বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশকে ঘিরে সরকার ও ডিএমপি যে মিথ্যা বলছেঃ মির্জা ফখরুল

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সরকার বিএনপিকে ৮ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, আপনারাও শুনেছেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভীও বলেছেন, আমরা অপেক্ষা করবো। আমরা প্রত্যাশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চালু রাখার জন্য বিএনপির যে গণতান্ত্রিক অধিকার, সেই অধিকার প্রযোগ করার সুযোগ দেবে। সরকার সমাবেশের অনুমতি দেবে এবং বিএনপি একটি সমাবেশ করার সুযোগ পাবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সমাবেশকে ঘিরে সরকার ও ডিএমপি যে মিথ্যা কথা বলছে তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে যে সম্প্রদায়িক সৌহার্য্য রয়েছে তাকে বিনষ্ট করা এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার লক্ষ্যে এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং আপনারা নিশ্চিয় লক্ষ্য করেছেন যে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকরাই জড়িত। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে কারা এর নেতৃত্ব দিয়েছে। তাতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, সরকার-দলের লোকেরাই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধীদলের ওপরে সেই দোষ চাপায়। সেটা অত্যন্ত বিকৃত এবং হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার সামিল। তাই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধীদলকে দমনের চেষ্টা অব্যবাহত রেখেছে তারা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তারা এ বিভাজনের রাজনীতি শুরু করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ছিল তাকে নসাৎ করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে ছিলেন। মানুষের কথাবলা, লেখা ও মৌলিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দেয়া হয়। দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ সবগুলোকে নসাৎ করে দিয়েছে। একে একে তারা সমস্ত অধিকার হরণ করেছে। এমনকি মানুষের যে ভোটের অধিকার ছিল সেটাকে পর্যন্ত তারা কেড়ে নিয়েছে। সুতরাং আমরা একটি অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস করছি। এটা একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। এ থেকে মুক্তি পেতে হবে। দেশের সকল মানুষ এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সৈনিক ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদ ও সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সুসংহত করেছিল। সেই দিনেই এই দেশপ্রেমিক জনগণ বন্দি অবস্থা থেকে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। সে দিন থেকেই আধুনিক বাংলাদেশের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার নেতৃত্বে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ছিলেন। উন্নয়ন এবং উৎপাদনের রাজনীতিতে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে ছিলেন। একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে গড়ে তুলেন। সে জন্য আজকের এই দিনটি বিএনপি শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে পালন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্য ও দুঃখের কথা আওয়ামী লীগের এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ৭ নভেম্বরকে সব সময়েই অবমূল্যায়ন করেছে। শুধু তাই নয় ইদানিংকালে তারা তাদের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এই দিনটি সর্ম্পকে বিকৃত ইতিহাস বর্ণনা করছে। বিএনপি মনে করে এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জাতির স্বাধীন অস্তিত্ব ও সংগ্রামকে ব্যহত করবে। বিএনপি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে চায়।

jamunanews

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।