কাদের ভাইকে যেমন দেখেছি

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহোল্ম: সে অনেকদিন আগের কথাl ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভক্ত হয়ে একটি অংশ ছাত্রলীগ নামধারণ করে গঠন করে আরেকটি কমিটিl এই কমিটি পরবর্তীতে নব গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে সমর্থন জানায়l মূল ছাত্রলীগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুজিববাদের স্লোগান দিয়ে শেখ শহিদুল ইসলাম ও এম এ রশিদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেl মুজিববাদের আদর্শ হলো সমাজতন্ত্র গণতন্ত্র জাতীয়তাবাদ ধর্মনিরপেক্ষতাl ছাত্রলীগের এই কমিটির দফতর সম্পাদক ছিলেন ওবায়দুল কাদেরl বাংলায় লেখার তার হাত ছিল তুখোড়l সম্ভবত এই কারণেই ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক পদটি পেয়েছিলেন তিনিl ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অফিসের একটি রুমে বসে গভীর রাত পর্যন্ত পত্র পত্রিকায় প্রেস রিলিজ লিখে পাঠাতেনl মধ্যে রাতে অফিসের সকল নেতা কর্মীরা চলে গেলে তারপর যেতেন তিনিl এই সময় ঢাকা কলেজের ওপর পার্শে চিটাগাং রেস্টুরেন্ট সহ অন্যান্য কয়েকটি হোটেলে বসে কখনো কখনো রাতের খাবার খেয়েছেনl খাওয়ার পর রেস্টুরেন্টের বাহিরে ঝুলিয়ে থাকা আগুন লাগানো লম্বা দড়ি থেকে সিগারেট ধরিয়ে ধূমপান করতেনl ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়া সত্বেও চলতেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেl ক্ষমতার অপবেবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি তার আসে পাশে কখনো স্থান পায়নিl কর্মীদের প্রতি সবসময়ই ছিল তার অত্যন্ত স্নেহ মায়া মমতাl

৩০ নাম্বার মিরপুর রোডের দোতালায় ছিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যালয় আর নিচের তালায় ঢাকা মহানগর ছাত্র লীগের কার্যালয়l আমি তখন ছাত্রলীগ ঢাকা আইডিয়াল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আর মাদারীপুরের গোলাম কিবরিয়া ছিলেন সভাপতিl সাংগঠনিক কাজে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ অফিসে বলতে গেলে প্রতিদিন সন্ধ্যায়ই যেতে হতোl এখানেই প্রথম পরিচয় হয় ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথেl দফতর সম্পাদক বলে মহানগর কিংবা কলেজের সভাগুলোতে তিনি একেবারে দাওয়াত পেতেন না বলা চলেl বিষয়টি নিয়ে তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মমতাজ হোসেন ভাই ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে কয়েকবার দুঃখ প্রকাশও করেছেনl পরবর্তীতে চুয়াত্তর পঁচাত্তর সময়ে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কলেজ ও আঞ্চলিক শাখার সভাগুলোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত আবেগ ও জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে সকলকে জাগিয়ে তুলতেন ওবায়দুল কাদের ভাইl ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের ভাষণ আর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূরে আলম সিদ্দিকীর ভাষণ আমার কাছে একই রকম মনে হতোl বাংলায় দখল থাকার কারণে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করার মতো খুব সুন্দরভাবে বক্তব্য রাখতে পারতেন তিনিl

ঐসময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফ ভাই ও শেখ সেলিম ভাইয়ের তেমন কোনো পরিচিতি ছিল নাl যুবলীগ সভাপতি শেখ মনি ভাইয়ের ছোট ভাই শেখ সেলিম ভাই আর বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধেয় সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ ভাই শুধুমাত্র এইটুকুই ছিল তাদের পরিচয়l ঢাকা শহর ছাত্রলীগের অধীনে বিভিন্ন স্থানে কোনো সভা সমিতিতে তাদের উপস্থিতি নাই বললেই চলেl কেন্দ্রীয় নেতারা সবসময় চাইতেন ঢাকা শহর ছাত্রলীগের সভায় আসন গ্রহণ করতেl আমার এখনো মনে পরে শেখ শহিদুল ইসলাম ভাই, ইসমত কাদির গামা ভাই, রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী ভাই, তাজুল ইসলাম ভাই, শফিউল আলম প্রধান ভাই, ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ভাই, ওবায়দুল কাদের ভাই, খ ম জাহাঙ্গীর ভাই, মমতাজ হোসেন ভাই, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ভাই, শেখ কামাল ভাই সহ আরো কয়েকজন ছাত্র নেতা সিটি ছাত্রলীগের অধীনে আয়োজিত সভাগুলোতে আমন্ত্রিত হতেনl শেখ সেলিম ভাই কিংবা সৈয়দ আশরাফ ভাইকে কখনো কোথাও খুব একটা বেশি দেখা যেত নাl তারা ছিলেন ছাত্রলীগের ডার্ক সাইটের নেতাl এইসময় ঢাকা শহর ছাত্রলীগের দেখাশুনা করতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যৈষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ভাইl

