ইসিতে বিচার নাই: নির্বাচনী অনিয়মের আবেদন অবহেলায় পড়ে থাকে

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে কোনো বিচার পাওয়া যায় না। নির্বাচনী অনিয়মের শিকার ব্যক্তিদের আবেদন অবহেলায় পড়ে থাকে কমিশনে। এই ইস্যুতে তাদের কার্যক্রম যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এই ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক দল, সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ কারো কথাই শোনে না নির্বাচন কমিশন।

পাঁচ বছর মেয়াদকালের এই কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের স্তূপ জমা পড়েছে। কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে এগুলোর বেশিরভাগই খুলেও দেখা হয়নি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে হামলা, সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধাসহ প্রায় ১২’শ অভিযোগ জমা পরে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলা ও একজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ইসি। এ নির্বাচনে বেশিরভাগ অভিযোগ বস্তাবন্দি ছিল, ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা আধিকাংশ অভিযোগ খুলেও দেখেনি কমিশনের কেউ।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ছয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ১৩৭ জনের প্রাণহানি। এর আগে সর্বোচ্চ ৮০ জনের প্রাণহানি ঘটে ১৯৮৮ সালে। ২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটে ১০ জনের।

পৌরসভা নির্বাচন: বর্তমান কমিশনের অধীনে দুই ধাপে ৩২৩টি পৌর সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে শুধু ইসিতে অভিযোগ জমা পরে প্রায় ২৩৫টি। ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আজীমকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ও চার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচন কমিশনে তলবের নোটিস ছাড়া আর কিছু করেনি ইসি। পৌর নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটে নয়জনের। ভোটকেন্দ্র স্থগিত করা হয় ৪১টি।

সিটি নির্বাচন: ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট, ফলে ত্রুটি, ফল জালিয়াতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে ১৪১টি অভিযোগের স্তূপ জমা পড়ে। এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ভোটের দিন ইসিতে ৩৪ লিখিত অভিযোগ করেন। এর একটিও অভিযোগ আমলে নেয়নি ইসি।

এ নির্বাচনে জাল ও বাতিল ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি হয়। তিন সিটিতে ১ লাখ ২১ হাজার ৫টি ভোট বাতিল হয়, যা প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৪ দশমিক ৫৬ ভাগ। অতীতে ভোট বাতিলের হার ছিল ১ থেকে ২ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৩৩ হাজার ৫৮১, দক্ষিণে ৪০ হাজার ১৩০ এবং চট্টগ্রামে ৪৭ হাজার ২৯২টি ভোট বাতিল হয়।

এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ যমুনা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা সব নির্বাচনে কম-বেশি অভিযোগ আমলে নিয়েছি, তাৎক্ষণিক অনেক ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে নির্বাচনকালীন সব অভিযোগ আমলে নেয়া সম্ভব হয় না। কমিশন যেটা গুরুতর মনে করে সেটির ব্যবস্থা আগে নেয়।

নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলে খুলে দেখা হয় না এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে সব অভিযোগের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। আদালত আছে, সেখানে আইনি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

jamunanews

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।