প্রসঙ্গ ক্রিকেট: আসেন সত্য কথা স্বীকার করি!!

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কুকের হাতে বোলার আছে ছয় জন। এই ছয় জনই সত্যিকার অর্থেই বোলিং করতে পারে। তাদের কারো বোলিং কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন নাই। এবার আসেন বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন মুশফিকের হাতে কয়জন আছে সেই হিসাব করি। বাংলাদেশের বোলিং যারা দেখেছেন তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করবেন, মুশফিকের হাতে বোলার আছে মাত্র তিন জন। মেহেদী, সাকিব, তাইজুল। হোম এবং রাব্বি যে দুইজন আছেন, তারা আর যাই হোক আন্তর্জাতিক মানের বোলার না। তাদের উপর মাঠে দলের ক্যাপ্টেন এবং সিনিয়রদের আস্থা এতটাই বেশি যে তাদেরকে বোলিং এ আনার দুঃসাহস দেখানো হচ্ছিলো না!

পরবর্তীতে টীম ম্যানেজম্যান্টের বার্তা পেয়েই হোক অথবা নিজস্ব সিদ্ধান্তই হোক, মুশফিক সেই দুঃসাহস দেখালেন। ফলাফল সবাই দেখলাম। অর্থাৎ বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে নেমেছে তিন জন বোলার নিয়ে। দুইজন খেলোয়াড় এই দলে থেকেও আসলে নেই। ফুটবলে যদি কোন টীমের দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ড পায়, তাহলে সেই টীমের অবস্থা কেমন হয়? একটু চিন্তা করেন। কি টেস্ট খেলতে নামছি আমরা। তিন বোলার নিয়েই ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস সামলাতে হবে, মনে রাখবেন।

মুশফিকের ক্যাপ্টেন্সি রীতিমত লিজেন্ডারি লেভেলে চলে যাচ্ছে। খুব সম্ভবত সে নিজেও জানে না কখন কোন সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছে! আদিল রশিদ এবং ওকস ভালো খেলেছে। কিন্তু তাদেরকে ভালো খেলার সুযোগ দিয়েছে মুশফিক। যেখানে আমাদের লীড নেবার কথা, সেখানে উলটো ইংল্যান্ড লীড নিয়ে বসে আছে। রূঢ় হলেও সত্য, এখনকার টেস্ট প্লেয়িং টীম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে ক্যাপ্টেন্সি আমাদের। এরকম ওর্থলেস ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে নিউজিল্যান্ডে গেলে লুঙ্গি কিন্তু বাতাসে উড়ে যেতে পারে।

রিয়াদ আমাদের ঐতিহ্য রক্ষা করেছেন। যেহেতু দিনের শেষ বল, সেহেতু নিশ্চই ছয় মারার ঐশ্বরিক আদেশ তিনি পেয়েছিলেন। কাজেই তিনি অবধারিত গন্তব্যের পথেই হেঁটেছেন। রিয়াদের আউট শুধু নিজের ইনিংসটাকেই নষ্ট করে নাই। বরং আগামীকাল সকালে একজন নতুন ব্যাটসম্যানকে ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি করাতে যাচ্ছে। সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে গত তিন ইনিংসের মত আবারো যদি একটা ধ্বস আসে? গতবার সাকিবকে নিয়ে আহা উহু করার পর এবার রিয়াদকে নিয়ে করবো? একটুর জন্য হলো না, অনেক শিখেছি সেই ক্লান্তিকর বাক্যগুলোই আউড়ে যাবো?

পিচ অদ্ভুত আচরণ করতেছে। এখন আবার মনে হচ্ছে ব্যাটিং আগের চেয়ে সহজ হয়ে যাচ্ছে! সত্যিই যদি এটা হয় তাহলে নূন্যতম তিনশোর টার্গেট না দিলে কাজ হবে বলে মনে হয় না। যাই হোক, দিনশেষে মূল অভিনন্দন বাংলাদেশের ক্রিকেটের কর্তা ব্যক্তিদের। তারা যেমন ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটকে পিকনিকে রূপান্তর করতে পারেন, টেস্ট ক্রিকেট বাদ দিয়ে এক বছর ধরে টি টুয়েন্টি খেলে যেতে পারেন তেমনি তারা নয় জনের টেস্ট টীম নামানোর দুঃসাহসও দেখাতে পারেন। টেস্ট যেই টীমই জিতুক না কে, আসল বিজয়ী এই মহামানবেরা। আসেন সত্য কথা স্বীকার করি। (ফেইসবুক থেকে নেয়া)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।