স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকার রমনার বটতলায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নির্বাচনকালে আমাকে সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলl এইসময় কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র শফিকুর রহমানl মহানগর ছাত্রলীগের এই নুতন কমিটি শেখ কামাল ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে প্রস্তাবিত হয়েছিলl কাদের ভাই তখন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যl এই কমিটির সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী ভাই ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম প্রধান ভাইl শেখ কামাল ভাই সিটি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালানোর জন্য দুটো হোন্ডা ৫০ দিয়েছিলেন যা বেবহার করে আমরা ঢাকা শহরের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ছাত্রলীগের সভাগুলোতে যোগদান করতামl কাদের ভাই হুন্ডা চালাতে পারতেন নাl তিনি আমাদের হুন্ডার পেছনে বসে বেশ কিছু সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেনl ইতিমধ্যে কাদের ভাই সিটি ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মীদের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেনl এভাবেই নোয়াখালীর ছেলে ওবায়দুল কাদের ভাই ধীরে ধীরে ঢাকায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনl

৭৫ জানুয়ারীতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাকশাল প্রতিষ্ঠা হলে নুতন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা নূতনভাবে শুরু হয়l ওবায়দুল কাদের ভাই এইসময় ছিলেন সক্রিয়l পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলে যারা সেদিন ঢাকায় গোপনে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালিয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও সক্রিয় ছিলেন ওবায়দুল কাদের ভাইl বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গোপনে বিভিন্ন স্থানে সভা করে খন্দকার মোস্তাকের ডাকা প্রথম সংসদ অধিবেশনে যোগদান না করার হুমকি চিঠি, ৪ নভেম্বরের মৌন মিছিল সহ সকল কাজে জড়িত ছিলেন কাদের ভাইl তিনি কখনো কোন সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে পিছ পা হননিl ১৯৭৭ সালের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ঢাকার সোবানব্যাগ কলোনীর ছাদের উপরে অনুষ্ঠিত গোপন সভায়ও তার উপস্থিতি ছিলl এই সভায় চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা এস এম ইউসুফ ভাই, রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী ভাই, মমতাজ হোসেন ভাই, মানিকগঞ্জের গোলাম মহিউদ্দিন ভাই, জগন্নাথ হলের দাদা মুকুল বোস, ইসমত কাদির গামা ভাই, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ভাই সহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেনl এইসময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যেও চলছিল দন্ধl এই গোপন সভার বেবস্থা আমি করলেও সেদিন তাদের কারো কাছেই প্রকাশ করিনি আমার বাংলাদেশ তেগ করে চলে যাওয়ার পরিকল্পনাl এভাবেই একদিন সংগ্রামী এসকল ছাত্র নেতাদের ছেড়ে আমি বিদেশ চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলামl আর সেই থেকে সকলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়l

দীর্ঘ ২১ বৎসর পর ৯৬ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে ওবায়দুল কাদের ভাই তার দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন হিসেবে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পদ লাভ করেনl তিনি তার এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন বলে বলা হয়ে থাকেl ২০০৬ ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের আমলে সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছিলl এই সময় কারাগারে বসে তিনি একটি বইও লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়েছেl সেদিন কারাগারে নির্যাতিত হওয়া সত্বেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য না দেওয়া থেকে তিনি কৌশলে বিরত থাকার চেষ্টা করেনl যদিও তখন কিছু কিছু মিথ্যা কথা তার মুখ দিয়ে জোর পূর্বক বাহির করার চেষ্টা করেছে সামরিক বাহিনীl পরবর্তীতে ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে ২০০৮ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় বারের মতো জয়ী হয়ে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নুতন মন্ত্রী পরিষদে তাকে নেওয়া হয়নি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেনl ঠিক তার বেশ কিছুদিন পরে আমি ঢাকায় বেড়াতে যাইl

