান, তার মেয়ে জামাই উপজেলার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে বুলবুল হোসেন শনিবার দুপুরে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। তারা একটি ঘরে দরোজা বন্ধ করে কিছু করছিলো। জামাই বলে তিনি তেমন খেয়াল করেননি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে ঘর থেকে চিৎকার ভেসে আসে। এতে তিনি ও এলাকাবাসী সেখানে ছুটে যান। ওই সময় তার মেয়ে জামাই বুলবুল এবং অপর একজন পালিয়ে যায়। ঘরে আহত অবস্থায় ছটফট করতে থাকে একজন। তার দুই হাত ও একটি চোখ বোমার আঘাতে উড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে অচেতন অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন বিভাগে চিকিৎসক (অজ্ঞান) ডা. মিঠুন জানান, ‘বোমার স্প্লিন্টার বুক ও চোখের ভেতরসহ সারা শরীরে ঢুকে গেছে। দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। রাতিই তার অপারেশন করা হয়।’

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে কিছু জিহাদী বই পাওয়া গেছে। আহতের ম্যানিব্যাগে আরবী লেখা কাগজ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো জঙ্গিদের কোনও সংকেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক হুমায়রা খাতুনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়া আহত যুবককেও গ্রেফতার দেখিয়ে তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয়রা আরও জানান, ‘আব্দুল খালেক চারঘাটের এমএ হাদি ডিগ্রি কলেজের অনিয়মিত ছাত্র। সে কারও সঙ্গে মিশতো না। বেশিরভাগ সময় ঘরের দরোজা বন্ধ করে রাখতো। তার চাচাতো ভাই জেএমবির সাজাপ্রাপ্ত আসামি লালনের সঙ্গেই বেশি চলাফেরা করতো। ২০০৬ সালে জেএমবি সদস্য লালন র‌্যাবের হাতে আটক হয়। ওই সময় মামলায় সে সাড়ে সাত বছর সাজা খাটে।

 

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মবর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, ‘আব্দুল খালেক চাচাতো ভাই লালনের সঙ্গে সে আম ব্যবসা করতো। পুরনো মোটরসাইকেলও বেচাকেনার ব্যবসা করতো। এঘটনায় চারঘাট থানায় বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস দমন আইনে দুটি এবং পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।’

বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।