বন্ধু বিক্রম ত্রিপুরা (বর্তমানে সচিব) ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার রোডে ক্যাফে বেঙ্গল নামের একটি রেস্টুরেন্টে আমাদের কয়েকজনের একত্রিত মিলিত হওয়ার বেবস্থা করেছিলেনl অনেকদিন পর এখানে রবিউল ভাই,ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ভাই, মমতাজ ভাই ও কাদের ভাই সহ কয়েকজনের সাথে দেখা হয়l পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কিছু স্মৃতি স্মরণ করে সেদিন আমাদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছেl এখানে একসাথে বসে সন্ধ্যার খাবার খেয়েছিলামl পরে আমি খাবারের বিল দিতে গেলে কাদের ভাই আমাকে থামিয়ে দিয়ে নিজেই বিল পরিশোধ করেছিলেনl কাদের ভাই সেদিন তার পুরাতন স্টাইলে আমাকে বললেন, ডাবলু তুমি সুইডেনে থাকো, সুইডেনে গেলে আমাকে খাওয়াবে, এখন আমাকে বিল দিতে দেওl কাদের ভাইয়ের সুইডেনে আসা আর হয়নি, আমার তাকে বদলা খাওনোর সুযোগও হয়নিl বন্ধু বিক্রম ত্রিপুরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেনl এটাই ছিল কাদের ভাইয়ের সাথে আমার সামনাসামনি শেষ দেখাl এখানে আমি পরিষ্কারভাবে সকলকেই বলেছি বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেইl সুইডেনে আমি মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়l সবচেয়ে আশ্চর্যের বেপার হলো আমি ঢাকা ছেড়ে আসার পর পরই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাদের ভাইকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেনl সংবাদটি আমার কাছে ছিল অত্যন্ত আনন্দজনকl শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেনl তবে শুরুতেই সরকার গঠনে ওবায়দুল কাদের ভাইকে কেন মন্ত্রিত্বে নেওয়া হয়নি তার কারণ একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই বলতে পারবেনl

২০১৪ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করে সরকার গঠনকালে এবার শুরুতেই ওবায়দুল কাদের ভাইকে যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়l বাংলাদেশে সকলের কাছেই আজ সুপরিচিত মন্ত্রী তিনিl পত্র পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রায়ই দেখা যায় তাকে রাস্তায়, বাসে এখানে সেখানে জনগণের মাঝেl সম্প্রতি তিনি বাসের সাধারণ যাত্রী হয়ে অফিসও করেছেন একদিনl অন্যান্য মন্ত্রীদের বেলায় এধরণের উদহারণ দেখা গেছে বলে আমার জানা নাইl এভাবে মাঝে মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের মতো অন্যান্য মন্ত্রীরা যাতায়াত করলে হয়তো ধীরে ধীরে সকলেই এই পথে আসতে বাধ্য হবেনl প্রয়োজনে বাংলাদেশের মন্ত্রীরা সাধারণ বাসে, বাই সাইকেল কিংবা রিক্সায়ও যাতায়াত করতে পারেনl ইউরোপের মন্ত্রী এমপিরা যদি সাধারণ মানুষের মতো চলতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মতো এতো দরিদ্র দেশে এই বিলাসিতা থাকবে কেন? এমন উদহারণ যদি বাংলাদেশের মন্ত্রী এমপিরা দেখতে পারেন তাহলে দেশের পরিবেশের জন্য হবে সবচেয়ে বেশি উপকারl অন্যদিকে মন্ত্রীর গাড়ির জন্য রাস্তা বন্ধ করে জনগণকে কষ্ট দেওয়ার প্রথাও উঠে যাবেl এখন প্রশ্ন হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাই চড়েছেন একবারl আমি চাইবো তিনি বার বার বাসে যাতায়াত করুনl তখন দেখবো অন্যান্য মন্ত্রীরা কি করেনl আমার দৃঢ় বিশ্বাস কাদের ভাই চাইলেই পারবেনl কারণ তিনি ছাত্র জীবন থেকে আজ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মাঝ থেকেই রাজনীতি করে আসছেনl তিনি নিশ্চই এখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীl তিনিও ছিলেন আমাদের সেদিনের সেই সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সূর্য সৈনিকl

সমালোচকেরা ওবায়দুল কাদের ভাইকে নানা নামে সম্মোধন করে থাকেনl তিনি নাকি মিডিয়াকে সাথে নিয়ে চলাচল করেনl আমি তো বলবো ঠিক তার উল্টো কথাl মিডিয়াই তাদের স্ব স্ব ইন্টারেস্টে নিউজ কাভার করার জন্য তার পেছনে ছুটাছুটি করেl কারণ বর্তমান মন্ত্রী পরিষদে যে কয়জন মন্ত্রী আছেন তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাজে কর্মে তিনি হলেন সবচেয়ে সক্রিয়l তার মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের কখন কি হয়, কি ঘটে যায় এনিয়ে তারা সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকেনl ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কাজে কর্মে অবহেলা ও গরমিলের কারণে অনেককে তাদের চাকুরী থেকে তিনি সাসপেন্ড করেছেন তিনিl মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের এধরণের কার্যকলাপে তার পক্ষে ও বিপক্ষে রয়েছে আলোচনা সমালোচনাl কিন্তু এখানে ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের দোষ কোথায়? তিনি কি দুর্নীতিতে জড়িত? তিনি কি ক্ষমতার অপবেবহার করেছেন? কিংবা অন্য কিছু অন্যায় করেছেন যা জনগণ ও রাষ্ট্রের বিপক্ষে? যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে কেন আসবে তার বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন সমালোচনা?

সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সৈয়দ আশরাফ ভাইয়ের পরিবর্তে ওবায়দুল কাদের ভাইকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছেl আমি যতটুকু জানি ও শুনেছি বঙ্গবন্ধু কন্যা আশরাফ ভাই ও কাদের ভাইয়ের সাথে আলোচনা করেই এধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেনl কারণ আশরাফ ভাইয়ের বিকল্প তিনিই একমাত্র বেক্তি যে এই পদে আসার সব ধরণের যোগ্যতা রাখেনl সৈয়দ আশরাফ ভাই বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে যেমন বিশ্বস্থ ও কাছের মানুষ বলে পরিচিত ওবায়দুল কাদের ভাইও ঠিক তেমনি বিশ্বস্থ ও পরীক্ষিতl আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী পরিষদে যে কয়েকজন জনপ্রিয় মন্ত্রী রয়েছেন তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ভাই হলেন একজনl অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হিসেবে কাদের ভাইয়ের রয়েছে সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বিরাট অভিজ্ঞতাl এসকল দিক থেকে বিবেচনা করলে বলতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ তার জন্যই এতদিন অপেক্ষায় ছিলl বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত সঠিক ও সময় উপযোগীl দলের সাংগঠনিক তৎপরতার কথা চিন্তা করেই তিনি কাউন্সিল অধিবেশনে এধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেনl

২০১৯ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার উপর এখন এক বিরাট দায়িত্বl এই দায়িত্ব যেভাবেই হউক তাকে সফল করে তুলতেই হবেl যে আস্থা রেখে কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছেন তার ফলাফল ইতিবাচক না হলে চলার পথেই তাকে হয়তো সরে দাঁড়াতেও হতে পারেl সুতরাং তিনি এখন এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীনl এই পরীক্ষার পাশ ফেল এখন তাঁর নিজের হাতেইl পর্যবেক্ষক মহলের মতে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিডিয়ার সাথে কথা বলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনl অন্যদিকে ক্ষমতার অপবেবহার করে যারা দুর্নীতির মাধ্যমে দলকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে তাদের বেপারে দ্রুত একশনে নামাl বিরোধী দলের দুর্বলতার সুযোগে এখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীরা গ্রামে গঞ্জে শহরে হয়ে উঠেছেন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারীl এদের অনেকের কারণে সরকারের ভালো দিকটা ঢাকা পরে যাচ্ছে বলেই পর্যবেক্ষকমহল মনে করেনl গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই নিশ্চই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করিl পারবেন কি সাবেক ছাত্র নেতা ও আজকের আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার কথায় কাজে একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে?

লেখক
ইলেক্টেড কাউন্টি কাউন্সিলার স্টকহোল্ম কাউন্টি কাউন্সিল
ইলেক্টেড প্রেসিডেন্ট সুইডিশ লেফট পার্টি স্টকহোল্ম হেসেলবি ভেলেংবি ব্রাঞ্চ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।